টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করার কথা রবিবার সন্ধায় জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বিশ্বকাপ খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার নির্দেশ দিয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তার পর ২২ ঘণ্টা (ভারতীয় সময় সোমবার সন্ধে ৭টা পর্যন্ত কেটে গেলেও প্রতিক্রিয়াহীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্কের শুরু আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশের জোরে বোলারকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার পরই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার ব্যাপারে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। ভারতের ক্রিকেটার, কর্তা, সমর্থকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাঁর নির্দেশেই বিসিবি ভারতের দল না পাঠানোর কঠোর অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কর্তারা দফায় দফায় আলোচনা করেও সমাধান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আইসিসির বোর্ডের বৈঠকে ভোটাভুটিতে ১৪-২ ভোটে খারিজ হয়ে যায় আমিনুল ইসলামদের দাবি। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ক্রমতালিকার ভিত্তিতে।
আইসিসির বোর্ডের বৈঠকে দু’টি ভোট পেয়েছিল বাংলাদেশ। একটি নিজেদের। আর অন্যটি পাকিস্তানের। বিসিবির সঙ্গে আইসিসির আলোচনার সময় থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের পাশে ছিল। বাংলাদেশের দাবিতে সমর্থন করে আইসিসির সমালোচনাও করেছিলেন মহসিন নকভিরা।
আইসিসির বোর্ডে সুবিধা না হওয়ার পর পাকিস্তান নতুন অবস্থান নেয়। গত ২৬ জানুয়ারি পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান নকভি জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে ৩০ জানুয়ারি অথবা ২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যেই রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি পাক সরকার সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও ভারত-ম্যাচ বয়কট করবে। এই সিদ্ধান্তের কারণ অবশ্য জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। শাস্তি এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকির কথা জেনেই পদক্ষেপ করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাই ক্ষীণ করে দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের এই পদক্ষেপের পর ২২ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে। তার পরও বিসিবি সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বাংলাদেশের এই অবস্থানে বিস্মিত ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ।