তাঁর ইনস্টাগ্রামে চোখ রাখলে তিন দিন আগের একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যাবে, যেখানে লেখা দৌড়বিদ মো ফারাহের একটি উক্তি: ‘জেতার স্বপ্ন দেখো না। সেটার জন্য কঠোর পরিশ্রম করো।’ বাস্তব জীবনেও শুভমিত্রা চট্টোপাধ্যায় সেটাই অনুসরণ করেন। বাঙালি এই ক্রীড়াবিদ সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার জিউনবুকে হয়ে যাওয়া এশিয়া প্যাসিফিক মাস্টার্সে দু’টি পদক জিতে এসেছেন। শনিবার রাতে দেশে ফিরেও ঘোর কাটছে না।
রবিবার আনন্দবাজার অনলাইনকে তিনি বললেন, “ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলো করতে ভালবাসি। নিজেও একটি স্কুলে শারীরবিদ্যার শিক্ষক। তাই খেলাধুলোর সঙ্গে একটা যোগাযোগ রয়েছেই। নিয়মিত নিজে অনুশীলন করি। লকডাউনের সময় সব কিছুই একটু কমে গিয়েছিল। তার পরে আবার কঠোর অনুশীলনে নিজেকে ডুবিয়ে দিই। তার পরে আস্তে আস্তে রাজ্য, জাতীয় স্তর পেরিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক মাস্টার্সে খেলা সুযোগ চলে আসে।”
সাধারণ ক্রীড়াবিদদের তুলনায় বয়স একটু বেশি হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব ছিল না। বছর দুয়েক আগে শুভমিত্রা ঠিক করেন মাস্টার্স ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। স্কুলে ছেলেমেয়েদের শেখানোর ফাঁকে শরীরচর্চা হয়েই যায়। এ ছাড়া শারীরবিদ্যার শিক্ষক হওয়ায় যথাযথ খাবার, পুষ্টিবিদ্যার ব্যাপারগুলোও জানা ছিল। তা ছাড়া শুভমিত্রা নিজে জাতীয় ক্রীড়া ইন্সটিটিউটের শংসাপত্র পাওয়া কোচও।
শুরুটা হয়েছিল রাজ্য স্তর থেকে। তবে বাংলা নয়, তেলঙ্গানার হয়ে। বিয়ের পরে হায়দরাবাদে চলে যান শুভমিত্রা। তাই সেই রাজ্যের হয়েই অংশগ্রহণ করবেন বলে ঠিক করেন। রাজ্য স্তরে রেস ওয়াকিংয়ে সোনা জিতেছেন। গত বছর কেরলে জাতীয় মাস্টার্স গেমস হয়। সেখানে হার্ডলসে রুপো পেয়েছিলেন। তার পর আবার হায়দরাবাদে জাতীয় গেমস হয়। সেখানে ফের রেস ওয়াকিংয়ে সোনা। এতেই এশিয়া প্যাসিফিকে খেলার সুযোগ চলে আসে।
পদক নিয়ে শুভমিত্রা। ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন:
প্রথমে একটু চিন্তিত ছিলেন। বিদেশে গিয়ে ভাল ভাবে পারফর্ম করতে পারবেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু পরিবারের সমর্থন এবং কোচেদের সাহায্য পাওয়ায় চাপ কেটে যায়। সেখানে ৪০০ মিটার হার্ডলসে রুপো পাওয়া ছাড়াও, ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন তিনি। বছর দুয়েক পরে বিশ্ব মাস্টার্স রয়েছে। সেখানে এই সাফল্যকে ধরে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ শুভমিত্রার কাছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
চাকরি এবং সংসারের ফাঁকে কী ভাবে চলে অনুশীলন? শুভমিত্রা বললেন, “প্রতিদিন সকালে সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে উঠে পড়ি। এর পর স্থানীয় মাঠে ২ ঘণ্টা ধরে চলে অনুশীলন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত স্কুল থাকে। এর পর বাড়ি।” শুভমিত্রা স্বীকার করেছেন, পরিবারের সমর্থন ছাড়া কোনও ভাবেই সাফল্য সম্ভব ছিল না। এটাও জানালেন, ভবিষ্যতে কোনও দিন বাংলার হয়ে মাস্টার্স গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ এলে হাতছাড়া করবেন না।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোড়া সাফল্য পাওয়া শুভমিত্রা অবশ্য এখানেই থামতে চান না। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়। শুধু পদক জেতা নয়, অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসাবেও নতুন নতুন প্রতিভা তুলে আনতে চান। মো ফারাহ তো বলেছেনই ‘কঠোর পরিশ্রমের’ কথা।