সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যায়নি। তবে মার্চেই রয়েছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তা দেখা থেকে এ দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন না। কম সময়ের জন্য হলেও ওই চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন এ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষজন।
চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে।
সূর্যগ্রহণ যেমন খালি চোখে দেখা যায় না, চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও সমস্যা নেই। রাতে আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যায়। চন্দ্রগ্রহণ চলে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে।
আরও পড়ুন:
কখন এবং কোথায় দেখা যাবে?
৩ মার্চ পৃথিবীর যে যে দিকে রাত থাকবে, সেখান থেকে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। ভারত থেকেও দেখা যাবে। তবে কম সময়ের জন্য।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। তবে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে তা দেখা যাবে না। আমেরিকার পশ্চিমের স্টেটগুলিতে সেই গ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ ভোর ৪টে ৪ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত (আমেরিকার সময়)।
ভারতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ বিকেল ৪টে ৫৮ মিনিট থেকে (ভারতীয় সময়)। দেশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে। খণ্ডগ্রাস দেখা যাবে রাত ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত।
আরও পড়ুন:
পূর্ণগ্রাস যখন চলবে, তখন ভারতের অনেক জায়গাতেই সন্ধ্যা নামবে না। সে ক্ষেত্রে ওই সব জায়গা থেকে পূর্ণগ্রাস না-ও দেখা যেতে পারে। কলকাতায় ওই দিন সূর্যাস্ত হবে ৫টা ৩৪ মিনিট নাগাদ। তার পরেই হবে চন্দ্রোদয়। ফলে পূর্ণগ্রাস বাংলা থেকে দেখা যাবে না। দিল্লি এবং নয়ডায় ওই দিন চন্দ্রোদয় হবে ৬টা ২৬ মিনিটে। তার অনেক আগে থেকেই চাঁদে গ্রহণ লেগে যাবে। সেখানকার মানুষজন খুব বেশি সময় গ্রহণ দেখতে পারবেন না। তবে একেবারে বঞ্চিতও হবেন না। যদিও আকাশ মেঘলা থাকলে গ্রহণ দেখার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
কেন পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের রং লাল হয়?
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে (তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়), তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনও কালো দেখায় না।