দীর্ঘ পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। সব ঠিকঠাক চললে ১ এপ্রিল (আমেরিকার সময়ে) চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে সেই যান। তাতে সওয়ার হবেন আমেরিকার তিন জন এবং কানাডার এক জন মহাকাশচারী। ১০ দিন ধরে ‘আর্টিমিস ২’ অভিযান চালাবে নাসার সেই ওরিয়ন ক্যাপসুল। তার পরে আবার ফিরে আসবে পৃথিবীতে।
১৯৭২ সালে চাঁদে যাওয়ার জন্য নাসার অ্যাপোলো প্রকল্প শেষ হয়েছিল। তার আগেই চাঁদে পা রেখেছিলেন মহাকাশচারী। এই অভিযান সফল হলে প্রায় ৫৩ বছর পরে চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন মহাকাশচারীরা। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক পার করবে আমেরিকা।
কখন উৎক্ষেপণ?
১ এপ্রিল, বুধবার আমেরিকার ফ্লরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ হবে ওরিয়ন মহাকাশযান। সে সময় ফ্লরিডার ঘড়িতে বাজবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট (ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম)। ভারতে তখন ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টে। যদি কোনও কারণে আবহাওয়া খারাপ থাকে বা কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়, তা হলে মহাকাশযান ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও একটি উপযুক্ত সময়ে পাড়ি দেবে চাঁদে। তার মধ্যেও না হলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়ে রাখা হয়েছে। ওই তারিখের মধ্যে উপযুক্ত সময়ে অভিযান শুরু করা যাবে।
কোথায় দেখা যাবে?
নাসার সরকারি ইউটিউব চ্যানেল, সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। আমেরিকার ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম যখন হবে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট, তখন থেকেই শুরু হবে সময় গোনা। ভারতে তখন রাত প্রায় ১০টা।
কারা পাড়ি দেবেন?
রিড ওয়াইসম্যান (কমান্ডার): প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট। ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): নাসার ক্রু-১ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।
ক্রিস্টিনা কচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ): মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন।
জেরেমি হানসেন: কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী। প্রথম বার মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন।
তিন ধাপে এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ার কথা। দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ আর্টেমিস ২-তে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে বেরোবেন এবং চাঁদের কাছাকাছি যাবেন। তাঁরা চাঁদের কাছে এক বার পাক খেয়ে (হাই-স্পিড লুপ) ফিরে আসবেন তাঁরা। এর পর তৃতীয় ধাপ আর্টেমিস-৩ মহাকাশচারীদের নামাবে চাঁদের মাটিতে।