শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বিশেষ মেনু, কী ভাবে তৈরি হয় এই ডাল রাইসিনা?

নিজস্ব প্রতিবেদন
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বিশেষ মেনু, কী ভাবে তৈরি হয় এই ডাল রাইসিনা?

সন্ধেয় প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য রাইসিনা হিলসের হেঁশেলে তোড়জোড়  শুরু হয়েছে সকাল থেকেই। মেনুতে নানা পদের সঙ্গে উপস্থিত থাকছে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশেষ ডিশ ‘ডাল রাইসিনা’।

কার রন্ধনশিল্পের কারিকুরি রয়েছে এই পদের নেপথ্যে জানেন? তিনি দিল্লির একটি হোটেলের শেফ। নাম, মাচিন্দ্রা কস্তুরে। ২০১০ সালে এই ‘ডাল রাইসিনা’ রেঁধে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, এই ডালের আর এক নাম ‘মা কি ডাল’। কারণ, গৃহস্থ বাড়িতে মায়ের হাতের ডাল রান্নার কথাই নাকি মনে করাবে এই পদ!

অড়হড় ডাল, টমেটো পিউরি, জাফরান ও কিছু বিশেষ মশলা দিয়েই বানানো হয় এই রাইসিনা ডাল। তবে কসুরি মেথির ব্যবহার এই ডালের স্বাদে আলাদা মাত্রা যোগ করে। তবে চাইলে বাড়িতেও এই ডাল তৈরি করতে পারেন আপনিও। একটু সময়সাপেক্ষ হলেও রাইসিনা ডালের সুবাস আর স্বাদের টানে না হয় একটু সময় ব্যয় করলেন! দেখে নিন এই পদের রেসিপি।

আরও পড়ুন: সুস্বাদু, অথচ এই খাবার ফ্যাট জমতে দেয় না এতটুকু!

রাইসিনা ডাল (চার জনের জন্য)

উপকরণ:

অড়হড় ডাল: ৩০০ গ্রাম

মাখন: ২ বড় চামচ

সরষের তেল: পরিমাণ মতো

গরম মশলা: দু’চা চামচ

লঙ্কা কুচোনো: স্বাদ মতো

রসুন কুচোনো: হাফ কাপ

নুন: পরিমাণ মতো

তেজপাতা

ধনে গুঁড়ো: ২ টেবিল চামচ

জিরে গুঁড়ো: ২ টেবিল চামচ

আদা কুচোনো: চার টেবিল চামচ

হলুদ: দেড় চা চামচ

গোটা জিরে: ফোড়নের জন্য

কসুরি মেথি: হাফ কাপ

ধনেপাতা: হাফ কাপ

শুকনো করা মেথি পাতা: সিকি কাপ

টম্যাটো পিউরি

টম্যাটো বাটা

কুচোনো পিঁয়াজ

জাফরান

ক্রিম

আরও পড়ুন: এঁচড়ের কালিয়া এ বার রাঁধুন এই ভাবে, স্বাদ বাড়বে আরও

প্রণালী: প্রথমেই অড়হড় ডালকে তেজপাতা সমতে প্রেশার কুকারে ঢেলে তিন-চারটে সিটি দিয়ে নিন। এতে ডাল নরম হবে ও তেজপাতার গন্ধ ধরবে ডালের গায়ে। এ বার কড়ায় দুই টেবিল চামচ তেল ও এক বড় চামচ মাখন দিন। অনেকে তেলের পরিবর্তিত শুধুই মাখন ব্যবহার করেন। তবে শরীরের কথা ভেবে অনেকেই মাখনের বাড়বাড়ন্তে রাশ টানেন। মাখনকে গরম হয়ে তেলের সঙ্গে মিশে যেতে দিন। এ বার এতে হাফ চা চামচ গোটা জিরে ও কিছুটা রসুন কুচোনো যোগ করুন। বাকি অর্ধেক রসুন কুচি রেখে দিন সাজানোর জন্য। এ বার এতে পিঁয়াজ কুচি যোগ করে ভাজতে থাকুন। পিঁয়াজের রং সোনালি হওয়া অবধি অপেক্ষা করুন। এ বার এতে টম্যোটো বাটা ও স্বাদ মতো নুন যোগ করুন। ভাল করে কষিয়ে এতে আধ কাপ জল দিন। টম্যাটোগুলো যাতে কড়ার নীচে ধরে না যায়, সে দিকে নজর রাখুন।

এ বার এতে একে একে ধনেগুঁড়ো, হলুদ ও জিরেগুঁড়ো যোগ করুন। এক চা চামচ গরম মশলা ও স্বাদ অনুযায়ী লঙ্কা কুচিও মিশিয়ে নিতে হবে এ বার। ভাল করে মিশিয়ে কিছু ক্ষণ নেড়েচেড়ে আঁচ ঢিমে করে চাপা দিয়ে দিন। মিনিট পাঁচ-সাতেক এ অবস্থায় রাখার পর ঢাকা খুলে দেখবেন মশলার গা থেকে তেল বেরচ্ছে। এ বার এতে তেজপাতা-সহ সেদ্ধ করে রাখা অড়হড় ডাল মিশিয়ে বাল করে নাড়াচাড়া করে নিন। এ বার এই মিশ্রণে জল মেশান অল্প করে। ডালকে ঘন করতে এই জলটুকু সাহায্য করবে। এ বার ফের দশ মিনিটের জন্য চাপা দিয়ে রাখুন ডালটা।

দশ মিনিট পর ঢাকা খুলে ক্রাশ করে রাখা কসুরি মেথি, ধনে পাতা ও বাকি কুচনো আদা ও অল্প আর একটু গরম মশলা যোগ করুন। এ বার এতে জাফরান মেশানো দুধ দিন। গন্ধ ও রং আরও খোলতাই হবে। তবে খেয়াল রাখবেন জাফরান মেশানো দুধের পরিমাণ যেন অল্প হয়, নইলে স্বাদ ও গন্ধের বাড়াবাড়িতে ডালের নিজস্ব স্বাদ চাপা পড়ে যাবে। এই মিশ্রণে এ বার বড় চামচের দু’চামচ ক্রিম যোগ করুন ও ভাল করে মিশিয়ে নিন। এই অবস্থায় ডালটাকে আর একটু চাপা দিয়ে রান্না করুন মিনিট দুয়েক।

এ বার ঢাকা খুলে নামিয়ে নিন রাইসিনা ডাল। পরিবেশনের আগে উপর থেকে আর একটু ক্রিম, ধনে পাতা ও কসুরি মেথি ছড়িয়ে নিন। গরম গরম নান বা জিরা রাইসের সঙ্গে এই ডাল জমিয়ে দেবে আপনার ডাইনিং টেবল।