বিশাখাপত্তনমে জেতার সুযোগ অল্পের জন্য হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পুণেতে শনিবার অবশেষে সেই জয় পেল ক্যারিবিয়ানরা। জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দান্ত জয়ের ফলে শেষ দুই ম্যাচের আগে জমে গিয়েছে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ একদিনের সিরিজ।

টেস্ট সিরিজ যদিও ভারতের পক্ষে খুব একপেশে ছিল। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেট শুরু হতেই ফের ছন্দে দেখা যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের। জেসন হোল্ডারের অধিনায়কত্বও দেখার মতো। একই সঙ্গে শেই হোপ, শিমরন হেটমায়ার অ্যাশলে নার্সরাও দেখিয়ে দিচ্ছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের মহিমা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ঠিক মতো চালনা করা হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই তরুণ ক্রিকেটাররাই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী পতাকা দীর্ঘ দিন বহন করে নিয়ে যাবে। আমি মনে করি, দল নির্বাচন নিয়ে জটিলতা যদি কেটে যায়, তা হলে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজই ফের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠবে। 

বিশেষ করে বলতে হবে হোপ এবং হেটমায়ারের কথা। ভারতের মাটিতে ভারতীয় স্পিনারদের ওরা কিন্তু দুর্দান্ত খেলছে। যা অতীতে দেখাতে পারেনি অন্য দেশের নাম করা অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়ই।

আরও পড়ুন: নেটে স্ফুলিঙ্গ ফেরানোর চেষ্টা মরিয়া ধোনির

এ বার আসি ভারতের ব্যাপারে। সোজা কথায়, ফের এই সিরিজটাও বিরাট কোহালি শো হতে চলেছে। বিরাটের প্রতিভা নিয়ে প্রশংসা করার আর কোনও শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। কেউ বলছেন, ওর প্রতিভা ব্র্যাডম্যানের মতো, কেউ বলছেন, সচিনের একশোটি শতরানের রেকর্ড ও ভেঙে দেবে। কেউ ওর মধ্যে ব্রায়ান লারা ও ভিভ রিচার্ডসের মতো আগ্রাসী মেজাজ খুঁজে পাচ্ছেন। আমার মতে এই সব পরিসংখ্যানকে এক পাশে সরিয়ে রেখে বিরাটের এই আকর্ষণীয় ব্যাটিং উপভোগ করা উচিত। একই সঙ্গে লক্ষ করার ব্যাপার, প্রতিটি ম্যাচেই কী রকম রানের খিদে নিয়ে মাঠে নামে ভারত অধিনায়ক বিরাট।

এর পাশাপাশি, বেশ কয়েকটা বিষয় ভাবা উচিত ভারতের। আমি এখনও মনে করি, কে এল রাহুলের বাইরে বসে থাকার কোনও কারণ নেই। যশপ্রীত বুমরা ফের প্রমাণ করল ওর বিশেষত্ব। বোঝাল, বল হাতে কেন ও আলাদা। কিন্তু একই সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টকে দেখতে হবে শেষ তিন ম্যাচে বিপক্ষ কিন্তু ভারতের মাটিতেই ৯০০ রানের বেশি তুলেছে। মিডল অর্ডারকেও ভাল খেলতে হবে। নির্বাচকদের এ ব্যাপারে ভাবা উচিত। 

(গেমপ্ল্যান)