পূর্বানুবৃত্তি: দীপকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে যেতে যেতে পল্লবীর সঙ্গে কাটানো দাম্পত্যের নানা আনন্দময় মুহূর্ত মনে পড়ে দীপঙ্করের। দীপেরও মনে পড়ে ওর মায়ের কথা। পুরুলিয়া থেকে পানসদার নেতৃত্বে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বাসে উঠে রওনা হয় রাঁচির উদ্দেশ্যে। অন্য দিকে, সংশয় আর অনিশ্চয়তায় ভোগে পল্লবী। পুরুষদের শারীরিক চাহিদার ক্রীতদাসে রূপান্তরিত করে তার নিজের উন্নতির ধাপগুলো কি উঠতে পারবে সে! দীপঙ্কর কাছে নেই খবর পেয়ে পল্লবীকে ফোন করে ডেকে পাঠায় দেবল। ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জা দেখিয়ে মুগ্ধ করে, নকল কাগজপত্রে পল্লবীকে দিয়ে সইও করায়। এর পর আনন্দে আর নেশায় বেসামাল পল্লবীকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খুন করে দেবল। দেবলের স্ত্রী সুবর্ণা থানায় ফোন করে সব জানিয়ে ফাঁসায় দেবলকে। নিরুপায় দেবল থানায় আত্মসমর্পণ করে। থানা থেকে পুলিশের ফোনে স্ত্রীর অপমৃত্যুর খবর পায় দীপঙ্কর।
দীপ উঠে পড়েছে ততক্ষণে।
“বাবা, কী হয়েছে?”
“আমাদের এখনই কলকাতা যেতে হবে।”
দীপ বলল, “কেন?”
“মায়ের শরীর খারাপ হয়েছে।”
“বাবা, মা বেঁচে আছে তো?”
দীপঙ্কর বললেন, “জানি না।”
হোটেলের রিসেপশনে গিয়ে খবর নিল, কোনও রিজ়ার্ভ সিট পাওয়া যাবে কি না।
“আজকের? অসম্ভব।”
তার পর দেখে নিয়ে বললেন, “আপনি খুব লাকি, দুটোই ছিল।”
একটু পরে দীপ ফের জিজ্ঞেস করল, “বাবা, মা কি আর বেঁচে নেই?”
“যা-ই হোক, আমি তো রইলাম বাবা।”
যাত্রা শুরু হবে। জনমেজয় ভাবলেন, ঘোষসাহেব আর ছেলেটা কোথায় গেল! দুপুরেই তো কথা হল।
যাত্রা এগিয়ে গেছে অনেকটাই। কোলিয়ারি ভেঙে এসেছেন দর্শকরা। ভিড় বাড়ছে। এখানে যত রাত হবে, ভিড় বাড়বে।
২৬
স্মৃতিরও সম্মার্জনী হয়। তেমনই সম্মার্জনীতে উঠে এল উৎপল দত্তের যাত্রাপালায় আসার কথা, সে যেন এক ঝড়। জ্যোৎস্নাদেবী স্মৃতিতে ঝাঁকি মেরে একটি নাম পেলেন, গৌতম সাধুখাঁ। লোকনাট্য দলে উৎপল দত্ত রয়েছেন দেখতে দেখতে ছ’বছর হয়ে গেল। সে বার প্রথম তিনি এবং দীপঙ্করের বাবা লোকনাট্যে এলেন। পালার নাম মনে পড়ছে না। ইসাবেলার চরিত্র তিনি পাননি, পেয়েছিলেন আর একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র। ব্রিটিশ মেজর জেনারেলের চরিত্র করেছিলেন উনি। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেছিলেন গৌতম। মঞ্চে সে যখন অভিনয় করত ক্যাপ্টেন বার্নসের ভূমিকায়, বলত, “ব্রিটেন সারা পৃথিবীকে শাসন করবে। লুণ্ঠন করবে। লুণ্ঠন আমাদের জন্মগত অধিকার...” দর্শকরা ভুলে যেতেন বার্নস সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতিভূ। হাততালিতে মুখর হয়ে উঠত যাত্রার মঞ্চ। তাঁর ভার্যা ইসাবেলা যখন গুপ্তচর বার্নসের বিরুদ্ধে লাম্পট্যের অভিযোগ আনতেন, তিনি বলতেন, “ওদের কাউকে আমি মন দিইনি, আমার দেশের কারণে শরীর দিয়ে থাকি।”
পালাটার নাম মনে পড়ল না, শুধু চরিত্র আর সংলাপ আজও জীবন্ত রয়েছে।
এর পর হল ‘মাও সে তুঙ’। মালিক একেবারে খুশি নন। এ রকম রাজনৈতিক পালায় ঝুঁকি বেশি। যদিও সরকারের বদল হয়েছে। যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। চিয়াং কাই শেক করতেন গৌতম। শান্তিগোপালও ম্লান হয়ে যাচ্ছিলেন গৌতমের অভিনয়ে। পালার শেষে অসংখ্য দর্শক গৌতমকে দেখতে চাইতেন।
তখনও তাঁরা স্টার নন। বয়সও দু’জনের অল্প। কম বেতনের অভিনেতা। এমনও হয়েছে, শুধুমাত্র স্টেজে মার্চ করার জন্য নেওয়া হয়েছে ওঁকে। উনি ছন্দ ভুল করে ফেলেছেন। উৎপলদা ডেকে বলেছিলেন, “অপেক্ষা করতে শেখো। এক দিন তোমারও দিন আসবে।”
তিনি সেই গৌতম সাধুখাঁর প্রতি খানিকটা অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। ও রকম বোহেমিয়ান জীবন! নকশাল হিসেবে জেলে ছিলেন, মুক্তি পেয়েও এক রকমের অন্তরিন ছিলেন। তার পর যাত্রা তাঁর মুক্তির পথ নির্মাণ করে জনতার কাছে। ওঁর কারণেই জ্যোৎস্নাকে ভালবাসতেন বলে দীপঙ্করের বাবা লোকনাট্য ছাড়লেন।
‘আইড্ল ব্রেন ইজ় ডেভিল’স ওয়ার্কশপ’— কথাটা সব সময় সত্যি নয়। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, জগতের যাবতীয় মহৎ সৃষ্টি অবসরেই হয়েছে। দীপঙ্করের বাবা যখন স্মৃতিশূন্যতা রোগে ভুগছিলেন, তখন তিনি শুরু করলেন নিধুবাবুর জগতে গিয়ে টপ্পা সৃজন করতে। তাঁর গাওয়া কিছু কিছু গান সেকালের টেপ রেকর্ডে রেখেছেন, সে সব এখন আর ভাল নেই।
দীপঙ্করদের পৈতৃক বাড়ি পুব বাংলা, তার পর চন্দননগরে। দীপঙ্কর সেই বাড়িতে হয়তো আর যায় না পুরনো গ্লানির কথা ভেবে। তার পর স্টেশনের ধারে এসে বাড়ি করেছে। ওটাও ছিল স্টেশনের কাছে। ওখানে ওর ছোটপিসি থাকতেন এক সময়। জর্দা-পান খেতেন আর ওঁকে দেখলে বলতেন, “এ বার বিয়েটা ঠিক করেছে খোকা।”
দীপঙ্করের বাবাকে দিদিরা সকলে খোকাবলে ডাকতেন।
চন্দননগরে এক সময় কবিগান আর যাত্রাগানের দলগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। ওঁর মুখ থেকেই শোনা, কোনও এক দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় যাত্রার খুব সমাদর ছিল। সেই থেকেই ওঁরও যাত্রাপালার রোগ ধরেছিল। ফরাসডাঙার যাত্রাদলের বেশ সুখ্যাতি ছিল।
চন্দননগরের শখের দলগুলির মধ্যে ওঁর সঙ্গে বেশি যোগাযোগ ছিল চন্দননগর নাট্য সমাজের। ওঁরা ‘জনা’ অভিনয় করলে দু’জনে এসেছিলেন নাটকের অভিনয়ের উদ্বোধন করতে। আবার ফরাসডাঙায় যাত্রার বাজার প্রসারিত হওয়ায় অনেক অধিকারী এখানে এলেন পুঁজি নিয়ে। যাত্রার পাশাপাশি আধুনিক নাটকের শুরুও এখানে। যাত্রা, নাটক দুটো মাধ্যমেই তখন তাঁরা অভিনয় করছেন। তখন টানাটানি লেগে যেত ওঁদের জুটিকে নিয়ে।
ফোনটা কয়েকবার বেজেছিল। মিসড কলে দেখলেন, দীপঙ্কর। কী হয়েছে! বুকটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠল।
কল ব্যাক করলেন।
“দীপঙ্কর, কী হয়েছে?”
“পল্লবী খুন হয়েছে। পানিহাটির ফ্ল্যাটের খোলা ছাদ থেকে ফেলে ওকে খুন করা হয়েছে। চেনা যাচ্ছে না ওকে।”
“পোস্টমর্টেম হয়েছে!”
“বডি রিলিজ় করে পোস্টমর্টেমে পাঠানো হয়েছে। সোদপুর থানায় অপেক্ষা করছি।”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “আমি আসছি। ভেঙে পোড়ো না। মাথা স্থির রাখো।”
সাধনকে ডাকলেন জ্যোৎস্নাদেবী। ওকে নিয়ে সোদপুর থানায় গেলেন। বডি চলে এসেছে। পুরোটাই ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধতে হয়েছে। জ্যোৎস্নাদেবী থানায় যেতে বড়বাবু উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “ম্যাডাম, আপনি!”
“আমার ছেলের বৌ। খুনি ধরা পড়েছে?”
“নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে। মনে হয় খুনিরও মাথা কাজ করছে না। পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গেছে।
দীপঙ্কর দেখলেন, সুবর্ণা এসেছে। জ্যোৎস্নাদেবী আসতেই সুবর্ণা এগিয়ে এলেন।
বললেন, “ম্যাডাম, কেমন আছেন?”
“ভাল তো নেই।”
“কেউ কেউ ভাল থাকতে জানেন না। নিজেদের পাপের পরিণতি এ রকমটাই হয়ে থাকে।”
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “মানুষের জীবনে ক্ষমাটাই পরম ধর্ম। এটুকু অর্জন করতে পারলে এ সব হয় না।”
সুবর্ণা হাসে, বলে, “কেউ কেউ নিজের কর্মের দ্বারা তার পরিণতি অর্জন করে, ম্যাডাম। অন্যের ক্ষমা করা বা না-করা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
কোনও উত্তর দেন না জ্যোৎস্নাদেবী।
কেঁদে কেঁদে দীপের চোখ দুটো ফুলে উঠেছে।
জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “দীপঙ্কর, মুখাগ্নি তুমিই করবে। যাবতীয় আচার, সংস্কার তুমিই করো। দীপের একটু বিশ্রাম দরকার। আমার কাছে থাকুক ও। আমি শ্মশানে যাব, থাকব।”
সুবর্ণাকে আর দেখা গেল না।
২৭
শরদিন্দুবাবু একাই কালচারাল আকাদেমিতে বসেছিলেন। দরজা খুলেছেন একা একাই। ধবধবে সাদা বিল্ডিং। পেতলের উপর কালো অক্ষর দিয়ে লেখা রয়েছে ‘বিষ্ণুপুর কালচারাল আকাদেমি’। দশটা চেয়ার আর একটা গোল টেবিল। দেওয়ালে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরজু মহারাজ, গায়ক যদুনাথ ভট্টাচার্যের প্রতিকৃতি।
আজ বেশ রোদ উঠেছে। পুজোর আগের রোদ্দুর। পুজোসংখ্যার লেখা শেষ করা গেছে। মহকুমা শাসকের স্বপ্নের বিল্ডিং। এক জন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তিনিও সামান্য লেখেন। মহকুমা শাসকের সঙ্গে আসেন। ওঁর কাছে গেলেই টপ্পা গানের প্রসঙ্গ তোলেন আর এক কালে গুপ্তিপাড়ায় বাড়ি ছিল বলে কোনও এক জন টপ্পা গায়কের কথা বলেন। নাম ছিল নব কার্তিক, নিধুবাবুর আমলের গায়ক। তেমন নাম করতে পারেননি, এখন প্রায় মুছেই গেছেন।
বিষ্ণুপুর মন্দিরনগরী। তাঁদের কয়েক পুরুষ এখানে রয়েছেন। একদা অনেক জমি ছিল তাঁদের। এখন সব বিক্রিবাটা হয়ে গেছে। পথে আসতে আসতে তুষারের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কিউরেটর। প্রত্নতত্ত্বশালাও এই সাহেবের সময় বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। চমৎকার সেজে উঠেছে। সেজে উঠেছে লাল বাঁধ। রাস্তাটা মোরামের, বেশ লাগে।
দেওয়াল-পত্রিকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিভাবরী’। তিনি আকাদেমির সভাপতি আর সঞ্চিতা সম্পাদক। ওর বাড়িতে আকাদেমির সকলের খাওয়াদাওয়া। আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আকাদেমি সম্মানিত করবে। এ বার যাত্রাশিল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাবা হচ্ছে যাত্রাসম্রাজ্ঞী জ্যোৎস্নাদেবীকে বাকিদের সঙ্গে সম্মানিত করা হবে।
একটু ঘুম-ঘুম পাচ্ছে শরদিন্দুবাবুর। ঘুম কাটানোর জন্য বাইরে এলেন। একটা কেয়া ফুলের গাছও আছে। কেয়া রাতের ফুল। এখনও ফুল আসতে সময় লাগবে। আস্তে আস্তে আকাদেমি চত্বর হেঁটে ঘুরে নিলেন। মাটিতে এখনও কাদা ভাব। জুতোটা সামান্য ডুবে যাচ্ছে।
শরদিন্দুবাবুর বয়স আশি পেরিয়েছে। তিনি গ্রামীণ হাটের পাশ দিয়ে বেরিয়ে একটু আসতেই সঞ্চিতার বাড়ি দেখতে পেলেন। খুব সুন্দর বাড়ি, চমৎকার বাগান। কেতকী ফুলের গাছ আছে। সাপ আছে কি না টের পেলেন না শরদিন্দুবাবু।
হরিপ্রসন্নবাবু চলে এসেছেন। নিজেকে সব সময় যুবক ভাবেন। স্থানীয় স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। মাইক পেলে ছাড়তে চান না। দুটো শব্দ ওঁর খুব প্রিয়— শ্রদ্ধা ও নমস্কার। দুটোই জানালেন।
বারান্দায় হালুইকর ইটের উনুনে রান্না করছে। দেখতে না দেখতেই রবিনবাবু এলেন। কাজপাগল মানুষ। কখনও লায়ন্স ক্লাব, কখনও বা যদুভট্ট মঞ্চ, সব সময় সক্রিয় তিনি। এলেন ‘শিল্পচর্চা’ পত্রিকার ফাল্গুনীবাবু। তিনি এক জন শিল্পীও। স্বপনবাবুও চলে এলেন। তিনি চারণকবি বৈদ্যনাথের বড় পুত্র। অনেক লড়াই করে ‘চারণকবি আাকাদেমি’ খুলেছেন। এলেন মিঠু কাইতি। সঞ্চিতা এবং উনি একই স্কুলে রয়েছেন। এলেন নাটকের মানুষ দুর্গাবাবু ও তাঁর ছেলে অনিন্দ্য। এসডিও সাহেবের সিএ, আকাশবাণীর সাংবাদিক জয়ন্তবাবু। সাংবাদিক অভিজিৎ। আরও অনেকে। যাকে বলে চাঁদের হাট।
অনুপমবাবুর বেহালা দিয়ে শুরু হল। এলেন রামশরণ মিউজিক কলেজের অধ্যক্ষ সুজিতবাবু। গানে গানে ভরিয়ে দিলেন। চলতে লাগল সভা। মাঝপথে মহকুমা শাসক মহোদয় এলেন তাঁর দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে। এক জন সেই একটু-একটু লেখেন এমন লেখক। এলেন একদা কাউন্সিলর দিব্যেন্দুবাবু ও ওঁর বোন বাচিক শিল্পী কুহেলিদি।
এই যে সমারোহ, এত আলো-হাসির লহরা, কিন্তু বাড়ি ফিরে গেলে রাতটা মনে হয় অনতিক্রম্য। কত কথা মনে পড়ে! রাঁচির বেঙ্গলি ক্লাব, দুর্গোৎসব এবং অবশ্যই যাত্রার কথা।
পানসদা বললেন, “জনমেজয়, তোর অভিনয় আরও একটু ভালও হওয়া উচিত ছিল। কর্ণ অনেকটা টেনে দিয়েছে। পাঞ্চালী ভাল হয়েছে, কিন্তু ম্যাকবেথ করতে হলে এ রকমটা চলবে না।”
তনুশ্রী জিজ্ঞেস করল, “কোন সময়ে করতে চাইছেন ম্যাকবেথ?”
“কালীপুজোর সময় কিংবা ভাইফোঁটায়। গ্রামের অনেক মেয়ে তখন বাপের বাড়িতে আসবে। বেশ একটা জমাটি পরিবেশ থাকবে।”
তনুশ্রী বলল, “আমার হবে না। আমি ওই সময় আন্দামান যাচ্ছি।”
পানসদা বললেন, “উপায়! আমাদের তো ফিমেল আর্টিস্ট আর নেই!”
জনমেজয় বললেন, “হয়ে যাবে। আগে আমাকে একটা ফোন করতে হবে।”
পানসদা বিরক্ত হয়ে বললেন, “কাকে?”
“দীপঙ্করবাবুকে।”
তখন পানসদা বললেন, “সত্যি তো! তাঁকে তো যাত্রার সময় দেখা গেল না। কী হল!”
“ওটা জানার জন্যই ফোন করছি।”
জনমেজয় ফোন করলেন, বললেন, “স্যর, আপনি কোথায়! যাত্রা দেখতে এলেন না?”
দীপঙ্কর বললেন, “খারাপ খবর ছিল আমার। তাই ছেলেকে নিয়ে চলে এসেছি।”
জনমেজয় বললেন, “অফিসে কি কোনও গন্ডগোল হয়েছে?”
“না, আমার স্ত্রী খুন হয়েছে। আমি খবর পেয়ে চলে এসেছিলাম।”
জনমেজয় খুব অবাক হলেন। কিন্তু আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। শুধু বললেন, “সাবধানে থাকবেন, স্যর।”
সঞ্চিতাদির বাড়িতে এলেন অধ্যাপক মুনিকেশ মুখোপাধ্যায়। গায়িকা সোমা, তবলচি সুব্রত। অবশেষে এলেন জয়িতা। অধ্যাপক বললেন, “‘পল্লীসেবা’ নাটকের নাম শুনেছেন?”
সবাই বললেন, “না।”
“চারণকবি মুকুন্দরাম পরিবেশিত নাটক। আমি একটু পড়ব?”
সকলে বললেন, “পড়ুন।”
বলামাত্র পড়তে শুরু করলেন অধ্যাপক, “বাঙালায় আজ ঘোর অমানিশা। রাজ-রাজেশ্বরী এসো মা। আজ সপ্তকোটী ভগ্ন হৃদয়ে তোমার ভৈরবী মূর্তি নিয়ে। সৃষ্টি করো বাঙ্গালায় আজ এক নতুন বীর জাতি, দেও তাদের নতুন প্রাণ, নবোদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত হয়ে করুক তারাপ্রতি গৃহে তোমার শারদীয় উৎসবের মঙ্গলঘট স্থাপনা। বাজুক দামামা, কাড়া, ঘণ্টা, ঢোল, শঙ্খ, করতাল, জয়ডঙ্কা, খোল, নাচুক ধমনী শুনিয়ে সে রোল; সপ্তকোটী কণ্ঠ কলনিনাদে বিশ্বকম্পিত করে বাঙালি করুক তোমার বিজয় বার্তা ঘোষণা...
ক্রমশ
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)