হ্যামিল্টনে ভারত হারলেও চর্চায় সেই মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। কোথাও আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর ক্ষিপ্রতা, কোথাও দেশপ্রেম।  

নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার যখন জমে গিয়েছেন, তখন কুলদীপ যাদবের বলে টিম সাইফার্টকে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পড করেন ধোনি। সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সতর্কবাণী, ‘সাবধান, উইকেটের পিছনে কিন্তু ধোনি। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ো না।’ সাইফার্ট বেরোননি। তাঁর পা এক চুলের জন্য নিরাপদ এলাকার বাইরে ছিল। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বেল ফেলে দেন ধোনি। তৃতীয় আম্পায়ারকে ছবি ‘জুম’ করে বুঝতে হয়, পা লাইনে রয়েছে, ভিতরে নয়। 

এর পরের ঘটনা অবশ্য ঠিক ক্রিকেটীয় নয়। নিউজ়িল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় হঠাৎ দেখা যায়, এক দর্শক মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁর হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা। ওই অবস্থায় সেই দর্শক ছুটে এসে ধোনিকে প্রণাম করতে যান। ধোনি যখন দেখেন, জাতীয় পতাকা প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, তিনি দ্রুত সেটি তুলে নেন। এই ঘটনার ভিডিয়ো টুইটারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।  ধোনি এ দিন প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনশো টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেললেন। তাঁর মোট রান ৬১৩৬। গড় ৩৮.৩৫। রয়েছে ২৪টি হাফসেঞ্চুরি। তার পিছনে আছেন রোহিত শর্মা। যিনি ২৯৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে টি-টোয়েন্টিতে সব চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন কায়রন পোলার্ড (৪৪৬)।

তবে ধোনির ক্ষিপ্রতা বা দেশপ্রেম, কিছুই জেতাতে পারেনি ভারতকে। চার রানে হারতে হয় শেষ টি-টোয়েন্টি। জেতা হল না সিরিজও। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ধোনি। তিনি মাত্র চার বল খেলে দু’রান করে ড্যারিল মিচেলের বলে আউট হয়ে যান।

ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা অবশ্য বলেছেন, এই হার থেকে শিক্ষা নিতে চান তাঁরা। ম্যাচের পরে টিভি-তে রোহিত বলেন, ‘‘আমরা হেরে গেলেও নিউজ়িল্যান্ড সফরে অনেক ইতিবাচক দিকও আছে। ওয়ান ডে সিরিজটা আমরা খুব ভাল খেলেছি। টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরে গেলেও ছেলেরা লড়াই করেছে। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’’ রবিবারের ম্যাচ নিয়ে ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘২১২ রান তাড়া করাটা সব সময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিলাম। ছেলেরা ওদের ইয়র্কারগুলো দারুণ মারছিল।’’ এ বার ঘরের মাঠে সামনে অস্ট্রেলিয়া।  যেখানে দু’টি টি-টোয়েন্টি এবং পাঁচটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলতে হবে ভারতকে।