Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

ব্রাজিল শিবিরে যেন ‘ঘরে’ ফেরার আনন্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা
২৪ অক্টোবর ২০১৭ ০৩:৪৫
শনিবার বেশি রাতে কলকাতায় পাওলিনহোরা। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

শনিবার বেশি রাতে কলকাতায় পাওলিনহোরা। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

যুবভারতীতে ফের হলুদ ঝড়ের অপেক্ষায় ব্রাজিল ভক্তরা।

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে নাটকীয় পরিবর্তন!

গুয়াহাটির বদলে বুধবার কলকাতাতেই হবে ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড মহারণ।

Advertisement

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের জন্য কলকাতায় প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লোস আমাদেউ। কিন্তু দুর্গাপুজোর জন্য বাধ্য হয়েই মুম্বই শিবির করেছিলেন তিনি। চব্বিশ ঘণ্টা আগে জার্মানির বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর যুবভারতীর উন্মাদনা দেখে অভিভূত ব্রাজিল শিবির। আর তাই গুয়াহাটিতে মাঠ নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই কলকাতায় সেমিফাইনাল খেলায় জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন কার্লোস!

রবিবার যুবভারতীর ড্রেসিংরুমেই পিৎজা খেয়ে জার্মানি বধের উৎসবে মেতেছিল পাওলো হেনরিক সাম্পাইও ফিলপো (পাওলিনহো), লিঙ্কন ডস স্যান্টোস-রা। ব্রাজিল শিবিরে এমনিতে খাওয়াদাওয়া নিয়ে প্রচণ্ড কড়াকড়ি। দলের সঙ্গে আসা রাঁধুনির রান্না ছাড়া অন্য কোনও খাবার মুখে তোলেন না ফুটবলাররা। এক মাত্র ম্যাচের দিনেই কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়। রবিবার জার্মানির বিরুদ্ধে হাফটাইমের সময় ড্রেসিংরুমে পৌঁছে গিয়েছিল পিৎজা। তবে ক্লান্ত থাকায় রবিবার টিম হোটেলে ফিরে আর পার্টি করতে পারেনি পাওলিনহো-রা।

আরও পড়ুন: সেমিফাইনাল উপহার কলকাতাকে, চিন্তা টিকিট নিয়েই

সোমবার সকাল দশটা চল্লিশের উড়ানে গুয়াহাটি রওনা হয় ব্রাজিল। যদিও ফুটবলারদের মনে পড়েছিল কলকাতায়। পাওলিনহো থেকে অ্যালান সৌজা— যুবভারতীর উন্মদনায় মুগ্ধ হয়ে বলেছে, ‘‘মনে হচ্ছে না আমরা বিদেশি রয়েছি। নিজেদের ঘরের মাঠেই যেন খেলছি।’’ কিন্তু ক্রীড়াসূচি অনুযায়ী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলকে সেমিফাইনাল খেলতে হতো গুয়াহাটিতে।

সোমবার দুপুরে ব্রাজিল গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। গত শনিবার ঘানা বনাম মালি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পরেই গুয়াহাটির মাঠ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন দুই দলের কোচ। একই ছবি ব্রাজিল শিবিরেও। এ দিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ স্টেডিয়ামে যান কার্লোস। সঙ্গে ছিলেন সহকারী কোচ গুইলেরমে দাল্লা দেয়া ও সুপারভাইজার ফ্যাসিনি। মাঠের বেহাল অবস্থা থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গেই ফিফাকে জানিয়ে দেন, এই মাঠে খেলতে তাঁরা রাজি নন। এর পরেই ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ফিফা কর্তারা। তাঁরা মুম্বইয়ে ম্যাচ স্থানান্তরিত করার প্রস্তাব দেন। ফিফার যুক্তি, ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে আগামী বুধবার অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে, স্পেন ও ইরান। ফলে সাংগঠনিক দিক থেকে ওই মাঠে ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ আয়োজন করা অনেক সুবিধেজনক।

সকাল ৯.০০

গুয়াহাটির রাজীব গাঁধী আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠ পরিদর্শনে গেল অনূর্ধ্ব-১৭ ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি দল।

দুপুর ১২.০০

জার্মানি বধ করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি পৌঁছল চনমনে ব্রাজিল দল।

দুপুর ২.৫০

মাঠ শুকনো করতে নামানো হল হেলিকপ্টার। ভূপেন হাজারিকা ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে নিয়ে আসা হল সুপারসপার।

বিকেল ৩.৩০

সহকারী গুইলেরমে দাল্লা দেয়া ও সুপারভাইজার ফ্যাসিনি-কে নিয়ে মাঠ পরিদর্শনে গেলেন ব্রাজিল কোচ কার্লোস আমাদেউ।

বিকেল ৩.৪৫

ব্রাজিল শিবিরের তরফে ফিফাকে জানিয়ে দেওয়া হল, রাজীব গাঁধী আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠ খেলার অযোগ্য।

বিকেল ৪.০০

স্টেডিয়ামেই ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ফিফা কর্তাদের। যুবভারতীতে ম্যাচ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

বিকেল ৫.৩০

অনুশীলন বাতিল করে দিলেন ব্রাজিল কোচ। গুয়াহাটির টিম হোটেলেই ‘রিকভারি সেশন’ চলল পাওলিনহো, লিঙ্কন-দের।

সূত্রের খবর, ফিফা কর্তাদের প্রস্তাব ইংল্যান্ড মেনে নিলেও আপত্তি জানান ব্রাজিল কোচ। তিনি কলকাতাতেই ম্যাচ দেওয়ার দাবি জানান। কার্লোসের যুক্তি, গুয়াহাটি থেকে উড়ানে মুম্বই পৌঁছতে সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কিন্তু কলকাতায় পৌঁছে যাওয়া যায় এক ঘণ্টারও কম সময়ে। তাই ফুটবলারদের কথা ভেবে কলকাতায় ম্যাচ স্থানান্তরিত করা উচিত। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল কোচের দাবিই মেনে নেন ফিফা কর্তারা।

কলকাতায় সেমিফাইনাল চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পরেই টিম হোটেলে ফিরে ইংল্যান্ড বধের প্রস্তুতি শুরু করে দেন ব্রাজিল কোচ। তবে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটির মাঠে অনুশীলন করতে নামেনি ব্রাজিল দল। টিম হোটেলেই পাওলিনহো-দের চলে রিকভারি সেশন। রাতেই কলকাতায় পৌঁছে গেল পাওলিনহো-রা।

যুবভারতীতে ম্যাচ স্থানান্তরিত হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য তো বলেই দিলেন, ‘‘আমরা দারুণ খুশি, ম্যাচটা আমরা কলকাতায় খেলব।’’

কলকাতার প্রতি দুর্বলতার কারণ কী? জার্মানিকে হারিয়ে অ্যালান বলেছিল, ‘‘কলকাতায় যে এত ব্রাজিলের সমর্থক থাকতে পারেন কল্পনাও করতে পারিনি। ওঁরাই আমাদের অনুপ্রেরণা।’’

বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীরাও এই অপেক্ষাতেই ছিলেন।

আরও পড়ুন

Advertisement