E-Paper

আলাপ

নিমগ্ন সামান্য ঘাবড়ে গেল। সে একা মানুষ, সাতে নেই-পাঁচে নেই, তার উপরে এ কমপ্লেক্সে একেবারে নতুন।

অঙ্কন মিত্র

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:৩২
ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।

ছবি: প্রসেনজিৎ নাথ।

এইটা আমার ওয়টস্যাপ নম্বর। সেভ করে নিন।”

“আচ্ছা।”

এখন

ডিনার শেষ করে বেসিনে সবে মুখটা নামিয়েছে, এমন অসময়ে ডোরবেলটা বাজল। নিমগ্ন বাধ্য হয়েই দ্রুত মুখ ধুয়ে আওয়াজ তুলল, “কে?”

টিভির শব্দ ছাপিয়ে বাইরে থেকে একটা উদ্বিগ্ন গলা ভেসে এল, “প্লিজ়, দরজাটা একটু খুলুন না…”

পরের দিন রাত বারোটা দশ

“ফেসবুকেও তো রয়েছেন দেখছি। কী গম্ভীর আর বিচ্ছিরি ছবি দিয়েছেন একটা… কেন, ভাল ছবি কেউ তুলে দেয় না?”

“আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব একটা কমফর্টেবল নই…”

“আচ্ছা, ওই যে অগস্ট মাসের সাত তারিখে একটা ছবি পোস্ট করেছেন দেখলাম… বৌদিকে কী সুন্দর দেখতে ছিল! কী হয়েছিল?”

“লিম্ফ-নোড ক্যান্সার। ওই দিন আমাদের অ্যানিভার্সারি ছিল, তাই…”

এখন

নিমগ্ন সামান্য ঘাবড়ে গেল। সে একা মানুষ, সাতে নেই-পাঁচে নেই, তার উপরে এ কমপ্লেক্সে একেবারে নতুন।

ছেলেই এক রকম বাধ্য করল, পৈতৃক বাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে এখানে চলে আসতে। কমপ্লেক্সে পাঁচ জনের মাঝখানে নিরাপত্তা বেশি; ফোন টিপলেই প্লাম্বার থেকে অ্যাটেনডেন্ট, অ্যাম্বুল্যান্স থেকে দোকান-বাজার, ওষুধপত্র সবই ঘরের চৌকাঠে চলে আসে। চব্বিশ ঘণ্টা সিকিয়োরিটি। প্রতি ফ্লোরে সিঁড়ির মুখে সিসিটিভি। ফলে বেশ পাকাপোক্ত ব্যবস্থাই।

ফের দরজায় টোকা, “শুনছেন...”

নিমগ্ন হাত মুছতে-মুছতে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। এঁটো থালা-বাটিগুলো টেবিলেই পড়ে রইল।

পরের দিন রাত বারোটা পঁচিশ

“লিখতে-লিখতে আঙুল ব্যথা করছে! লিখে-লিখে গল্প করা যায় নাকি! একটা ফোন করি?”

“বেশ, আমি করছি।”

“এই! আপনাকে ডিস্টার্ব করছি না তো?”

“ডিস্টার্বড হতে মন্দ লাগছে না। কত যুগ মন খুলে আড্ডা দিইনি…”

“আমিও তাই! হাঁটুর ব্যথায় নড়তে পারি না। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়াও এক রকম উঠেই গেছে।”

এখন

দরজার চৌকাঠে একটি বছর কুড়ি-বাইশের শ্যামলা মেয়ে। মুখময় টেনশন ও ঘাম। ভুরু দুটো জোড়া। ওড়না দিয়ে ঠোঁট মুছল, “মাসি কেমন একটা করছে, ডাক্তারবাবু। আপনি প্লিজ় এক বার আসুন…”

নিমগ্ন কিছু একটা বলতে গিয়ে ঠোঁট ফাঁক করল বটে, কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি ওর হাত ধরে টান দিয়েছে, “প্লিজ়, ডাক্তারবাবু!”

নিমগ্ন এক বার পিছন ফিরে নিজের ঘরের দিকে তাকাল। টিভিটা আপনমনে চলছে। ডাইনিং টেবিলে ওষুধের বাক্সটা আধখোলা পড়ে রইল। খেয়ে উঠেই খানকতক ওষুধ গিলতে হয়; ছেলে-বৌমা দু’জনেরই কড়া নির্দেশ আছে! কিন্তু…

পরবর্তী দিন রাত সাড়ে বারোটা

“তা ছেলে-বৌমা কি আর মোটেই দেশে ফিরবে না? তা হলে আপনি নাতির মুখ দেখবেন কী করে?”

“ওরা ওখানেই সেটলড। পাঁচ বছরের বেশি হয়ে গেল। আপুর প্লেসমেন্ট কনফার্মড হয়ে গেছে, বৌমারও পোস্ট-ডক্টরেটের কাজ শেষের পথে।”

“আপু মানে, আপ্লুত, তাই তো? খুব সুন্দর নাম। কে রেখেছিলেন? আপনি, না বৌদি?”

“ও-ই রেখেছিল। ও সাহিত্যের ছাত্রী, তা ছাড়া ছেলে আর মায়ের বন্ডিংটা খুব স্ট্রং ছিল। তাই তো বন্দনার চলে যাওয়ার পর-পরই আপু মায়ের স্মৃতি ভুলতে এক রকম জোর করেই বিদেশে পালাল…”

“আপনি গেলেন না?”

“নাহ্, আমার আর বুড়ো বয়সে ছিন্নমূল হতে ভাল লাগল না।”

এখন

লম্বা করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ি। মেয়েটি দ্রুত উঠছে উত্তেজনায়। পিছনে নিমগ্ন। একটু ধীরে।

আটটা সিঁড়ি টপকাতেই সামনের লবির বাঁ দিকে ব্রাউন কোলাপসিবল গেটের পিছনে ক্রিম রঙের দরজা। উপরে নেমপ্লেট, ‘সেনগুপ্ত’।

কোলাপসিবল দরজাটা ঝনঝন করে খুলল। তার পর কাঠের পাল্লাটা। মেয়েটি পাপোশের পাশে সস্তার চটিটা তাড়াতাড়ি খুলে পিছনে ঘাড় ঘোরাল, “আসুন…”

পরের দিন রাত বারোটা চল্লিশ

“নাতির কথা তো কিছু বললেন না?”

“নাতি-নাতনি হয়নি। ওরা এখনও ফ্যামিলি প্ল্যানিং করেনি।”

“ওদের বুঝি ভালবেসে বিয়ে?”

“এখনকার জেনারেশন; সেটা আর আলাদা করে বলে দিতে হবে?”

“জানেন, আমাদেরও কিন্তু লাভ-ম্যারেজ ছিল। একদম বাড়ি থেকে পালিয়ে! বাবা মারা যাওয়ার আগে অবশ্য মেনে নিয়েছিল…”

এখন

নিমগ্ন চার দিকে চোখ বোলাল। ডাইনিংয়ে দেওয়ালের ডান দিক জুড়ে প্রায় তেত্রিশ কোটি দেবতার ভিড়। তাঁদের ঘিরে কয়েকটা এলইডি টুনি ঝিকিমিকি করছে। মেয়েটি পাশের ঘরের পর্দা তুলে বলল, “মাসি, ডাক্তারবাবুকে ডেকে এনেছি।”

নিমগ্ন দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেল নাইটল্যাম্পের আলোয় আঁধারি হয়ে থাকা অচেনা বেডরুমটার দিকে।

পরের দিন রাত পৌনে একটা

“তা আপনার ছেলের জন্য মন কেমন করে না? বৌমা শ্বশুরমশাইয়ের খোঁজখবর করে?”

“করে। আপনার ছেলেপুলে...”

“না, নেই। মানে, হয়নি আর কী। ও এক বার বলেছিল, অ্যাডপ্ট করবে। আমি রাজি হইনি।”

“আই সি… তার মানে, এখন আপনি এক্কেবারে একা!”

“কেন! শিউলি রয়েছে যে। ও তো আমার মেয়ের মতোই! জানেন, ওর কপাল পোড়া। তাই বর ওকে খেদিয়ে দিয়েছে। তার পর খুঁজে-খুঁজে আমার কাছে এসে পড়েছে। একটা সময় আমি ওদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের দিদিমণি ছিলাম তো…”

এখন

বেডরুমটায় একটা নিষ্প্রভ ওয়ার্ম-লাইট জ্বলছে। খাটের উপর শুয়ে থাকা মানুষটার বুকটা যেন একটু বেশি জোরেই ওঠানামা করছে।

নিমগ্ন প্রশ্ন করে, “কী কষ্ট হচ্ছে?”

সরাসরি উত্তর এল না, “আলো জ্বালাতে বলবেন না, প্লিজ়। চোখে আলো পড়লে মাথার যন্ত্রণাটা বেড়ে যাচ্ছে… শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ডাক্তারবাবু! বুকটা যেন কেমন একটা...”

পরের দিন রাত একটা

“শিউলি আমাকে ভীষণ ভালবাসে। সম্মানও করে যথেষ্ট। সেই কোন কালে পড়িয়েছি ওদের… তার পর ট্রান্সফার নিয়ে চলে আসি। কাছাকাছি না এলে ওঁর খুব অসুবিধে হচ্ছিল। ওঁর তো আর আমার মতো দশটা-পাঁচটার বাঁধা কাজ ছিল না…”

“সেনগুপ্তবাবু কী করতেন?”

“ও রেলে ছিল। বাবার চাকরিটাই পেয়েছিল ডায়েড-ইন-হারনেসে।”

“বাইরের ঘরে অনেকগুলো বেড়ানোর ছবি দেখছিলাম...”

“খুব বেড়াতে ভালবাসত তো… আর খেতেও। খাওয়ায় রেস্ট্রিকশন ছিল না বলেই তো অকালে হার্টটা— সেবারে অরুণাচলে যাওয়ার জন্য ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে সব তৈরি। হঠাৎ করেই… দশ মিনিটও হয়নি, অ্যাম্বুল্যান্সে তুলতে-তুলতেই…”

এখন

দেওয়ালের এক দিকে অনেকগুলো ছবি। ইতস্তত বিন্যস্ত। এগুলো ঠাকুরদেবতার নয়; বেড়ানোর স্মৃতি। সামান্য আবছা, তবে বোঝা যায়।

কথা ছিল রিটায়ারমেন্টের ঠিক পরেই বন্দনাকে নিয়ে একটা ফরেন ট্যুর করা হবে। আপু যেতে পারবে না। কারণ, ওর তখন জোর কদমে নিট-এর প্রিপারেশন চলছে। কিন্তু নিয়তির এমনই পরিহাস যে…

নিমগ্ন একটুক্ষণ অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল। দেওয়ালে একটা টিকটিকির নড়াচড়ায় ওর সংবিৎ ফিরে এল।

মেয়েটি এখনও দরজার চৌকাঠে অন্ধকারে মিশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

নিমগ্ন ওকেই জিজ্ঞেস করল, “ম্যাডাম কী খেয়েছেন রাতে?”

মেয়েটি ঘাড় নাড়ল, “মাসি রাতে কিছু খেতে পারেনি। বিকেলে একটু সিন্নি এনেছিলাম, সেটা খেয়েছিল, তার পর সাড়ে সাতটার সময় শিঙাড়া আর চা…”

খাটের উপর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠ মাঝপথে বলে উঠল, “আমি কিন্তু দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চা-ই বরাবর খাই… ওরে বাবা, কী যে একটা কষ্ট হচ্ছে গলার কাছটায়…”

নিমগ্ন চিন্তিত ভাবে মেঝের দিকে তাকাল। তার পর মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “গলায় আঙুল পুরে দিয়ে বমি করতে পারেন?”

পরের দিন রাত একটা সতেরো

“ছাড়ুন। এ-সব কথা যত মনে করবেন, তত মন ভারাক্রান্ত হবে। এ শহরে আমাদের মতো এমন একা-একা কপালফাটা বুড়োবুড়ি অনেক থাকে। গুনে শেষ করা যাবে না।”

“আপনার তো তবু আপু আছে…”

“সে তো মুঠোর বাইরে। ভার্চুয়ালি বাপকে শাসন করে!”

“তাও তো করে…”

“দুঃখ করবেন না। আমি তো রয়েছি পাশে, নাকি? চেনাশোনা এক বার যখন হয়েই গেল তখন…”

“তা হলে এ বার ওই ‘আপনি-আপনি’ করাটা বাদ দিন! আমি আপনার থেকে বয়সে ঢের ছোট!”

এখন

তড়াক করে বিছানায় উঠে বসলেন রোগিণী, “অ্যাঁ!”

মেয়েটি ঘরের মধ্যে দু’পা ঢুকে এসেছে, “ডাক্তারবাবু, মাসিকে ওষুধ কিছু দেবেন না? লিখে দিলে আমি দৌড়ে গিয়ে নিয়ে আসব। হাই রোডে একটা মেডিসিনের দোকান সারা রাত্তির খোলা থাকে…”

নিমগ্ন হাসল, “তোমাদের মনমতো ডাক্তারি করবার জন্য কী এ ভাবে রাতবিরেতে আমাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এলে?”

অসমবয়সি দুই নারীই এ বার একটু থতমত খেয়ে গেল।

রোগিণী মৃদুস্বরে বললেন, “ও বলছিল, সিকিয়োরিটিকে ফোন করবে। তা হলে ওরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। আমিই ওকে মানা করলাম। মনে হল, এক বার ঘুমিয়ে পড়লে হয় তো অস্বস্তিটা কমে যেত…”

নিমগ্ন মেয়েটির দিকে আবার ঘুরল, “তুমি এক গ্লাস গরম জল নিয়ে এসো তো।”

পরের দিন রাত একটা ঊনত্রিশ

“আশা করি, ‘তুমি’ সম্বোধনটা দু’তরফেই হবে?”

“ইস! লোকে শুনলে অসভ্য ভাববে না!”

“ফোনের মধ্যে কে শুনবে? কেউ আড়ি পাতছে নাকি?”

“এ মা, তাই তো! আচ্ছা, ঠিক আছে, চেষ্টা করব…”

এখন

মেয়েটি মাইক্রোওয়েভে জল গরম করে এনে কফিমাগটা তাড়াতাড়ি নিমগ্নর সামনে বাড়িয়ে ধরল।

নিমগ্ন মাগটাকে রোগিণীর দিকে ইশারায় এগিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়ে বলল, “নিন, এই গরম জলটা ঢকঢক করে এক নিঃশ্বাসে খেয়ে ফেলুন। তার পর…”

রোগিণী হাউমাউ করে উঠলেন, “কিন্তু আমার এখনই যে গা-টা ভীষণ গুলিয়ে উঠছে!”

নিমগ্নর গলায় শাসন, “সেই কারণেই তো গরম জলটা খেয়ে আপনি বেসিনে যাবেন।”

পরের দিন রাত একটা চল্লিশ

“এই, তুমি ঘুমোতে যাবে না?”

“আমার এমনই ঘুম কম হয়। তা ছাড়া আর ঘণ্টা তিনেক পরেই তো মর্নিং ওয়াকের সময় হয়ে যাবে…”

“ইস! তুমি রোজ মর্নিং ওয়াক করো, না? আমারও খুব ইচ্ছে করে, জানো! কিন্তু এই হাঁটুর জন্য ঠিক করে হাঁটতেই পারি না…”

“কাল ভাবছি আর মর্নিং ওয়াকে যাব না। তার বদলে ভোর-ভোর একটা ক্যাব ডেকে বেরিয়ে পড়ব। তুমি যাবে কি আমার সঙ্গে?”

“কোথায়?”

এখন

মেয়েটি পিছন থেকে রোগিণীর কাঁধটাকে ধরে রয়েছে। আর রোগিণী ঝুঁকে পড়েছেন বেসিনের উপর। তীব্র শব্দ করে বমি করছেন। এক বার, দু’বার, আবার…

নিমগ্ন উঠে এসেছে দরজার কাছে। ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সামনে। কাজটা ঠিক হল কি না, এখনও বুঝতে পারছে না।

বন্দনারও গ্যাস-অম্বলের ধাত ছিল। তখন মাঝেমধ্যে ওষুধ-টষুধ না খাইয়ে এই টোটকাতেই বেশকাজ হত।

আজ অনেক দিন পর আবার...

নিমগ্নর ঘোর ভেঙে রোগিণী ঘুরে তাকালেন ওর দিকে। চুলগুলো পিঠের উপর খোলা, সদ্য জলের ঝাপটা দেওয়া মুখে যন্ত্রণামুক্তি ও কৃতজ্ঞতার যৌথ হাসি, “থ্যাঙ্ক ইউ, ডাক্তারবাবু। আপনি আমার যা উপকার করলেন আজ…”

হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করে নমস্কার করলেন রোগিণী, “আমার নাম, দীপা, দীপান্বিতা সেনগুপ্ত। এত রাত্তিরে এ ভাবে আপনাকে বিরক্ত করবার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আপনার নম্বরটা যদি একটু দেন, তা হলে ফিজ়টা অনলাইনে…”

নিমগ্ন মৃদু হাসল, “আমি ডাক্তার নই, আমার ছেলে ডাক্তার। সে বিদেশে থাকে। এই ফ্ল্যাটটা সে কিনে ফেলে রেখেছিল, এখন আমাকে এখানে এনে রেখেছে।”

মুখোমুখি দু’জন নারীই আবার নিশ্চল ও হতবাক।

নিমগ্ন তাদের উপেক্ষা করে সামনের টেবিলে রাখা প্যাডের পাতায় খসখস করে নিজের মোবাইল নম্বরটা লিখতে-লিখতে বলল, “এর পর থেকে সন্ধেবেলায় পায়েস-সিন্নি সাঁটিয়ে তার উপরে আবার চা, শিঙাড়া খাবেন না। এই সব মিলিয়েই আপনার খুব বেশি রকম অ্যাসিডিটি হয়ে গিয়েছিল।”

দীপান্বিতার ফ্ল্যাট থেকে বেরোতে গিয়েও ঘুরে দাঁড়াল নিমগ্ন, “স্যরি, ডাক্তার না হয়েও আপনার উপর এ ভাবে হাতুড়ে ডাক্তারি ফলানোটা বোধ হয় আমার উচিত হল না। আমাকে মাফ করবেন।”

দীপান্বিতা মিষ্টি করে হাসল, “মাফ আপনাকে নিশ্চয়ই করতে পারি, যদি প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে আপনি আমার ফোনটা ধরেন!”

নিমগ্ন বুঝতেই পারল না, কখন যেন ওর পাণ্ডুর মুখটা বুড়ো বয়সেও ব্লাশ করতে শুরু করেছে!

পরের দিন রাত দুটো

“কোথায় যাব আমরা?”

“তেমন তো কিছু ঠিক করিনি! তুমিই বলো না কোথায় যেতে চাও?”

“গঙ্গার ঘাটে!”

“নামতে পারবে?”

“তুমি ধরবে আমাকে!”

“বেশ। তা হলে ভোর-ভোর রেডি হয়ে নিয়ো…”


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Short Story Short story

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy