Advertisement
E-Paper

আদিমানবেরাও জানত দাঁতের চিকিৎসা! ৫৯০০০ বছরের পুরনো নিয়ানডারথাল জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণায় মিলল আভাস

রাশিয়ার এক পাহাড়ি গুহায় প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে পাওয়া যায় কিছু দাঁতের জীবাশ্ম। মানুষের দাঁত। প্রায় কয়েক ডজন দাঁত পাওয়া গিয়েছিল। যার মধ্যে একটি ছিল বাকিগুলির থেকে আলাদা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ০৮:৫৬

— প্রতীকী চিত্র।

দাঁতের চিকিৎসা জানা ছিল আদিমানবদেরও। দাঁতের যন্ত্রণা কী ভাবে নিরাময় করতে হয়, আজ থেকে প্রায় ৫৯ বছর আগেও তা জানা ছিল মানুষের। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই আভাসই মিলেছে। কী কৌশলে তা নিরাময় করা হত, সেই ধারণাও পাওয়া গিয়েছে গবেষণায়।

আজ থেকে এত বছর আগেও যে মানুষ দন্তচিকিৎসা জানত, তা এত দিন অজানাই ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে। গবেষকেরা প্রথম এ বিষয়ে জানতে পারেন রাশিয়ার এক পাহাড়ি গুহায় প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানে। ওই অভিযানে গুহা থেকে পাওয়া যায় কিছু দাঁতের জীবাশ্ম। মানুষের দাঁত। প্রায় কয়েক ডজন দাঁত পাওয়া গিয়েছিল। যার মধ্যে একটি ছিল বাকিগুলির থেকে আলাদা। একটি মোলার দাঁত, যার মধ্যে একটি গভীর গর্ত রয়েছে। জীবাশ্মের রেডিয়োকার্বন ডেটিং করে দেখা যায়, সেগুলি প্রায় ৫৯ হাজার বছরের পুরনো।

যে সময়ের কথা হচ্ছে, তখন নির্দিষ্ট কোনও একটি মানব প্রজাতি ছিল না পৃথিবীতে। তত দিনে আবির্ভাব হয়ে গিয়েছে আধুনিক মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স)-এর। আবার নিয়ানডারথালেরাও পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। তবে এই দাঁতের জীবাশ্মগুলি যে নিয়ানডারথালেদেরই, তা নির্ধারণ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি গবেষকদের। কারণ আধুনিক মানুষ এবং নিয়ানডারথালের দাঁতের গড়ন আলাদা। নিয়ানডারথালের মোলার দাঁতের পাল্প চেম্বার (রক্তনালী, স্নায়ু এবং সংযোজক কলা নিয়ে গঠিত অংশ। এই অংশটি দাঁতের পুষ্টি এবং সংবেদনশীলতা জোগায়) তুলনায় বড়। তা ছাড়া যে অঞ্চল থেকে দাঁতগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে, সেখানে নিয়ানডারথালেদের বাসের প্রমাণ আগেই মিলেছে। আজ থেকে প্রায় ৪৯-৭০ বছর আগে ওই এলাকায় বাস করত নিয়ানডারথালেরা।

রাশিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম সাইবেরিয়ায় আলতাই পর্বতমালায় রয়েছে চাগিরস্কায়া গুহা। সেখান থেকেই পাওয়া যায় ওই দাঁতগুলি। তার মধ্যে ওই একটি মোলার দাঁতই ছিল বাকিগুলির চেয়ে আলাদা। গবেষকেরা সেটির নাম রাখেন ‘চাগিরস্কায়া ৬৪’। দাঁতের গর্তটি পাল্প চেম্বারের একেবারে ভিতর পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল। দাঁতের যে দিক দিয়ে খাবার চিবানো হয়, তার বেশির ভাগ অংশ জুড়েই গর্তটি ছড়িয়ে ছিল। যা দেখতে ছিল অনেকটা ক্যাভিটি (ক্ষয়জনিত কারণে তৈরি হওয়া গর্ত, যার কারণে দাঁতে ব্যথা হয়)-র মতো। এমন কোনও জীবাশ্মের নমুনা এর আগে পাওয়া যায়নি। ফলে এই দাঁতের জীবাশ্মটি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পড়েন গবেষকেরা।

গবেষকেরা ওই দাঁতটি নিয়ে আরও বিশদে পরীক্ষানিরিক্ষা শুরু করেন। গবেষকদলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর গবেষক অ্যালিসা জুবোভা। তাঁরা দেখেন, দাঁতটির গর্তের চারপাশে কিছু আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। অনুমান করা হয়, বাইরে থেকে কোনও কিছু দিয়ে কারসাজি করার ফলে ওই আঁচড়ের চিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ওই গুহায় প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানের সময়ে কিছু সূচালো পাথরের টুকরো পাওয়া গিয়েছে। দাঁতে ওই আঁচড়গুলি কী থেকে তৈরি হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে এর থেকে।

নিয়ানডারথালের ওই দাঁতটিকে স্ক্যান করেন অ্যালিসা এবং তাঁর সহযোগীরা। তার পরে আধুনিক মানুষের যন্ত্র দিয়ে গর্ত করা দাঁতের সঙ্গে তা তুলনা করে দেখা হয়। গবেষণায় ইঙ্গিত মেলে, নিয়ানডারথালের ওই দাঁতটিতে বাহ্যিক ভাবে কোনও উপায়ে ‘ড্রিল’ (গর্ত) করা হয়েছিল। গত বুধবার ‘প্লস ওয়ান’ জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের দাবি, মানব বিবর্তনের ইতিহাসে দন্ত চিকিৎসার এটিই সম্ভবত সবচেয়ে পুরনো প্রামাণ্য তথ্য। বস্তুত, ওই সময়ে আধুনিক মানুষের আবির্ভাব হয়ে গিয়েছিল। তবে তারা ওই সময়ে দাঁতের যন্ত্রণা নিরাময়ের কোনও কৌশল আয়ত্ত করেছিল কি না, তা জানা যায়নি।

গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, এর থেকে অনুমান করা যায় নিয়ানডারথালেরা ওই সময়ে দাঁতের সংক্রমণ বুঝতে পারত। ওই সংক্রমণের ফলেই যে ব্যথা হচ্ছে, তা বুঝতে পারত এবং তা নিরাময় করতে কী করণীয়, সেই কৌশলও আয়ত্ত করে নিয়েছিল। ধরে নেওয়া যায়, ওই আদিম কালে দাঁতে গর্ত করার প্রক্রিয়া বেশ যন্ত্রণাদায়কই ছিল। তবে নিয়ানডারথালেরা সেই যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা রাখত, তা-ও অনুমান করা যায়। পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয়ের ধরন দেখে গবেষকদের দাবি, চিকিৎসার পরেও ওই দাঁতটি দিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা রাখত আদিমানবেরা। অ্যালিসার কথায়, “এই দাঁতটি যার ছিল, সে সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিল কোথা থেকে ব্যথাটি হচ্ছিল। সেই ব্যথার নিরাময়ও যে সম্ভব, তা-ও বুঝতে পেরেছিল। আমরা এমন কিছু আগে কোনও নিয়ানডারথাল বা আধুনিক মানুষের মধ্যে দেখিনি।”

Neanderthal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy