স্বস্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললেও বাংলাদেশের কোনও শাস্তি হচ্ছে না। বিবৃতি দিয়ে বিসিবিকে আশ্বস্ত করল জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকর্তাদের।
আইসিসি কোনও শাস্তি না দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিসিবির অন্যতম সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ায় আমাদের মনে নানা আশঙ্কা ছিল। শেষপর্যন্ত কোনও শাস্তি না হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। আমরা নির্বাসিত হতে পারতাম। আর্থিক শাস্তিও হতে পারত। তেমন কিছু হচ্ছে না। বিশ্বকাপ না খেলায় বড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও ছিল আমাদের। ওই আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা হয়তো আমরা সামলাতে পারতাম না। আমাদের একটা প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। হয়তো মহিলাদের কোনও বিশ্বকাপ।’’
ফারুক আরও বলেছেন, ‘‘আমরা আগামী বছর মহিলাদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করব। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথ ভাবে এক দিনের বিশ্বকাপ আয়োজন করব। আমরা চেষ্টা করব যত বেশি সম্ভব ম্যাচ পাওয়ার।’’ ফারুক স্বীকার করে নিয়েছেন, আর্থিক জরিমানা ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কায় ছিলেন তাঁরা। তেমন কিছু না হওয়ায় তাঁরা এক রকম হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন।
ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি না হওয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। সূচি মেনে পাকিস্তানকে সব ম্যাচ খেলাতে চেষ্টার খামতি রাখেননি জয়েরা। শেষ দিকে সক্রিয় ভূমিকা নেয় বিসিবিও। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তানকে ভারত-ম্যাচ খেলার অনুরোধ করেন আমিনুল ইসলামেরা। তার আগে লাহৌরে গিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর পর ভারত-ম্যাচ খেলার জন্য আইসিসিকে কয়েকটি শর্ত দেয় পিসিবি। শর্তগুলির অন্যতম দু’টি ছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার জন্য বাংলাদেশকে কোনও শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং বিশ্বকাপের ‘পার্টিসিপেশন ফি’ দিতে হবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসাবে একটি বিশ্বপর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব দিতে হবে বিসিবিকে।
পাকিস্তানের মূল তিনটি দাবি (ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের ত্রিপাক্ষিক সিরিজ় আয়োজন, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় শুরু এবং ভারত-পাক ক্রিকেটারদের করমর্দন) আইসিসি খারিজ করে দিলেও বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুন:
আইসিসির বিবৃতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলা হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পিসিবি এবং বিসিবির সঙ্গে আইসিসির বৈঠকের পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল বলেও জানানো হয়েছে। কোনও রকম আর্থিক, প্রশাসনিক এবং সূচি সংক্রান্ত শাস্তি বাংলাদেশের হবে না বলে জানানো হয়েছে। শেষপর্যন্ত আইসিসি কোনও পদক্ষেপ না করায় স্বস্তি গোপন করছেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটকর্তারা।