Advertisement
E-Paper

সুপার কাপ নিয়ে সংশয়ের মেঘ এখনও থাকছে

সুপার কাপ নিয়ে জটিলতা কেটেও যেন কাটছে না। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে গেল প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে। 

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৪:০০

সুপার কাপ নিয়ে জটিলতা কেটেও যেন কাটছে না। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে গেল প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল্ল পটেল আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ায় বিদ্রোহ ভুলে সুপার কাপ খেলতে রাজি হয় আই লিগের ক্লাব জোট। বৃহস্পতিবারই ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে অনুরোধ করে নতুন ক্রীড়াসূচি তৈরি করার। কারণ, মিনার্ভা এফসি, আইজল এফসি ও গোকুলম এফসি যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে দল না নামানোয় ওয়াকওভার দিয়ে দেওয়া হয় পুণে সিটি এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি ও দিল্লি ডায়নামোজ এফসি-কে। আই লিগের ক্লাব জোটের দাবি, সব দলকে নিয়ে নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু করতে হবে। কিন্তু এ বার বেঁকে বসেছে আইএসএলের দলগুলো। কোনও অবস্থাতেই রি-প্লে খেলতে রাজি

নয় তারা।

শুক্রবার বিকেলে দিল্লি থেকে ফোনে ফেডারেশন সচিব বললেন, ‘‘ওয়াক ওভার দিয়ে দেওয়ার পরে কোনও দলকে ফের ম্যাচ খেলতে বলা অনৈতিক। মিনার্ভা, গোকুলম ও আইজলকে বাদ দিয়ে জোটের বাকি ক্লাবগুলোকে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, নতুন ক্রীড়াসূচি তৈরি করা সম্ভব নয়। রি-প্লেও দেওয়া হবে না।’’ ক্লাব জোটের কর্তারা কি রাজি? ফেডারেশন সচিব বললেন, ‘‘শনিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ওঁদের জানাতে বলেছি সুপার কাপে খেলবে কি না।’’

ফেডারেশনের চিঠি পাওয়ার পরেই আলোচনা শুরু করেন আই লিগের ক্লাব জোটের কর্তারা। তাঁরা বললেন, ‘‘সর্বসম্মত ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেডারেশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’’ আই লিগের ক্লাব জোট যদি ফের না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়? ফেডারেশন সচিব বলে দিলেন, ‘‘সে ক্ষেত্রে ওদের বাদ দিয়েই সুপার কাপ হবে। হয়তো কিছু পরিবর্তন করতে হবে ফর্ম্যাটে। তবে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই। আইএসএলের ফ্যাঞ্চাইজি ছাড়াও ইন্ডিয়ান অ্যারোজ, রিয়াল কাশ্মীর এফসি রয়েছে।’’

সুপার কাপকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত ভারতীয় ফুটবল। লাল-হলুদ শিবিরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্লাব কর্তারা খেলার পক্ষে। কিন্তু বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা রাজি ছিলেন না। পরিস্থিতি এত জটিল হয়ে ওঠে যে, ইস্টবেঙ্গল সভাপতি একাদশ নামেই সুপার কাপে খেলার প্রস্তুতি শুরু করে দেন লাল-হলুদের কর্তারা। প্রাক্তন ফুটবলার চন্দন দাশ ও ফাল্গুনি দত্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয় অনুশীলন করানোর। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। ক্লাব জোটের তরফে ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় সুপার কাপে খেলতে তারা তৈরি। কিন্তু নতুন ক্রীড়াসূচি তৈরি করতে হবে। ফলে সুপার কাপে আই লিগের ক্লাবগুলোর খেলা নিয়ে সংশয় থেকেই গিয়েছিল। শুক্রবার সকালে ক্লাবের মাঠে হীরা মণ্ডল, কৌশিক সরকার, দীপেন্দু দোয়ারিদের নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়েন চন্দন ও ফাল্গুনি। ছিলেন লাল-হলুদের প্রাক্তন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুভাষ ভৌমিক। তিনিও বলেন, ‘‘বিনিয়োগকারী সংস্থা কখনও ক্লাবের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না। কোনও প্রতিযোগিতায় খেলবে কি না, তা ঠিক হবে কর্মসমিতিতে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘ক্লাবের চিঠির জবাব না দিয়ে নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন ওঁরা।’’ তবে ২৮ মার্চ বেঙ্গালুরুতে ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে বোর্ড মিটিংয়ে বসতে রাজি হয়েছেন তাঁরা।

শনিবার সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন মাঠে আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস গার্সিয়াও অনুশীলন শুরু করবেন। তবে খাইমে সান্তোস কোলাদোকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে লাল-হলুদ শিবিরে। পেটে সংক্রমণ হওয়ায় এ দিন তাঁকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। মোহনবাগান অনুশীলন শুরু করবে সোমবার থেকে।

প্রশ্ন উঠছে সুপার কাপে শেষ পর্যন্ত কী নামে খেলবে ইস্টবেঙ্গল? ক্লাব জোট রাজি না হলে কি সভাপতি একাদশ নামে কি খেলা সম্ভব? ফেডারেশন সচিব বলছেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল সভাপতি একাদশ নামে খেলতে পারবে কি না, তা দেখার দায়িত্ব টুর্নামেন্ট কমিটিকে দিয়েছি। ওরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’’

যত কাণ্ড সুপার কাপকে নিয়েই!

AIFF I-League Praful Patel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy