দোহায় ভারত বনাম কাতার ম্যাচ শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহালি টুইট করেছিলেন, ‘‘চলো ব্লু টাইগার্স। ভারতীয় দলের জন্য রইল শুভেচ্ছা।’’

মঙ্গলবার দোহার জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে এশীয় চ্যাম্পিয়ন কাতারকে রুখে দিয়ে গুরপ্রীত সিংহ সাঁধুরা যেন বার্তা দিয়ে রাখলেন, তাঁদের খাটো নজরে দেখলে ভুল হবে।

ম্যাচের পরে মাঠেই উল্লাস শুরু করে দেন উদান্ত সিংহ, সন্দেশ ঝিঙ্ঘানরা। মাঠে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকদের দিকে ছুটে যান ফুটবলারেরা। দু’হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেন তাঁরা। তার পরে হাততালি দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠেন। সাইড লইনের ধারে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্তিমাচ ফুটবলারদের সঙ্গে হাতও মেলান। সাপোর্ট স্টাফও ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

অসুস্থতার কারণে তিনি মঙ্গলবার ছিলেন মাঠের বাইরে। কিন্তু সতীর্থদের অবিশ্বাস্য লড়াই দেখে মুগ্ধ সুনীল ছেত্রী। ম্যাচ গোলশূন্য শেষ হওয়ার পরেই সুনীল টুইট করেন, ‘‘প্রিয় ভারতবাসী এটাই আমার দল এবং এরাই হল আমার সতীর্থ। এই মুহূর্তে আমি যে কতটা গর্বিত, তা ভাষায় বলে বোঝাতে পারব না।’’ সুনীল টুইটারে আরও লিখেছেন, ‘‘পয়েন্ট টেবলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে গেলে হয়তো এই ফলাফল তেমন কোনও বড় ঘটনা নয়। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের জায়গা থেকে দেখলে, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। এই লড়াইয়ের তুলনা হয় না। এই ফলের প্রশংসা প্রাপ্য কোচিং স্টাফ এবং ড্রেসিংরুমেরও।’’ আর এক জাতীয় ফুটবলার জেজে লালপেখলুয়া টুইট করেছেন, ‘‘ছেলেরা অসাধারণ খেলেছো। দুর্দান্ত লড়াই।’’

যাঁর হাতে মঙ্গলবার আটকে গেল এশীয় চ্যাম্পিয়নরা, সেই গুরপ্রীত সিংহ সাঁধু ম্যাচের পরে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে এ ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দলের প্রত্যেক ফুটবলারের জন্য খুব গর্বিত। আমরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পেরেছি।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘দেশের বাইরে খেলতে এসেও যে অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি গ্যালারি থেকে, তা বলে বোঝাতে পারব না। ভারতীয় দর্শকদের সেই  উৎসাহ সারা ম্যাচে আমাদের লড়াই করার শক্তি দিয়েছে। আমরা জীবন পণ করে লড়াই করেছি। তার জন্যই হাসিমুখে দেশে ফিরতে পারছি। এই এক পয়েন্টও মূল্যবান।’’