Advertisement
E-Paper

তরজা থাকুক গ্যালারিতে, বন্ধুত্বই আসল

লাল-হলুদ, সবুজ-মেরুন দুই জার্সি একই ব্যাগে ভাঁজ করে রাখা। দুই দলের সমর্থকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের গ্যালারি আলাদা হলেও, স্টেডিয়াম লাগোয়া যুব আবাসের ঘর একই। ওঁরা সকলেই বাগুইহাটির বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে এগারো জনের দল শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছেছে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০১

লাল-হলুদ, সবুজ-মেরুন দুই জার্সি একই ব্যাগে ভাঁজ করে রাখা। দুই দলের সমর্থকদের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের গ্যালারি আলাদা হলেও, স্টেডিয়াম লাগোয়া যুব আবাসের ঘর একই। ওঁরা সকলেই বাগুইহাটির বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে এগারো জনের দল শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছেছে। আজ সকালে স্টেডিয়ামের ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে চলে যাবে ওদের আট জন, বাকি দু’জনের টিকিট মোহনবাগান গ্যালারিতে। তবে ওঁরা জানালেন, ঝগড়া-ঝাঁটি সবই ম্যাচের ৯০ মিনিট এবং বড়জোর তার পরের কিছু ঘণ্টা। বাকি সময়টায় ওদের মধ্যে কোনও ঝগড়া নেই!

শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম লাগোয়া যুব আবাসে দেখা গেল তেমনই ছবি। যুব আবাসের একটি ঘরেই দেখা মিল ওদের সকলের। ম্যাচের উত্তেজনায় সকলেই নিজের দলের জার্সি গায়ে। বিছানায় কাগজ পেতে মুড়ি-চানাচুর। মুড়ি নিতে গিয়ে হাতে হাত লেগে যাচ্ছে দু দলের সমর্থকদের। গল্পে আড্ডায় হাসিতে এক দলের সমর্থক আরেক দলের সমর্থকের গায়ে ঢলে পড়তে দেখা গেল, কখনও আবার হাসির কথায় হাততালি দিল। হাওড়া পুরসভার কর্মী সানি সরকার বা অটো চালক সুজয় ঘোষ জানালেন, সারা বছর ধরে ম্যাচ দেখতে বাইরে যাওয়ার জন্য ওঁরা টাকা জমায়। ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখতে কটকেও গিয়েছেন ওঁরা। এর আগে শিলিগুড়িতেও ফেড কাপের ম্যাচ দেখে গিয়েছেন। তবে দুই মোহনবাগান সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ডার্বি দেখথে আসার অভিজ্ঞতা ওদেরও এই প্রথম।

মোহনবাগান সমর্থক বিমা সংস্থার এজেন্ট রাকেশ রায় এবং ইলেকট্রিশিয়ান অভিজিৎ ভট্টাচার্য দাবি করলেন, তাঁরা কোনরকম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন না। এ দিন সকালেই শিলিগুড়িতে পৌঁছেছেন সকলে। দুপুরে নিজের দলের প্র্যাকটিসও দেখতে গিয়েছেন ওঁরা। রাকেশের কথায়, ‘‘আমাদের শিলিগুড়ি আসার যাবতীয় দায়িত্ব, খরচ কিন্তু সানিদা, সুজয় দা-রাই বহন করছে। আমরা বেশ মজায় রয়েছি। খেলা তো শুধু ম্যাচের নব্বই মিনিট। তারপরে আবার ঘরে ফিরে দলবেঁধে একসঙ্গে মুড়ি খাব।’’

তবে একটি বিষয় নিয়েই সন্ধে পর্যন্ত একমত হতে পারেননি ওঁরা। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, ইস্টবেঙ্গল জিতলে সকলে মিলে গ্যাংটক ঘুরতে যাবেন। মোহনবাগান সমর্থক রাকেশ এবং অভিজিৎকে গ্যাংটকে নিয়ে গেয়ে ‘পার্টি’ দেওয়ার কথা। তবে মোহনবাগান জিতলে সকলেই কলকাতা ফিরে যাবেন বলে জানালেন কলকাতা পুরসভার কর্মী অর্ণব গোস্বামী। যদিও, অর্নবাবুর মুখে এ কথা শুনেই রে রে করে উঠলেন রাকেশ এবং অভিজিৎ। ওঁদের প্রতিবাদ, ‘‘তা কেন, মোহনবাগান জিতলেও আমরা গ্যাংটক যাব! আমরা সংখ্যায় কম হতে পারি, কিন্তু আমরাও পার্টি দেব।’’ হেসে ফেললেন সকলেই। ম্যাচ যেই জিতুক গ্যাংটক যাওয়া পাকা। ঝগড়ার মেয়াদ তো মাত্র নব্বই মিনিট।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy