• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিরাট-বাণ, অস্ট্রেলিয়াকে তো চিনি!

Virat
মরিয়া: বিপক্ষের রান আটকানোর চেষ্টা ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির। শনিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে। এপি

মাঠের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার আচরণ নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই বিরাট কোহালি বলে দিলেন, তিনি আগ্রাসী অস্ট্রেলিয়াকে দেখারই আশা করছেন। কোহালি মনে করছেন, যতই কথাবার্তা চলুক, অস্ট্রেলীয়দের আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষায় কোনও পরিবর্তন হবে না। তাঁদের তীব্রতাও কমবে না। 

তবে ভারত অধিনায়ক এটাও বিশ্বাস করছেন যে, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানে-সমানে টক্কর দিয়ে প্রথম বার কোনও ভারতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ জেতার ক্ষমতা তাঁদের আছে। সিডনিতে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ করে রবিবার অ্যাডিলেড পৌঁছচ্ছে ভারতীয় দল। চলতি বছরে তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় ১-২ এবং ইংল্যান্ডে ১-৪ সিরিজ হেরেছে। অস্ট্রেলিয়ায় সমীকরণ পাল্টানোর দিকে তাকিয়ে বিরাটরা। 

দু’টো সিরিজেই তুল্যমূল্য লড়াই করলেও স্কোরলাইনে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ভারত। নিজের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, হার-না-মানা মনোভাব দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া অধিনায়ক মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় চারটি টেস্ট ধরে যে কোনও রকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মতো মানসিক শক্তি তাঁর দলের রয়েছে। ‘‘চার বছর আগে এখানে এসেছিলাম আমরা। গত চার বছর ধরে যে রকম অভিজ্ঞতা এবং শক্তি আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে মাথায় রেখে আমি নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি যে, বিদেশের মাঠে টেস্ট জেতার সমস্ত দক্ষতা আমাদের আছে,’’ অস্ট্রেলিয়ার একটি রেডিয়ো নেটওয়ার্ককে বলেছেন কোহালি। যোগ করছেন, ‘‘তবে আশা করব, শুধু একটা-দু’টো টেস্ট নয়, এ বারে আমরা পুরো সিরিজই জিততে পারব। শুধু একটা বা দু’টো উত্তেজক টেস্ট আর আমরা চাই না। ধারাবাহিক ভাবে সফল হতে চাই। প্রত্যেকটা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পরিশ্রম করে যেতে চাই, কখনও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাই না। যাতে অন্তিম ফলটা আমরা পাই।’’ আত্মবিশ্বাসী কোহালি বলে দিচ্ছেন, তাঁর কথাকে বাস্তবে পরিণত করার মতো সব রসদ দলে মজুত আছে। ‘‘স্কিল, অভিজ্ঞতা, মানসিকতা, ফর্ম। আমার বিশ্বাস, কোনওটাতেই পিছিয়ে নেই আমাদের দল,’’ মন্তব্য তাঁর। 

আরও পড়ুন: স্টিভের বাজি ভারতই, সেরা বোলিং বিভাগ, বলছেন লসন

বল-বিকৃতি কেলেঙ্কারি উত্তর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের মতো তারকা নির্বাসনের সাজা খাটছেন। কথা উঠেছে, স্লেজিংয়ের পরম্পরা শেষ করে ভদ্রসভ্য ক্রিকেট খেলো। মাইকেল ক্লার্কের মতো কয়েক জন প্রাক্তন যা নিয়ে বলেছেন, সভ্য ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়া কিছু করতে পারবে না। সেই পুরনো আগ্রাসী মেজাজটাই চাই। 

আরও পড়ুন: চেন্নাই দুর্গে সুদীপ-প্রদীপ্ত জুটিতে এল রুদ্ধশ্বাস জয়

কোহালি এমন এক জন চরিত্র, যাঁর সঙ্গে বার বার অস্ট্রেলীয়দের সংঘাত হয়েছে। নির্বাসিত স্টিভ স্মিথের সঙ্গেই ভারতের মাটিতে হওয়া সিরিজে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ হয়েছিল স্মিথ ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে রিভিউয়ের ব্যাপারে সাহায্য নিতে চাওয়ায়। সেই কোহালিই বলছেন, ‘‘গত সিরিজে যা সব ঘটেছে, তা হয়তো এ বার দেখা যাবে না। কিন্তু ওদের শরীরী ভাষা এবং তীব্রতায় কোনও পার্থক্য দেখব বলে মনে হয় না। অস্ট্রেলিয়া বরাবরই সে ভাবে ক্রিকেট খেলেছে এবং এ বারও খেলবে,’’ মন্তব্য ভারত অধিনায়কের। এখানেই না থেমে যোগ করছেন, ‘‘আগ্রাসী ক্রিকেটের বাইরে অন্য কোনও ভাবে অস্ট্রেলীয়রা খেলতে পারে বলে আমার জানা নেই। কোনও বিতর্কিত ঘটনা হয়তো ঘটল না। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তীব্রতা বা আগ্রাসন কমবে বলে মনে করি না।’’   

সাম্প্রতিক অতীতে বিদেশ সফরে সুযোগ তৈরি করেও হেলায় তা হারিয়েছে ভারতীয় দল। কোহালি মনে করছেন, কঠিন পরিস্থিতিকে সামলানোর ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে তাঁদের। বলছেন, ‘‘কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরীক্ষা দিতে হয় টেস্ট ক্রিকেটে। আমরা সেই সব জায়গায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। খারাপ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও খারাপ করে তুলেছি। সেটা হতে দেওয়া যাবে না।’’ আরও বলছেন, ‘‘আমরা জানি বিদেশের মাঠে কয়েকটি মুহূর্তে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়েও ভাল ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু মোক্ষম সময়ে ভুল করে ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছি। খুব বড় ধরনের ভুল তাই করা চলবে না। ভুলের মাত্রা কমাতে হবে আমাদের।’’ 

কী ভাবে বেরনো যাবে কঠিন মুহূর্তগুলোতে? কোহালির দাওয়াই, ‘‘প্রতিপক্ষ যখন ভাল করছে, তখন তাদের থামিয়ে ম্যাচের রং পাল্টে দিতে হবে। গতিপথটাকে ওদের দিক থেকে আমাদের দিকে ঘোরাতে হবে। আর সেটা করতে গেলে আমাদের স্থিরতা আনতে হবে, দৃঢ় মনোভাব নিয়ে ওদের কাবু করার চেষ্টা করে যেতে হবে। সেই প্রক্রিয়া মন্থর হোক ক্ষতি নেই, কিন্তু হতে হবে অদম্য।’’   

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন