রাস্তার দোকানে দুধ দিয়ে তৈরি মশলা চায়ের স্বাদ আলাদাই। সর্দি-কাশি, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, ঠান্ডা লেগে কান ব্যথার মতো সমস্যার দাওয়াই হতেই পারে এই গরম পানীয়। বিশেষ করে সারা দিনের কাজের পর বিকেলে যখন শরীর জুড়ে ক্লান্তি নামে, তখন গুছিয়ে বসে এক কাপ মশলা চা ‘এনার্জি বুস্টার’ পানীয়ের কাজ করতে পারে।
তবে রাস্তার ধারের এই মশলা চায়ে চুমুক দেওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। বারে বারে সেই চা ফোটানো হয়। বাড়িতে অনেকেই মশলা চা বানিয়ে খান, তবে দোকানের মতো সেই স্বাদ আসে না। চা বানাতে গিয়ে ভুলটা কোথায় হচ্ছে জানেন?
প্রতিটি বাড়ির হেঁশেলে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে চা বানানো হয়। কেউ প্রথমে দুধ ফুটিয়ে তাতে জল, চা-পাতা, চিনি ও মশলা মেশান, আবার অনেকে জল ফুটে যাওয়ার পরে দুধ মেশান। তবে যদি কড়া ও সুগন্ধি মশলা চা পছন্দ করেন, তবে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই বেশি কার্যকর। জলে যখন প্রথমে মশলা ও চা-পাতা দিয়ে ফোটানো হয়, তখন এগুলির নিজস্ব তেল, স্বাদ ও সুবাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে। দুধ মেশানোর আগেই আদা, এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি ও গোলমরিচের মতো উপাদানগুলোর নির্যাস জলে খুব ভাল ভাবে মিশে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
মশলা চা বানানোর সঠিক পদ্ধতি
১) জল ফুটিয়ে নিন।
২) চা পাতা এবং পছন্দের মশলা মেশান
৩) মিশ্রণটি ৪-৫ মিনিট মাঝারি আঁচে ফোটান
৪) এ বার দুধ মেশানোর পালা
৫) তারপর আরও মিনিট দুয়েক ফুটিয়ে চা ছেঁকে নিন
আরও পড়ুন:
কোন কৌশলে স্বাদ আরও বাড়বে
অনেকেই চা তৈরি করেন গোটা মশলা দিয়ে। এখানেই ভুলটা হয়ে যায়। চা হোক বা যে কোনও রান্না, মশলা দেওয়ার আগে থেঁতো করে না নিলে স্বাদ মোটেই খুলবে না। মশলাগুলি থেঁতো করলে সেগুলি থেকে প্রাকৃতিক তেল আরও ভাল ভাবে বেরিয়ে আসে, ফলে চায়ের স্বাদ আর সুগন্ধ, দুইই বাড়ে।
কতটা দুধ দিলে চা ভাল হবে?
কেউ ঘন দুধের চা পছন্দ করেন, তাই পুরো দুধ দিয়েই চা করেন। কেউ আবার ততটাও বেশি দুধ চায়ে পছন্দ করেন না, তাই দুধের সঙ্গে জল মেশান। তাই চায়ে কতটা দুধ দেবেন সেই বিষয়টি ব্যক্তিগত পছন্দের উপরেই নির্ভর করে। তবে সাধারণত এক কাপ দুধের সঙ্গে দেড় কাপ জল মিশিয়ে চা বানালে সেই চায়ের স্বাদ বেশ ভাল হবে।