কোরিয়া ওপেনে অঘটনের অন্য নাম এখন অজয় জয়রাম!
কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ছাব্বিশ নম্বরকে ছিটকে দেওয়ার পর জয়রাম এ দিন সেমিফাইনালে বিশ্বের সাত নম্বরকে ধরাশায়ী করে পৌঁছে গেলেন নিজের প্রথম সুপার সিরিজ ফাইনালে। যেখানে তাঁর সামনে বিশ্বের এক নম্বর, চিনের চেন লং।
বেঙ্গালুরুর ছেলে এই টুর্নামেন্টে দুরন্ত ফর্মে। তবু বিশ্বের সাত নম্বর, চিনা তাইপের চউ তিয়েন চেনের বিরুদ্ধে তাঁকে ফেভারিট বলে মনে করেননি কেউ। কিন্তু বিশ্বের বত্রিশ নম্বর কোর্টে নেমে সব হিসাব ওলটপালট করে তেতাল্লিশ মিনিটের যুদ্ধ জিতলেন ২১-১৯, ২১-১৫। জয়রামের এই জয় আরও তাৎপর্যের কারণ চলতি মরসুমে এর আগে দু’বার চেনের সামনে পড়ে দু’বারই হেরেছিলেন। প্রথমটা জার্মানি ওপেনে এবং তার পর যুক্তরাষ্ট্র ওপেন সুপার সিরিজে। সেই পরাজয়ের স্মৃতিই যেন এ দিন বাড়তি তাতিয়ে রেখেছিল সাতাশ বছরের জয়রামকে। কোর্টে শুরু থেকেই প্রবল আক্রমণাত্মক ভারতীয়ের সামনে দিশাহারা হয়ে পড়েন চেন। প্রথম গেমে তবু কিছুটা লড়াই হয়। জয়রাম শুরুতে ১১-৮ এগিয়ে যাওয়ার পর একটা সময় টানা সাত পয়েন্ট নিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন চেন।তাতে আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে উঠে প্রথম গেম ছিনিয়ে নেওয়ার পর ভারতীয় দ্বিতীয় গেমে আর দাঁড়াতেই দেননি প্রতিপক্ষকে।
এর আগে ২০১১ তাইল্যান্ড ওপেন এবং ২০১৩-য় জাপানে চেনকে হারিয়েছিলেন জয়রাম। তবে গত বছর ডাচ ওপেন জেতার পর কাঁধের চোট তাঁকে লম্বা সময় কোর্টের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। প্রতিপক্ষকে ধন্ধে রেখে খেলার ক্ষমতার জন্য ব্যাডমিন্টন বিশ্ব এক সময় প্রকাশ পাড়ুকোনের ছায়া দেখতে পেত যাঁর মধ্যে, সেই জয়রাম র্যাঙ্কিংয়েও একুশ থেকে পিছিয়ে যান বত্রিশে। তবে চোট সারিয়ে ফেরার পর তিনি কতটা ক্ষুধার্ত, সেটা এ মরসুমে বারবার বুঝিয়েছেন মালয়েশিয়া মাস্টার্স গ্রাঁপ্রি গোল্ড, সুইস ওপেন গ্রাঁপ্রি গোল্ড ও রাশিয়া ওপেন গ্রাঁপ্রি-র শেষ চারে পৌঁছে। কিন্তু কিছুতেই শেষ চারের গণ্ডি পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছতে পারছিলেন না। এ দিন কোরিয়ায় সেই বাধা অতিক্রমের কাজটা করে ফেললেন।
সুপার সিরিজের মঞ্চে এটাই তাঁর প্রথম ফাইনাল। চলতি মরসুমে ইন্ডিয়া ওপেন সুপার সিরিজে জিতেছেন সাইনা নেহওয়াল ও কিদাম্বি শ্রীকান্ত। এ বার জয়রামের হাত ধরে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে আরও একটা সুপার সিরিজ খেতাব আসে কি না, সেটা জানতে রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে খেতাবি লড়াইয়ে জয়রামের সামনে বিশ্বের এক নম্বর। ভারতীয়ের কাজটা রীতিমতো কঠিন।
তবু অঘটনের ধারা আরও একটা ম্যাচ বজায় থাকুক, চাইছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনপ্রেমীরা।