অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেও চেন্নাই সুপার কিংসকে জেতাতে পারলেন না মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল ২৬ রানের। একটি চার, তিনটি ছয়ের সাহায্যে পাঁচ বলে ২৪ রান তুলে ফেলেন ধোনি। শেষ বলে দরকার ছিল দুই রানের। কিন্তু উমেশ যাদবের ষষ্ঠ বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি ধোনি। বাই রান নিতে ছোটেন সিএসকে-র দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু পার্থিব পটেলের ছোড়া থ্রো যখন স্টাম্পে এসে লাগে, শার্দূল ঠাকুর ক্রিজে পৌঁছতে পারেননি।

৪৮ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত ধোনি। মারলেন পাঁচটি চার এবং সাতটি ছয়। আইপিএলে এ দিন সর্বোচ্চ রানও করে ফেললেন। তবে শেষরক্ষা হল না। সিএসকে অধিনায়ক দেখলেন, বিরাট কোহালির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচ জিতল এক রানে। প্রথমে ব্যাট করে কোহালিরা করেন সাত উইকেটে ১৬১। চেন্নাই থেমে গেল আট উইকেটে ১৬০ রানে। 

আরও পড়ুন: দল নির্বাচন না মানসিকতা, ঠিক কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে প্রায় ছিটকে যাওয়া নাইটদের

আগের ম্যাচে কোমরের চোটের জন্য বিশ্রামে ছিলেন ধোনি। এই ম্যাচে ফিরে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস উপহার দিলেন চিন্নাস্বামীর দর্শকদের। রান তাড়া করতে নেমে ডেল স্টেনের বিধ্বংসী গতির সামনে উইকেট হারাতে থাকে চেন্নাই। কিন্তু লড়াইটা একাই বিপক্ষ শিবিরে নিয়ে যান ধোনি। কিছুটা সাহায্য করেছিলেন অম্বাতি রায়ডু। শেষ ওভার পর্যন্ত বিশ্বাস করা যায়নি, এই ম্যাচে এমন লড়াই হতে পারে। বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সেরা ফিনিশার কেন তাঁকে বলা হয়, তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ধোনি। বিশ্বকাপের আগে ধোনির এই ফর্ম কিন্তু স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ম্যাচের পরে কোহালি এগিয়ে এসে অভিনন্দন জানিয়ে গেলেন  ধোনিকে। তবে এ রকম ইনিংস খেলেও ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাননি ধোনি। সেরার পুরস্কার দেওয়া হল পার্থিব পটেলকে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা হচ্ছে, জয়ী দলের ক্রিকেটারের হাতে ম্যাচের সেরার পুরস্কার তুলে দেওয়ার এই রীতি এখনও চলছে।        

 আগের ম্যাচে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি করে আসা কোহালি অবশ্য রান পাননি এই ম্যাচে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিনের তৃতীয় ওভারেই দীপক চাহারের বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান কোহালি (৯)। 

অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার পরে একমাত্র পার্থিব পটেলই (৩৭ বলে ৫৩) ভাল রান করেন। আগের ম্যাচে চোটের কারণে বিশ্রামে থাকা এ বি ডিভিলিয়ার্স এ দিন ২৫ করে আউট হয়ে যান। শেষ দিকে ১৬ বলে ২৬ করে যান মইন আলি। ইডেনের ম্যাচে দুরন্ত খেলে আসা মইনকে কেন এ দিন ছ’নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হল, তা বিস্মিত করেছে অনেককেই। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে আরসিবি তোলে সাত উইকেটে ১৬১। ধোনির দলের হয়ে দুটো করে উইকেট নিয়েছেন চাহার, জাডেজা এবং ডোয়েন ব্র্যাভো। চোটের কারণে বেশ কিছু দিন বাইরে থাকার পরে মাঠে ফিরলেন ব্র্যাভো।

প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে অসহায় আত্মসমর্পন করেছিল বিরাট-বাহিনী। যে হারের পরে আরও পাঁচটি ম্যাচে হারতে হয়েছিল আরসিবি-কে। এ বার ধোনির দলের বিরুদ্ধে নামার আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে জিতে এসেছিল আরসিবি। যে ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন কোহালি। 

রবিবার টস হওয়ার পরে কোহালি বলেন, ‘‘পিচ দেখে একটা ব্যাপার পরিষ্কার। এখানে যে দলটা ভাল খেলবে, তারাই জিতবে। আগের ম্যাচেও তাই হয়েছে। আমরা ভাল খেলেছিলাম বলেই জিতেছি।’’ টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পিছনে একটা কারণের কথাই বলেন ধোনি, ‘‘এখনই মাঠ বেশ ভিজে ভিজে লাগছে। পরের দিকে শিশির আরও পড়বে,’’ বলেছিলেন সিএসকে অধিনায়ক। 

হিসাবে ভুল ছিল, বলছেন  অধিনায়ক

রাজসিক ইনিংস উপহার দিয়েও এক রানে হার! চেন্নাই সুপার কিংস ভক্তেরা হতাশায় কপাল চাপড়ালেও তিনি শান্তই থাকছেন।
রবিবার ম্যাচের পরে ধোনি জানিয়ে গেলেন, হিসেবে সামান্য ভুলের কারণে হারতে হয়েছে। বলেছেন, ‘‘আমরা তো অনেক কম রানের মধ্যেই আটকে দিয়েছিলাম আরসিবিকে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হিসেবটাই আসল ব্যাপার। সেখানে ঝুঁকি নিতেই হয়। আমাদের সেই হিসেবে একটু ভুল হয়েছিল বলে ম্যাচটা বেরিয়ে গেল।’’ যোগ করেছেন, ‘‘চেষ্টা করেছিলাম। রাতের শিশিরে একটু সমস্যা হচ্ছিল। তাই শেষ বলে পৌঁছে হারলাম।’’ তবে ধোনি মানছেন, তাঁর দলের ফিল্ডিং আশাব্যঞ্জক হয়নি। বলেছেন, ‘‘বেশ কিছু বাজে বাউন্ডারি দিয়েছি আমরা। তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’’