E-Paper

পক্ষিরাজের উড়ান

পক্ষিরাজ নাম থেকে রূপকথার গন্ধ পেতে পারেন অনেকে। ঠিক রূপকথা না হলেও এই উড়ান রূপকথার কম কিছু নয়! এ এক অন্য প্রেমের গপ্পো। এ কাহিনি সম্পর্কের। দিনযাপনের ক্লান্তি থেকে আনন্দ, নতুন ভাবনা, নতুন জায়গা দেখার বিস্ময়, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার— মাত্র দুটো চাকাতেই সম্ভব অসাধ্যসাধন।

স্বর্ণাভ দেব

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৫
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

হফম্যান ও ১৯ এপ্রিল

আজ, ১৯ এপ্রিল, দিনটিও সাইকেলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ অর্থবহ। এই দিনটিকে ‘সাইকেল দিবস’ হিসেবে পালন করেন অনেকে। সৌজন্যে সুইস রসায়নবিদ অ্যালবার্ট হফম্যান। আজ থেকে ৮৩ বছর আগে, ঠিক এই দিনেই এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। ছত্রাক থেকে তৈরি এক যৌগের অতি সামান্য পরিমাণ সেবন করেছিলেন। ঘণ্টাখানেক পর থেকেই শরীরে এক ধীর পরিবর্তন টের পেতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, ল্যাবরেটরির এক সহকর্মীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। তখন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাসেল (সুইৎজ়ারল্যান্ড) শহরে গাড়ি ব্যবহার নিষিদ্ধ। অগত্যা সাইকেলে চেপেই বাড়ি ফেরেন তিনি। পথে হফম্যান দিশাহারা বোধ করতে শুরু করেন। কার্যত চোখে সর্ষেফুল। হফম্যান ভাবতে থাকেন, লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাই-ইথ্যালামাইড (এলএসডি) তাঁকে বেসামাল করে দিয়েছে। শরীরে তীব্র অস্বস্তি। তবে কি বিষাক্ত কিছু প্রবেশ করল?

চিকিৎসক আশ্বস্ত করলেন, ‘ভয় নেই।’

শীঘ্রই তাঁর আতঙ্ক বদলে যেতে থাকল আনন্দে। তৈরি হতে থাকল অদ্ভুত সব দৃশ্যপট। আর তা থেকেই এক আবিষ্কারের সূচনা। হফম্যান প্রমাণ করেছিলেন, এক শক্তিশালী সাইকোঅ্যাকটিভ ড্রাগ অবিশ্বাস্য ভাবে কম মাত্রায় হলেও চেতনার পরিবর্তনে সক্ষম। আর হফম্যানের সেই বিভ্রম সৃষ্টিকারী যাত্রাকে চিহ্নিত করেই ১৯৮৫ সালে আমেরিকার নর্দার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপক টমাস বি রবার্টস ‘বাইসাইকেল দিবস’ উদ্‌যাপনের সূচনা করেন। ৩ জুন দিনটিকেও রাষ্ট্রপুঞ্জ ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’-এর মর্যাদা দিয়েছে বটে, তবে ১৯ এপ্রিলের তাৎপর্য আলাদা।

হফম্যানের মতো ঘটনাক্রম না হলেও দু’চাকার দুনিয়া বহু সাইকেলপ্রেমীর মনে আনে মাদকতা। এ মাদকতা গতি কিংবা দূরদূরান্তে পাড়ি জমানোর। কেউ বা উচ্ছ্বসিত নীল দিগন্তে ডানা ঝাপটানোর সুযোগ পেয়ে। কেউ আবার ক্ষ্যাপার পরশপাথর খুঁজে বেড়ানোর মতোই প্রকৃতির মাঝে খুঁজে ফেরে নতুন দেশ-দুনিয়া। আমিও তাদেরই এক জন।

আমি এক যাযাবর

সত্যি সত্যি যাযাবর হয়তো নই, তবে সকালটুকুর জন্য এই শব্দ ধার করাই যায়। দিনের শুরুতে পক্ষিরাজে চেপে পাড়ি দিই ‘তেপান্তর’-এ। কখনও তা ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরত্বের ময়দান, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা তিলোত্তমার কোনও প্রান্ত, আবার কখনও কিলোমিটারের কাঁটা পেরোয় একশোরও বেশি। কোনও এক নির্জন, জনহীন প্রান্তরে পৌঁছে মেলে পরম প্রশান্তি। সেখানে শহুরে জীবনে যান্ত্রিক শব্দ নেই। আছে শুধু চেনা-অচেনা পাখির ডাক। সবুজ পাতায় সদ্য-ওঠা সূর্যের সোনালি আলো এর মাটির মিষ্টি গন্ধ। মুছে যায় ক্লান্তি। মেলে দিন শুরুর অক্সিজেন। আর এ ভাবেই তৈরি হয় ম্যাজিক। কেউ বলে বাহন, কেউ বলে সাইকেল... আমি বলি পক্ষিরাজ, আমি বলি বন্ধু। দিকশূন্যপুরের উদ্দেশে পাড়ি-জমানো যাত্রাপথে চলে গল্প। মনখারাপের দিনে মেঘপিওনের মতোই আনন্দ দেয় সে। পূরণ করে নানা আবদার। আরও আঁকড়ে ধরি তার দু’হাত। এ ভাবেই বছরভর সতেজ থাকি এই জুটি, আমি ও আমার পক্ষিরাজ।

যে কথার শুরু...

সালটা ২০২২। ইতিমধ্যে কোভিড দেখে ফেলেছে গোটা বিশ্ব। সুরক্ষাবিধি মানতে গিয়ে চার দেওয়ালে বন্দি দুনিয়া। পেশার সূত্রে অবশ্য আমাকে বন্দিদশায় পড়তে না হলেও চলাচল ছিল সীমিত। বাড়তে লাগল ওজন। খারাপ হতে শুরু করল মন। এমন সময়েই অফিসের সূত্রে ফি বছরের ‘হেলথ চেক আপ’। রিপোর্ট বেরোতেই ডাক্তার জানালেন, বড় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু... স্থূলতা। ত্রিশ-পেরোনো যুবার অবিলম্বে ওজন না কমালে ঘনিয়ে আসতে পারে বিপদ, হতে পারে বড় ক্ষতি। অ্যালার্ম বেজে গিয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে... ডাক্তারের সতর্কবাণীতে ভয়ানক দুশ্চিন্তা। কী করি, কী করি— ভাবতে ভাবতেই এক বন্ধুর পরামর্শ, ‘তুই সাইকেলের কথা ভাবতে পারিস। ফিটও থাকবি, সঙ্গে উপরি পাওনা বেড়ানো।’ অনেকেই হয়তো ভাববেন, ওজন কমানোর আরও নানা পদ্ধতি থাকতে এত ভাবনা কিসের? আমি নিজেও ভেবে দেখেছি, দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে এমন কোনও অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কাজেই বেছে নিলাম সাইকেল। কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। প্রতিদিন রাত একটা কিংবা তিনটেয় অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আবার ভোরবেলা বেরোনো কি সম্ভব? বলে রাখা ভাল, আমাদের শহরে যে ভাবে গাড়ির চাপ উত্তরোত্তর বেড়েছে, তাতে গভীর রাত ও ভোরবেলায় তুলনামূলক ভাবে ফাঁকা থাকে রাস্তাঘাট। রাতে সম্ভব নয়, ফলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হলে ভোরে ওঠা ছাড়া গতি নেই। এ দিকে আমিও মরিয়া। কাজেই বালিশ, বিছানা ছেড়ে শুরু হল এক নতুন পথ চলা। ভাঙল ঘুম, শুরু হল ম্যাজিক।

সাইকেল যখন বন্ধু

প্রথমেই যে বন্ধুত্ব হয়নি, তা বলা বাহুল্য। শুরুর দিকে এ ছিল নিছকই রোজকার এক রুটিন। কিন্তু ক্রমে ক্রমে দু’চাকার সান্নিধ্য উপভোগ করতে লাগলাম। অবশ্য তা না-হলে গভীর রাতে অফিস থেকে ফিরে ভোরবেলায় আর কে-ই বা উঠতে পারে, তা-ও নিয়মিত! ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেও অন্য সময়ে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। প্রথম দিকে আমার দৌড় ছিল ৪-৫ কিলোমিটার। পরিধি ক্রমে বাড়তে লাগল। এক দিন মনে হল, দেখি তো আমার অফিসের কাছে যেতে পারি কি না! চাঁদনি চকে প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে পৌছে আমার আনন্দ দেখে কে! রোজ যে পথ গাড়িতে যেতে হয়, সেই পথ এত সহজে সাইকেলে! এ-ও কী সম্ভব! নিজেই নিজেকে লক্ষ্য বেঁধে দিলাম। পরের গন্তব্য আর একটু এগিয়ে ধর্মতলা। এ ভাবেই জড়তা ভেঙে শহরের রাজপথে উঁকি দেওয়া শুরু। সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। আর সেই সূত্রেই কখন যেন সাইকেল হয়ে উঠল পক্ষিরাজ। বিছানার আড়মোড়া ভেঙে এক নতুন দৌড়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল, রাতে অফিস থেকে ফিরে ঘুমটুকু যেন এক এক অভ্যাসমাত্র। আসলে ভাল না বাসলে কোনও কিছুই ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ ভাবেই আমার সঙ্গে আমার সাইকেলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। নাম দিলাম ‘পক্ষিরাজ’। নিত্যদিন ঘণ্টাচারেক ঘুমিয়ে ভোরে সাইকেল নিয়ে বেরোনোর তাগিদ স্রেফ ভালবাসা থেকেই। অন্তত বছর দুয়েক তো এমনটাই ছিল রোজকার রুটিন। যে ভালবাসা ঘুমোতে দেয় না। দুটো হাত যেন নিজের অজানতেই উদ্দীপনা বোধ করে সাইকেলের হাতল দুটো চেপে ধরার জন্য, দুটো পা অধীর হয়ে ওঠে প্যাডলে পা রেখে ওঠানামা করার জন্য। দৈনন্দিন ক্লান্তি মুছিয়ে বীরেন্দ্র সহবাগের ঢঙে শুরু হয় দিনের। প্রতিটা দিন শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়ের। ঘাম ঝরিয়ে যে ক্লান্তি মোছা যায়, আগে অনুভূত হয়নি। সপ্তাহখানেক সাইকেল চালানোর পর আবার পড়লাম শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সেই আশ্চর্য ছোটগল্প, যার নাম ‘সাইকেল’। সে গল্পে, ঘটুর স্বপ্ন ছিল একটা সাইকেল। সাইকেল দেনেওয়ালা শ্বশুর পেলে সে যে-কোনও মেয়ে বিয়ে করতে রাজি। সে ভাবত, “সাইকেলের মতো জিনিস হয় না। ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো করে উঠে পড়লেই হল। তারপর দু-খানা সরু চাকার খেল। এই খেলটাও বড়ই আশ্চর্যের। পড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু পড়ে না।” গল্পটা ফের পড়তে অন্য রকম ভাবে ভাল লাগল। সৌজন্যে, আমার নতুনবন্ধু, আমার পক্ষিরাজ।

দু’চাকার দুনিয়া

এ দুনিয়া বড় অদ্ভুত। পিচ-ঢালা মাখনদৃশ রাস্তা হোক কিংবা ভাঙাচোরা গর্ত, পথ আর সাইকেলের মিশেলে এ জগৎ রঙিন, বর্ণময়। ভোরের রাস্তায় শহরের গণ্ডি পেরোলেই মেলে সবুজ গালিচা। যার বুক চিরে গিয়েছে কংক্রিটের রাস্তা। গাছপালা থেকে ঘাস, শীতের কুয়াশামাখা ভোর… যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। মনে হয়, এ একান্ত আমার দুনিয়া। এখানে শুধু আমি আর পক্ষিরাজ নয়, শিশিরে ভেজা ঘাস, আকাশে পাড়ি দেওয়া প্রকাণ্ড গাছ, পাখিদের কলকাকলি। শীত হোক কিংবা গ্রীষ্ম, এই পরাবাস্তবের দুনিয়া শুধু আমার। সে কারণেই সি এল আর জেমসের অমোঘ উক্তি ধার করতে বলতে ইচ্ছে করে, ‘সে সাইকেলের কী বোঝে, যে শুধু সাইকেলই বোঝে!’

একটি ধানের শীষের উপর…

ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি দেশ-দুনিয়ার নানা জায়গা চষে বেড়ায়। হাওড়ার বালি থেকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে পাড়ি জমানোয় তার জুড়ি মেলা ভার। তবে বাড়ির কাছে এ শহরের উপকণ্ঠে এমন কত জায়গা রয়েছে, তার খোজ রাখে ক’জন! এই তো কয়েক দিন আগেই গিয়েছিলাম ঝালুয়ারবেড়। আমতা লাইনের এই স্টেশনকে হাওড়ার ডুয়ার্স বলেন অনেকে। দু’পাশে গাছের সারি, তার মধ্যিখান চিরে চলে গিয়েছে রেললাইন। ভোরে এই স্টেশনের মায়াবী রূপ যেন সম্মোহিত করে দেয়। আবার শীতকালে কুয়াশার মাঝে বেঁকে যাওয়া রেললাইনের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। তার সঙ্গে সঙ্গত করে পাখিদের নানা সুর। ঠিক যেমনটা শোনা যায়, হুগলির দিয়ারায়। কার্যত জনশূন্য এক এলাকা। যেন কোনও এক অচিনপুরের দেশ। যেখানে ঘাসেরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। সেই ঘাসের উপরে শয্যা বিছিয়েছে শিশির। এ যেন আসলে হরেক পাখিরই দেশ। আমরা এখানে পরিযায়ী। কত রকম পাখি নিজেদের মধ্যে একটানা কথা বলে চলেছে। চারপাশ নিস্তব্ধ। চুপ করে বসে শুধু উপভোগ করতে হয়। কিছু দূরেই রেললাইন। ট্রেন এলে ঘোর কাটে। শেষ হয় চুপকথার প্রহর।

আবার উলুবেড়িয়ার ফুলেশ্বরের কাছে বিবির চর। শীতের সকালে সোনালি রোদ্দুর যেন গঙ্গাবক্ষে সোনার আভা ছড়ায়। পাড়ে সাইকেল রেখে নৌকাভ্রমণও এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। ঠিক উল্টো দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আটপুর। ওই জায়গার অনতিদূরে সিজবেরিয়া বাংলো ও (ফুলেশ্বর বাংলো নামেই) সংলগ্ন এলাকাও ভারী সুন্দর।

হুগলির জনাই-ও কি কম আকর্ষক! কালীবাবুর বাড়ি, বারো মন্দির, বদ্যিমাতার মন্দির, রঘুনাথ মন্দির, দুর্গাদালান... মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় অপরূপ নৈসর্গিক ছোঁয়া। গাছের ফাঁক থেকে উঁকি দেয় ভোরের সূর্য। সঙ্গে ভেজা ঘাস সারা শরীরে বুনে দেয় শীতের আরাম। এ তো গেল নির্দিষ্ট কিছু স্থান। কিন্তু গাঁয়ের পথে সবুজের যে পরশ, তা কংক্রিটের জঙ্গলে মিলবে কোথায়! এ যেন সবুজের ‘কার্নিভাল’। আর জনাইয়ের মনোহরা তার শেষ পাতে এক চিলতে হাসি। ঠিক যেমন হুগলির আইয়া গ্রাম, যা ‘রাবড়ি গ্রাম’ নামে বেশ পরিচিত। আবার জলাভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পূর্ব কলকাতা জলাভূমি, কৈপুল কিংবা বর্তির বিলও যতটা নয়নাভিরাম, ততটাই আকর্ষক।

না হলেই নয়

এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, শুধু সাইকেল চালালেই তো হল না, সাইকেল-সংক্রান্ত সরঞ্জামও প্রয়োজন। বিশেষত হেলমেট। কোনও দেখনদারি নয়, নিজের সুরক্ষার স্বার্থেই হেলমেট যে কোনও সাইক্লিস্টের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। বছর দুয়েক আগের এক ২৬ জানুয়ারি। সল্টলেকের ভিতর দিয়ে নিউ টাউন হয়ে ভাঙড়-ঘটকপুকুর হয়ে বাসন্তী হাইওয়েতে উঠেছি। সঙ্গী আরও এক জন। মসৃণ রাস্তায় আমাদের সাইকেল ছুটছে বেশ জোরে। হঠাৎ পিছন থেকে জোরালো হর্ন। আমার বন্ধু পিছনে তাকাতেই সামান্য অসতর্কতায় তার সাইকেলের হ্যান্ডেলের টোকা। ছিটকে পড়লাম কিছু দূরে। শিরদাঁড়া দিয়ে যেন হিমেল স্রোত বয়ে গেল। সে দিন বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম হেলমেটের সৌজন্যেই। সে দিনের ‘ভালবাসার’ চিহ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে হেলমেটে। হেলমেট না থাকলে মাথার খুলির কী অবস্থা হত, ভাবলেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। তবে মজার ব্যাপার হল, উঠে দাঁড়িয়ে জল খেয়ে যখন মালুম হল কিস্যু হয়নি, আবার সাইকেলে চেপে দৌড়। আসলে জীবনও তো এমনই। ওঠাপড়া তো লেগেই রয়েছে। কিন্তু বাস্তবের রঙ্গমঞ্চেও থেমে যাওয়ার উপায় নেই। সাইকেল তো আসলে জীবনবোধ শেখায়। মনে করিয়ে দেয়, জীবন লম্বা হোক বা না হোক, সুন্দর হওয়া চাই। রোজকার চলার পথে হাজারো বাধা। কিন্তু থেমে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। প্রতিটি নিঃশ্বাসে যে বেঁচে থাকার প্রত্যয়! এখানেও তাই। যা-ই হোক, এ তো গেল হেলমেটের কথা। এ ছাড়া লাইট, বিশেষত পিছনের আলো ভীষণ জরুরি। হাইওয়ে হোক কিংবা শহরের রাস্তা… ভোরবেলা পিছনে থাকা কোনও গাড়িচালকের কাছে যেন সঙ্কেত পৌছয়, সামনে কেউ রয়েছেন। আর হ্যাঁ, জলের বোতল, পাংচার কিট (রাস্তায় কোথাও পাংচার হলে যাতে নিজেই সারিয়ে নেওয়া যায়)। এ ছাড়া সাইক্লিং জার্সি, প্যাডেড প্যান্ট, জুতো, সানগ্লাস থাকলে বাড়তি সুবিধে। আমাদের শহর তিলোত্তমা ও নিউ টাউনে ক্রমশ বাড়ছে সাইক্লিস্ট। ফলে ভোরের রাজপথে অনেক মানুষকেই হেলমেট পরে সাইকেল চালাতে দেখা যায়। বিশেষত নিউ টাউন, বারুইপুর বাইপাস কিংবা রেড রোড-স্ট্র্যান্ড রোড, মসৃণ রাস্তার সৌজন্যে যা সাইক্লিস্টদের স্বর্গোদ্যান। রাস্তায় দেখেছি, জার্সি, হেলমেট পরা সাইক্লিস্টের দিকে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন অনেকে। অনেকে আবার সাইকেল থামিয়ে জানতে চান, কোথায় থাকি, যাত্রাপথ কতটা। এ ভাবেই আগ্রহ বাড়ে। বাড়ে সাইকেল-সংস্কৃতি।

দূর গগন কী ছাঁও মে...

এ শহর জানে আমার সব কিছু। তিলোত্তমার অলিগলি ঘুরে ঘুরে যখন ক্লান্তি গ্রাস করে, সেই সময়েই শহরের গণ্ডি পেরোনোর ইচ্ছে হয়। বালি থেকে ব্যারাকপুর, চন্দননগর থেকে চণ্ডীতলা সাইকেলের দাপটে ডানা ঝাপটে গিয়েছি। বেড়েছে পরিধি। শহুরে কোলাহল, ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গল থেকে দূরে কোথাও স্বাদবদল সম্ভব হয়েছে। ছোট থেকে শুনে এসেছি জয়নগর-বহড়ুর মোয়ার সুনাম। এক প্রবীণ-বন্ধুর সঙ্গে সাইকেলেই পাড়ি জমিয়েছিলাম মোয়ার লোভে। অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে যখন মুখে পড়ল মোয়া, তার স্বাদে মন খুশি। শুধু তো খাওয়া নয়, কী ভাবে মোয়া তৈরি হচ্ছে, তা-ও সে বার দেখেছিলাম। কে ভেবেছিল, যেখানে ট্রেনে বা গাড়িতে যেতেও গড়িমসি, সেখানেই কখনও পৌঁছে যাব সাইকেলে!

আবার হংসেশ্বরী মন্দিরের কথাই ধরা যাক। এ-ও এক অদ্ভুত কাহিনি। কয়েক জন মিলে ঠিক করেছিলাম, ব্যারাকপুর যাব। সিঁথির মোড় থেকে ব্যারাকপুর যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। কিন্তু ব্যারাকপুর যখন পৌছলাম, তখনও সূর্যদেবের ঘুম ভাঙেনি। ফলে ঠিক হল, নৈহাটি পর্যন্ত যাওয়া যাক। সেখানে বড়মার মন্দির দর্শন, ছবি তোলার পালা শেষ হতেই এক বন্ধুর প্রস্তাব, আরও একটু গেলে কেমন হয়! সকলেই যেন এমন প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিল। হালিশহর, কাঁচরাপাড়া হয়ে ঈশ্বরগুপ্ত সেতু পেরিয়ে পৌছে গেলাম হংসেশ্বরী মন্দিরে। এ মন্দিরের রূপ এবং আশপাশের সৌন্দর্য যেন সমস্ত ক্লান্তি মুছে দেয়। কে বলবে জনাপাঁচেক সাইকেল-উৎসাহী বেড়িয়ে পড়েছে অপরিকল্পিত যাত্রায়! তবে পরিকল্পনার অভাব থাকলে কী হয়, তা টের পাওয়া গেল ফেরার পথে। ঘড়িতে তখন সাড়ে ন’টা বেজে গিয়েছে। ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছেন সূর্য। আরও ঘণ্টাদেড়েক সাইকেল চালানোর পরে কুপোকাত হওয়ার পালা। প্রবল গরম আর রোদের ঝলকানি। আমরা কিন্তু হাল ছাড়িনি। রাস্তার বিশ্রাম আর জেদ সম্বল করে যখন বাড়ি ফিরলাম, তত ক্ষণে মধ্যাহ্ন পেরিয়েছে। এ ভাবেই কখনও দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা পেরিয়ে ডায়মন্ড হারবারের কাছে, কখনও বা নদিয়ার হরিণঘাটা ফার্মে পৌছে গিয়েছি পক্ষিরাজে চড়েই। শারীরিক ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে মনের রসদ মিলেছে প্রতিটি যাত্রায়। তবে সবচেয়ে কঠিন ছিল হুগলির গুড়াপ যাত্রা। সেই গল্পে যাওয়া যাক।

পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে...

ফিরতে পারব তো! তীব্র বাতাসের (হেডউইন্ড) দাপটের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। নিশ্চল হয়ে আসছে পা, শরীর জানান দিচ্ছে, ‘আর পারছি না’, সেই সময়েই বাঁচিয়ে দিল একটি পেট্রল পাম্প। কী ভাবে? সাইকেলের সঙ্গে পেট্রল পাম্পেরই বা সম্পর্ক কী? ঢুকেছিলাম জল ভরতে। বসতে গেলাম, শুয়েই পড়লাম। মরে গেল নাকি, ভাবছে উল্টো দিকের লোকটি— হ্যাঁ, এমনই সব ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় ভরপুর সেই সফর। প্রথম থেকেই শুরু করা যাক—

আগের দিন অফিস থেকে ফিরেছিলাম গভীর রাতে। ফলে ঘুম থেকেও একটু দেরিতেই উঠেছিলাম। চোখ খুলে দেখি, আকাশ মেঘলা। বহু দিন সিঙ্গুর যাওয়া হচ্ছিল না। ভাবলাম, ‘আজ হোক’। সাধারণত অফিস থাকলে ৫০-৬০ কিলোমিটারের বেশি রাইড করতাম না। কিন্তু সে দিন অফিস একটু দেরিতে থাকায় ঝুঁকিটা নিয়েই নিলাম। সেই সপ্তাহে প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে বেরোনোর সুযোগ হচ্ছিল না। সঙ্গে দোসর বৃষ্টি। সে দিন আকাশ অংশত মেঘলা। কিন্তু বৃষ্টিহীন।

যাত্রার শুরুতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি। সাড়ে আটটা নাগাদ বেরিয়ে (সিঁথির মোড়) ১০টা ১৫-র মধ্যে পৌঁছে গেলাম সিঙ্গুর। এর পরেই নড়ে উঠল সেঞ্চুরির পোকা। মনে হল, আর একটু চালিয়ে ফেললেই ৫০ কিলোমিটার পূর্ণ হয়ে যাবে। তা হলে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ১০০ কিলোমিটার হয়ে যাবে। সেই ভেবেই পৌঁছে গেলাম প্রায় গুড়াপের (হুগলি) কাছে। ঘড়িতে তখন ১১টা। এই পর্যন্ত বেশ চলছিল। ফেরার রাস্তা ধরতেই মালুম হল, কী ভুলটাই না করেছি।

মেঘলা আবহাওয়া। কখনও ছিটেফোঁটা বৃষ্টি। কিন্তু বেদম হাওয়া। এত ক্ষণ চালাচ্ছিলাম হাওয়ার দিকে। অর্থাৎ আমার পিঠে ধাক্কা দিচ্ছিল হাওয়া। কিন্তু এ বার হাওয়ার বিপরীতে যেতে হবে ৫০ কিলোমিটার। রাস্তাকে ৩ ভাগে ভাগ করে নিলাম। প্রথমে সিঙ্গুর, তার পরে ডানকুনি টোল প্লাজ়া, শেষ পর্বে বাড়ি। কিন্তু বিপদের সময়ে যা পরিকল্পনা করা হয়, তা আর হয় কি! লড়াইটা আরও কঠিন হল খিদের চোটে। শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে বেরিয়ে পড়া আরও এক হঠকারিতা। আসলে বেরোনোর সময়ে কে জানত এমনটা হবে! হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে খিদে। কিন্তু জনশূন্য হাইওয়েতে দোকান পাব কোথায়! দু’-একটা ভাতের হোটেল ছিল বটে, তবে পেট ভরে ভাত খেয়ে সাইকেল চালিয়ে ফেরা অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুরের কাছে এসে চা-বিস্কুট-কেকের দোকান পেলাম। খাওয়া সেরে সামান্য বিরতি নিয়ে আবার চলা শুরু।

সিঙ্গুর পেরোলাম। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মতোই হাইওয়ের খোলা অংশে বাতাসের দাপট যত বাড়ছে, তত নিশ্চল হচ্ছে পা। দাঁতে দাঁত চেপে এগোতে থাকলেও শরীর ক্রমশ হাল ছেড়ে দিচ্ছে। গ্রাস করছে ক্লান্তি। বারুইপাড়ার কাছাকাছি এসে বিদ্রোহ করল পা। আর না পেরে বসে পড়লাম রাস্তার উপরেই। তখন আর ধুলোবালি দেখে কে! কিন্তু মিনিট পাঁচেক বসেই মনে হল, কাছেপিঠে কোনও পেট্রল পাম্পে যাওয়া যাক। ওখান থেকে জল ভরে নেওয়া যাবে। এর পরেই কিছুটা দূরে এক পেট্রল পাম্পে ঢুকলাম। চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিতে খানিক স্বস্তি মিলল। এক জায়গায় বসলাম। কিন্তু পিঠ ক্রমশ ঝুঁকে যাচ্ছে। আর কিছু না ভেবে শুয়েই পড়লাম। মজার বিষয় হল, শুয়ে সবে চোখ বন্ধ করেছি। হঠাৎ দেখি, মুখে পড়ছে অন্যের নিঃশ্বাস। চোখ মেলতেই দেখি, এক জন ঝুঁকে পড়ে আমাকে দেখছেন। হয়তো ভাবছেন, ‘মরে গেল নাকি, যত সব উৎপাত!’ তাড়িয়ে দিলে বিপদ। ফলে চোখ খুলেই কার্যত আধশোয়া। ১৫ মিনিটের এই বিশ্রামই অক্সিজেন জোগাল।

আবার বেরিয়ে পড়লাম। আধ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছলাম ডানকুনি টোল প্লাজ়া। সেখান থেকে ডানলপের পথে। ক্রমশ আকাশ কালো হচ্ছে। ইষ্টনাম জপছি। শুরু হল তুমুল বৃষ্টি, ভিজে গেলাম। রাজচন্দ্রপুরের কাছে এসে আবার মিনিট পাঁচেকের বিরতি। তার পরে একটানা চালিয়ে বাড়ি যখন ঢুকলাম, কার্যত বিধ্বস্ত।

জীবন তো অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার। প্রতিকূল পরিস্থিতি আসবেই। কিন্তু হেরে ভূত হলে কী চলে! সে দিনের সাইকেল-সফর তারই একটা ঝলক। এ ভাবেই প্রতিটি সফর শেখায় নতুন কিছু। গড়ে ওঠে জীবনবোধ। নিশ্চিন্তের ঘুম ছেড়ে প্যাডেলে পা দিতেই কাজ করে পরম তৃপ্তি। মেলে সন্তুষ্টি। আমার সাইকেল-বন্ধুদের অনেকেই হয়তো এর চেয়েও বেশি প্রতিকূলতা নিয়েই দু’চাকার দুনিয়ায় দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। ‘ক্রেস্ট টু কোস্ট’-এর মতো কঠিন প্রতিযোগিতা নিয়েও বাড়ছে উন্মাদনা। কয়েকশো কিলোমিটারের ‘বিআরএম’-এও বেড়িয়ে পড়েছেন অনেকে। এ সবই বুঝিয়ে দেয়, এক জন সাইক্লিস্টের তৃপ্তি ঠিক কোথায়। দীর্ঘ যাত্রার চড়াই-উতরাইয়ে যে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ হয়, কিংবা নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বেড়ানোর যে তৃপ্তি, তার সমতুল আর কী-ই বা হতে পারে।

এ ভাবেই চোখে পড়ে চেনা শহরের অচেনা রূপ। ময়দানের সবুজ ঘাসে দাঁড়িয়ে উঁচু ইমারতে ঠিকরে বেরোনো সূর্যের আলো, আবার বসন্তে চেরি ব্লসমের মতো গাছে গাছে গোলাপি ফুল, কিংবা রেড রোডের ধারে পড়ে থাকা পলাশ ফুল চোখ ও মনের আরাম দেয়। সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেরিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতা চলে, অন্ধকার থাকতেই বেরিয়ে পথের মাঝে সূর্যোদয় দেখা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল কলকাতা পুলিশ ম্যারাথনের কথা।

ভাবছেন তো ম্যারাথন দৌড়ের গল্প, তার সঙ্গে সাইকেলের সম্পর্ক কী! শীতের সময়ে শহরে শুরু হয় ম্যারাথনের মরসুম। সেখানে দৌড়তে আসা রানারদের সাহায্যের জন্য ডাক পড়ে সাইক্লিস্টদের। যাদের পোশাকি নাম সাইকেল মার্শাল। সেই সুবাদেই কলকাতা পুলিশ ম্যারাথনে আরও অনেকের সঙ্গে আমি ও পক্ষিরাজ। মা উড়ালপুল দিয়ে ওঠার সময়ে সূর্যোদয়ের যে মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছি, তা অতুলনীয়। অন্য দিকে ম্যারাথন মানেই বহু মানুষের ভিড়। চেনা লোকের সঙ্গে সাক্ষাতের মজা যেমন থাকে, তেমনই অচেনাও হয়ে ওঠেন আপন। বাড়ি ফেরার সময়ে সঙ্গে থাকে একরাশ তৃপ্তি। শুধু কি ম্যারাথন? সাইকেল-সংক্রান্ত নানা অনুষ্ঠানেও বিস্তৃত হয় চেনা-অচেনার এই বৃত্ত। শুধু সাইকেল চালানো নয়। চলে গল্প, গড়ে ওঠে এক বৃহত্তর পরিবার।

আসলে এ এক আশ্চর্য ভালবাসা। যেখানে কোনও প্রতিযোগিতা নেই, নেই কোনও ইঁদুরদৌড়। পুরোটাই আত্মসন্তুষ্টি। নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। নিজের ভাল-মন্দের বিশ্লেষণ। প্রতিদিন সমৃদ্ধ হয়ে ওঠা। মোবাইল ফোন কিংবা মাদকের নেশা কাটিয়ে আরও অনেকে যোগ দিক আনন্দের এই মহাযজ্ঞে. ভাল থাকুন সহনাগরিকেরা। যদি আপনি সংসারী হন, দৈনন্দিন জীবনের রোলার কোস্টার থেকে বেরোতে সঙ্গী হতে পারে সাইকেল। আবার যদি একাকিত্বে ভোগেন, সে ক্ষেত্রেও দু’চাকার এই পরাবাস্তবের দুনিয়ায় হারিয়ে খুঁজে পারেন নিজেকে। এক দিন ঠিক বাস্তবের মাটি ছেড়ে রূপকথার হাওয়ায় গা ভাসাবে পক্ষিরাজ, দেখবেন প্রতিদিনের একঘেয়েমি ফেলে রেখে নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কার করার আনন্দই আলাদা। দু’চাকা সব সময়ই প্রস্তুত, আপনি সাহস করে পা বাড়াতে তৈরি তো?

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Switzerland LSD

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy