রাঙা আলু খাওয়া স্বাস্থ্যকর। কারণ, এতে নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা শীতে তো বটেই সারা বছরই শরীরের প্রয়োজন। আবার রাঙা আলুতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফাইবারও, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এতেও রাঙা আলুর উপকারিতার তালিকা শেষ হচ্ছে না। রাঙা আলুতে থাকা বিটা ক্যারোটিন ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী। আবার বেগনি রঙের রাঙা আলু খেলে তাতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট প্রদাহ দূর করে পরোক্ষে ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। সোজা কথায় দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাঙা আলু রাখতে ক্ষতি নেই কোনও। বরং লাভের অঙ্কই বেশি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর ওই সব্জি দিয়ে কী কী রান্না করা যেতে পারে?
খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর হলে তেমন সুস্বাদু হবে না! এমনই একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। রাঙা আলুর ক্ষেত্রে অবশ্য তা সত্যি নয়। চাইলে রাঙা আলু দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু এবং বাহারি রান্না রেঁধে ফেলা যেতে পারে। শুধু জেনে নেওয়ার অপেক্ষা।
রাঙা আলুর চাট
সেদ্ধ রাঙা আলুকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তাতে সামান্য বিট নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো, চাট মশলা, লেবুর রস এবং ধনেপাতা কুচি মিশিয়ে নিন। এটি বিকেলের জলখাবারের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হতে পারে।
রাঙা আলুর চিকেন স্ট্যু
সাধারণ আলুর বদলে রাঙা আলু দিয়ে যেমন তরকারি রান্না করা যায়, তেমনই সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে আর কম তেল ও মশলা ব্যবহার করে এটি দিয়ে পাতলা চিকেন স্ট্যুও বানিয়ে নিতে পারেন। এক বাটি রাঙা আলু দিয়ে তৈরি চিকেন স্ট্যু যেমন ফাইবার এবং ভিটামিনের জোগান দেবে, তেমনই শরীরে যাবে প্রোটিনও। চাইলে ওই স্ট্যুয়ে সামান্য পালংশাকও দিতে পারেন। প্রাতরাশ বা নৈশভোজ হিসাবে দারুণ পুষ্টিকর হবে খাবারটি।
রোস্টেড বা বেকড রাঙা আলু
রাঙা আলুকে আড়াআড়ি চিরে সামান্য অলিভ অয়েল, নুন এবং কালো জিরে বা পছন্দের যে কোনও মশলা দিয়ে অভেনে বেক করে নিন। উপরে ভাল মোজ়ারেলা চিজ় ছড়িয়ে দিতে পারেন। আর কিছু ধনেপাতা কুচি।
রাঙা আলুর স্যুপ
শীতের রাতে গরম গরম স্যুপ শরীরের জন্য খুব ভালো। রাঙা আলু সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিন, তারপর তাতে আদা, রসুন, সামান্য গোলমরিচ এবং অল্প জল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সাহায্য করে।
রাঙা আলুর রুটি বা পরোটা
রাঙা আলু সেদ্ধ করে আটার সঙ্গে মেখে নিন। দেখবেন জল দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এবার ওই মণ্ড দিয়ে রুটি বা পরোটা বানিয়ে নিন। অথবা রাঙা আলু সেদ্ধ করে তা দিয়ে পছন্দের মশলা এবং নুন-মিষ্টি দিয়ে পুর তৈরি করুন। পরোটার একটু বড় লেচি বানিয়ে তার মধ্যে পুর ভরে বেলে ঘিয়ে নেড়ে নিন। রাঙা আলুর রুটি বা পরোটা সাধারণ আলুর পরোটার থেকে অনেক বেশি নরম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ হয়।
রাঙা আলুর পান্তুয়া
শীতে পিঠে পুলির তিন দিনের উৎসবে এক সময়ে রাঙা আলুর পান্তুয়াও বানাতেন মা-জেঠিমারা। সেদ্ধ রাঙা আলুর সঙ্গে সামান্য ছানা, খোয়া ক্ষীর, সুজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ আটা মিশিয়ে গোল গোল করে ভেজে রসে ডুবিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন পান্তুয়া।
রাঙা আলুর দুধ পুলি
সেদ্ধ রাঙা আলু দিয়ে তৈরি করা মণ্ড বা ডো-এর মধ্যে নারকেলের পুর ভরে নিন। তার পরে তা ঘন দুধে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে রাঙা আলুর দুধ পুলি। পিঠেও খাওয়া হবে আবার ওজনও রাখা যাবে নিয়ন্ত্রণে।
রাঙা আলুর দম
সাধারণ আলুর দমের মতোই তৈরি করার পদ্ধতি, তবে এর স্বাদ হয় একটু ভিন্ন। মিষ্টি ও ঝাল স্বাদ মিলিয়ে খেতে লাগে অপূর্ব। শীতের সকালে লুচি বা পরোটার সঙ্গে গরম গরম রাঙা আলুর দম খেতে মন্দ লাগবে না।
গোকুল পিঠে
রাঙা আলু সেদ্ধ করে মেখে নিয়ে তার মধ্যে ক্ষীরের পুর দিয়ে চ্যাপ্টা করে গড়ে তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হবে গোকুল পিঠে। এর পর এগুলোকে হালকা রসে ডুবিয়ে রাখতে পারেন অথবা উপরে নতুন গুড় ছড়িয়েও পরিবেশন করতে পারেন। মুচমুচে এবং রসালো স্বাদের পিঠে ভালই লাগবে খেতে।
রাঙা আলুর হালুয়া
রাঙা আলু কুরিয়ে নিয়ে তাতে ঘি, এলাচ এবং দুধ দিয়ে রাঙা আলুর হালুয়াও তৈরি করতে পারেন। এটি বানানো যেমন সহজ তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর। উপর থেকে কাজু ও কিসমিস ছড়িয়ে দিলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যাবে।