ভাত, মাছের ঝোল আর কাছের মানুষ—জন্মদিনে এটুকু পেলেই আমার মামণি খুশি। খুব বেশি কিছুর চাহিদা নেই। আসলে অনেক দিন পর্যন্ত তো এটাই বুঝতাম না যে, মামণি আসলে কে। এমন বড় মাপের অভিনেত্রী। বাড়িতে আসলে কখনও বুঝতেই দেননি কিছু। ঠাকুরমা-নাতনির যেমন আদর, ভালবাসা আর শাসনের সম্পর্ক হয়, আমাদেরও খানিকটা তেমন। তবে মামণির থেকে আমি অনুশীলন শিখেছি।
মজার বিষয় হল আমার মতো আমার ছেলে ওশ-ও মামণি বলেই ডাকে। মামণির জন্মদিন, তাই ওশ কিছুতেই স্কুলে যেতে রাজি নয়। ছোট মাছ ভালবাসে মামণি। ভেবেছি আজ এই রান্নাই করব। বাড়তি বলতে একটু মাছের মাথা দিয়ে ডাল হবে। জন্মদিন হলেও মামণিকে কখনও বেশি খাওয়াদাওয়া করতে দেখিনি। সন্ধেবেলা হয়তো কিছু লোকজন আসবেন। আসলে খুব বেশি আড়ম্বর আমাদের কারও পছন্দ নয়। তাই এ দিনও যে খুব মাতামাতি হবে, তা নয়।
অনেকে অনেক ধরনের উপহার দেন। আমি মামণিকে কী উপহার দিই, তা শুনলে সবাই একটু অবাকই হবেন। আসলে মামণি খুব বেশি দামি উপহার উপভোগ করেন না। একটা সর্ষের তেলের প্যাকেট, বাসন মাজার সাবান— এমনই কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস তত্ত্বের মতো সাজিয়ে উপহার দিই। কেউ হয়তো ভাবতেই পারবেন না এমন জিনিস উপহার দেওয়ার কথা। ছোট থেকে এতটাই সাধারণ ভাবে দেখেছি ওঁকে, তাই অন্য ভাবে কিছু ভাবতেই পারি না।
আমাদের চারতলা বাড়িতে সদ্য লিফ্ট বসেছে। মামণি কিন্তু এখনও সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করেন। এগুলোই প্রতিনিয়ত শিখি। আবার ওশের সঙ্গে যখন ওঁকে দেখি, পুরো শিশুর মতো লাগে। একসঙ্গে লুডো, কাটাকুটি খেলে। আবার খুনসুটিও চলে দু’জনের। একদিকে যেমন শুটিং, অন্যদিকে আবার বাড়ির দিকেও সমান নজর। এখনও ডিমের ঝোল রান্না হওয়ার আগে বলেন, সিদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়াতে যেন ওঁকেই দেওয়া হয়। কারণ, বাকিরা নাকি খোসা ছাড়াতে গিয়ে অর্ধেক ডিম ফেলে দেয়! এই বয়সেও মামণির যে এতটা নজর, সেটাই আমার প্রাপ্তি। আমার মামণি যেন সুস্থ থাকে, এটা ছাড়া আমার আর প্রার্থনা করার কিছু নেই।