E-Paper

টেনিস বলে বিদেশ সফর, টিলায় চড়ে গতির আকাশে

এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে ত্রাস হয়ে ওঠা আকাশ যখন বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁকে বলা হয়েছিল নথিবদ্ধের জন্য কিছু কাগজপত্র জমা দিতে।

ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫ ০৭:৫৩
মধ্যমণি: এজবাস্টনে ইতিহাস। দু’ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেন পেসার আকাশ দীপ।

মধ্যমণি: এজবাস্টনে ইতিহাস। দু’ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেন পেসার আকাশ দীপ। বোলারকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন জাডেজা, রাহুল, শুভমন, যশস্বীরা। ছবি: রয়টার্স।

আকাশ দীপের উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কাহিনি। এজবাস্টনে যে আকাশকে দেখা যাচ্ছে, তিনি কোনও বিরল প্রতিভা নন। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়াতেও স্বপ্নপূরণ হয়নি তাঁর। আকাশের উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও হার-না-মানা লড়াই।

টেনিস বলের ক্রিকেট থেকেই যাত্রা শুরু হয় আকাশের। বিহারের সাসারামের একটি ছোট্ট গ্রামে টেনিস বলের প্রতিযোগিতা খেলতে গিয়েছিলেন। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পরে তাঁর কাছে প্রস্তাব আসে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার।

টেনিস বলের ক্রিকেট খেলে বিদেশ যাত্রার কাহিনি শোনা যায় না। কিন্তু আকাশকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দুবাইয়ে। শুধুমাত্র বোলার হিসেবে নয়, আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবেও। একাধিক টেনিস প্রতিযোগিতায় সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কারও পেয়েছেন। আকাশের পাসপোর্টে প্রথম স্ট্যাম্প ছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর। যা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বাংলার তৎকালীন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী।

এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে ত্রাস হয়ে ওঠা আকাশ যখন বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁকে বলা হয়েছিল নথিবদ্ধের জন্য কিছু কাগজপত্র জমা দিতে। আকাশ তাঁর পাসপোর্ট দিয়েছিলেন। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর স্ট্যাম্প দেখে অবাক হয়ে যান সৌরাশিস। তিনি বলছিলেন, ‘‘ওর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, দুবাই গিয়েছিলি কী করতে? বলেছিল, ‘স্যর, টেনিস বলের ক্রিকেট খেলতে আমাকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমি তো বিহারে টেনিস ক্রিকেটই খেলতাম। সেখান থেকেই লাল বলের ক্রিকেট খেলার ইচ্ছে তৈরি হয়।’ ওর এই কাহিনি অবাক করে দিয়েছিল।’’

এখানেই শেষ নয়, কোমরে ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ নিয়ে বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ট্রায়াল দিতে হয়েছিল আকাশকে। সৌরাশিস বলছিলেন, ‘‘কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে ও ট্রায়াল দিয়েছিল। শর্ট রান-আপ নিয়ে বল করেছিল। তাতেই বেশ কয়েক জন ব্যাটসম্যানের স্টাম্প ছিটকে দিয়েছিল।’’ যোগ করেন, ‘‘বাংলার নির্বাচকেরাও বলেছিল, ওকে দলে নিয়ে লাভ নেই। তবুও ভরসা রেখেছিলাম। তার প্রতিদান? বাংলাকে অনূর্ধ্ব-২৩ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন করেছিল।’’

আকাশকে কলকাতার লিগ ক্রিকেটে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন সৌতম মিত্র। ইউনাইটেড ক্লাবে খেলানো হয়েছিল। তখন থেকেই প্রচণ্ড জোরে বল করতেন। কী ভাবে এতটা শক্তিশালী ছিলেন? বাংলার প্রাক্তন কোচ অরুণ লাল বলছিলেন, ‘‘ওর বাড়ির সামনে খেলার মাঠ প্রচুর। একটি টিলাও আছে। ফিটনেসে উন্নতি করার জন্য প্রত‌্যেক দিন দৌড়ে টিলায় উঠত আর নামত। সেখান থেকেই শরীরের পেশি শক্তিশালী হয়।”

আকাশ বরাবরই আউটসুইং ভাল করতেন। ইনসুইংও রপ্ত করেছেন। কিন্তু জো রুটকে তিনি যে বলে আউট করেছেন, তা নজর কেড়েছে বিশেষজ্ঞদের। ক্রিজ়ের কোণ থেকে বল করলে কতটা ফায়দা পাওয়া যেতে পারে তা নিয়ে রীতিমতো পড়াশোনা করেছেন। সৌরাশিস বলছিলেন, ‘‘ও অফ-সিজ়নে প্রত্যেক দিন তিন ঘণ্টা করে একটি স্টাম্প রেখে বল করত। কখনও স্টাম্পের গা ঘেষে বল করত। কখনও পপিং ক্রিজ়ের কোণ থেকে। এ ভাবেই নিজেকে তৈরি করেছে।’’ পাশাপাশি লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর জ়াহির খানের পরামর্শেও আরও ঘষামাজা করেছেন আকাশ।

বাংলার পেসারের সাফল্যে গর্বিত কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লও। বলছিলেন, ‘‘ সৌরাশিস যদি ওর জীবনে না আসত, আকাশের উন্নতি করতে অনেকটাই দেরিহয়ে যেত।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Akash Deep test cricket India vs England

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy