মাত্র এক রানের জন্য হাতছাড়া হয়েছে ত্রিশতরান। তবুও সুদীপ কুমার ঘরামির ২৯৯ নক-আউটে বাংলার কোনও ক্রিকেটারের সর্বাধিক স্কোর। হতাশ হলেও এই ইনিংস আপাতত ভুলে যেতে চান সুদীপ। অন্ধ্রপ্রদেশের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ফলে সেমিফাইনালে বাংলার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জম্মু ও কাশ্মীর। ম্যাচের পরে তিনি জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সুদীপ বলেছেন, “হতাশা তো থাকবেই। ত্রিশতরান হলে কার না ভাল লাগে। তবে আমাকে এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ক্রিকেটে এক মুহূর্তও মনঃসংযোগ হারানো চলবে না। পরিস্থিতি যেরকমই থাকুক না কেন, প্রত্যেক বলের আগে নিজের ১০০ শতাংশ মনোযোগ বজায় রাখতে হবে।” এর পরেই তাঁর সংযোজন, “আরও একটু ব্যাটিং করলে বোলাররা বিশ্রাম পেত। আমরাও আরও বেশি রানে এগিয়ে যেতে পারতাম। আমার খুবই খারাপ লাগছে। কিন্তু এখন আর এ সব ভেবে লাভ নেই। এই ইনিংস অতীত। আসন্ন ম্যাচ নিয়েভাবতে চাই।”
শেষ চারে উঠতে পারলে বাংলার প্রতিপক্ষ হবে জম্মু ও কাশ্মীর। সেই দলকে একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আকিব নবি। শেষ আটের লড়াইয়ে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে একাই তুলেছেন ১২ উইকেট। ইতিমধ্যেই ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৬ উইকেট। এ ছাড়াও রয়েছেন বাঁ-হাতি সুনীল কুমার, ডান-হাতি মিডিয়াম পেসার যুদ্ধবীর সিংহের মতো জোরে বোলার। ফলে ফাইনালে পৌঁছনোর লড়াই কঠিন থেকে কঠিনতর হতে পারে। সুদীপ সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, “আপাতত সেই ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। জানি ওদের আকিব নবির মতো দুর্ধর্ষ বোলার রয়েছে। শুধু আকিব নয়, সুনীল বা যুদ্ধবীরদের সামলাতে হবে। ভিডিয়ো দেখে সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছি। হয়তো পরের বারে আর এইভুল হবে না।”
রঞ্জি ট্রফিতে চলতি মরসুমে ত্রিপুরার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানের পরের পাঁচ ইনিংসে তাঁর মোট রান আসে মাত্র ১২! ধারাবাহিকতার অভাব বারবার তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হরিয়ানার বিরুদ্ধে লাহলিতে দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন লড়াকু ৬১ রান। তার পরে মাথায় পাহাড়প্রমাণ চাপ নিয়ে খেলতে নেমে নক-আউটে ২৯৯ রান। কোন মন্ত্রে সাফল্য? সুদীপ বলছিলেন, “আমার কৌশলগত কিছু সমস্যা হচ্ছিল। লক্ষ্মীরতন শুক্ল, আমার শৈশবের কোচ দেবেশ স্যরের (দেবেশ চক্রবর্তী) সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। সেটাই পার্থক্য করে দিয়েছে। তাঁরা সবসময় আমাকে ইতিবাচক থাকার কথা বলতেন। এমনকি আমি ছন্দে না থাকলেও তাঁরা আমাকে প্রতি মুহূর্তে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শে মানসিকতাও অনেকটা উন্নত হয়েছে। বিজয় হজ়ারে, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সেই কারণে আমি ধারাবাহিকতা দেখাতে পারিনি। আমার বন্ধুরাও মানসিক ভাবে ভীষণ সাহায্য করেছে। সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।”
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এর আগে ২৯৯ রানে ফিরেছেন আরও দু’জন— নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে মার্টিন ক্রো (১৯৯১) ও গ্ল্যামর্গ্যানের জার্সিতে মাইকেল পাওয়েল। রঞ্জি ট্রফিতে মহারাষ্ট্রের হয়ে শান্তনু সুগওয়েকার ১৯৮৯ সালে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে ২৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়াও স্যর ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২৯৯ রানে অপরাজিত থেকে ফিরেছিলেন। নক-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই রকম ইনিংস আগামীর জন্য কতটা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে? সুদীপের কথায়, “অনেকটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। পরের ম্যাচগুলিতে তা নিশ্চিত ভাবেই কাজে আসবে। ফল নিয়ে আমি ভাবি না। আমার কাজ পরিশ্রম করে যাওয়া। সেটাই করে গিয়েছি। ভবিষ্যতেওতাই করব।”
সইক রশিদের আচমকা নীচু হয়ে যাওয়া বলে সুদীপ আউট হয়েছেন। সকলে দুর্ভাগ্যজনক বললেও সুদীপ কিন্তু একেবারেই মেনে নিচ্ছেন না। এমনকি পিচ নিয়েও তাঁর মনে কোনও ক্ষোভ নেই। বলে দিলেন, “চতুর্থ দিনের উইকেটে কিছুটা তো বল পড়ে নিচু হবেই। মনে রাখতে হবে চার দিন ধরে পিচে অনেক রোদ পড়েছে। তবে ওই বল আমার হয়তো খেলা উচিত ছিল। সামনে পা বাড়িয়ে খেললে হয়তো ত্রিশতরান মাঠে ফেলে আসতাম না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)