E-Paper

দাপট আকাশ-শাহবাজ়ের, জয়ের আশায় বাংলা

টানা ১৫ ওভারের স্পেল করেন আকাশ দীপ। আউটসুইংয়ের পাশাপাশি ইনসুইংয়ের সাহায্যে বিভ্রান্ত করছিলেন হরিয়ানার ব্যাটসম্যানদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৩
জুটি: পাঁচটি করে উইকেট আকাশ ও শাহবাজ়ের। 

জুটি: পাঁচটি করে উইকেট আকাশ ও শাহবাজ়ের।  ফাইল চিত্র।

গতি ও স্পিনের মিশেলে হরিয়ানার মেরুদণ্ড ভেঙে দিল বাংলা। মাত্র ১০০ রানেই শেষ অংশুল কম্বোজদের ইনিংস। পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছেন আকাশ দীপ ও শাহবাজ় আহমেদ। স্পিন-সহায়ক পিচে হরিয়ানার উপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের ত্রাস হয়ে উঠলেন আকাশ। পিচের ফায়দা তুললেন শাহবাজ়ও। দ্বিতীয় দিনে পড়ল মোট ১৮ উইকেট।

রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের প্রথম দিন পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তুলেছিলেন বাংলার ব্যাটসম্যানেরা। দ্বিতীয় দিন সকালে ১৯৩ রানে শেষ হয় প্রথম ইনিংস। জবাবে ৩১.১ ওভারের মধ্যেই অলআউট হরিয়ানা। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলার রান ১৫৫। এগিয়ে ২৪৮ রানে। পিচ আরও ভাঙতে শুরু করেছে। তৃতীয় দিন যদি আর ১০০ রান যোগ করতে পারেন অভিমন্যু ঈশ্বরনরা, সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।

টানা ১৫ ওভারের স্পেল করেন আকাশ দীপ। আউটসুইংয়ের পাশাপাশি ইনসুইংয়ের সাহায্যে বিভ্রান্ত করছিলেন হরিয়ানার ব্যাটসম্যানদের। অন্য দিকে শাহবাজ়কে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয়নি। পিচই ভয়ঙ্কর করে দিচ্ছিল তাঁকে। প্রায় এক হাত করে বল ঘোরাচ্ছিলেন শাহবাজ়। এক সময় লাহলির পিচকে পেসারদের স্বর্গ বলা হত। চার জন করে পেসার খেলাত হরিয়ানা। অথচ এই ম্যাচে দু’টি দল মিলিয়ে মোট সাত জন স্পিনার খেলছেন। সেই পিচে আকাশের পাঁচ উইকেট এ মরসুমের রঞ্জিতে কোনও পেসারের সেরা সাফল্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। আকাশ বলছিলেন, ‘‘এখানে বেশ ঠান্ডা। পিচে বল ঘুরলেও সুইং পেয়েছি। আমি ব্যাটসম্যানদের পায়ের সামনে বল করছিলাম। কিন্তু দেখলাম বাউন্সও আছে। ধীরে ধীরে খাটো লেংথের বল করতে শুরু করি। তাতেই সাফল্য আসে।’’

এক জন পেসারের পক্ষে টানা ১৫ ওভারের স্পেল করা সহজ নয়। কিন্তু আকাশ সেই কঠিন কাজটাই করে দেখান এ দিন। মাত্র তিন জন বোলারকে ব্যবহার করেই হরিয়ানার সব ক’টি উইকেট তুলে নিল বাংলা। আকাশের বোলিং হিসেব ১৫-৩-৪০-৫। শাহবাজ় ১১.১ ওভার বল করে ৪২ রান দিয়ে নেন পাঁচ উইকেট। আকাশ বলছিলেন, ‘‘পরিবেশ খুব ভাল ছিল, তাই টানা বল করতে অসুবিধে হয়নি। ভাল ছন্দে ছিলাম। আমার অধিনায়ক সেই ছন্দকে কাজে লাগিয়েছে। বাংলাকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরেছি। জিতে ফিরতে চাই।’’

ঘূর্ণি পিচে দ্রুত রান করে বাংলাকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় প্রথম ইনিংসে ৮৬ রান করার পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরে যান পাঁচ রানে। তার পরেই ক্রিজ়ে এসে প্রতিআক্রমণ শুরু করেন সুদীপ ঘরামি। ৫৩ বলে পৌঁছে যান ৫০ রানে। শেষ পর্যন্ত ৭৪ বলে ৬১ রান করেন তিনি। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন অপরাজিত ৬১ রানে। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন নৈশ প্রহরী
রাহুল প্রসাদ (৯)।

বোলারদের দাপটের পরে তৃতীয় উইকেটে সুদীপ ঘরামি ও অভিমন্যুর ১০৯ রানের জুটি বাংলাকে চালকের আসনে বসিয়ে দিল। অফস্পিনার অমিত রানার বল অতিরিক্ত ঘুরে স্টাম্প ছিটকে দেয় সুদীপের। চলতি রঞ্জি মরসুমে একটি শতরান রয়েছে তাঁর। সাত ম্যাচে করেছেন ৩৫২ রান। ঈশ্বরন একটিও শতরান পাননি। তবে নক-আউট পর্বে উঠে গিয়েছে বাংলা, তাই সেখানে তাঁদের ব্যাট থেকে শতরান এলে উপকৃত হবে দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলা ১৯৩ ও ১৫৫-৩ (সুদীপ ৬১, অভিমন্যু ৬১*), বনাম হরিয়ানা ১০০ (আকাশ ৫-৪০, শাহবাজ় ৫-৪২)। বাংলা
এগিয়ে ২৪৮ রানে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengal Cricket team Haryana Akash Deep Shahbaz Ahmed

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy