বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল। সিএবির (রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা) অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য প্রণবের বিরুদ্ধে সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলেই অভিযোগ দায়ের করেছেন জনৈক শ্যামল দাস।
৩৬ বছর আগে ১৯৯০ সালে বাংলা শেষ যে বার রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই দলের ওপেনার ছিলেন প্রণব। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি ভুয়ো ক্লাবের হয়ে তিনি সিএবির অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর আনুমানিক পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা।
এই অভিযোগ নিয়ে প্রণবের বক্তব্য, ‘‘এই অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটা আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার, আমার পরিবারকে কালিমালিপ্ত করার এবং জনসাধারণের সামনে একটি ভুল চিত্র উপস্থাপন করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত, প্রতিহিংসামূলক, প্রতিশোধমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।’’
ভারতের হয়ে দু’টি টেস্ট খেলা প্রণবের বিরুদ্ধে সিএবির নিয়মের ৭০ নম্বর ধারায় অভিযোগ এনেছেন শ্যামল। অ্যাপেক্স কাউন্সিলে পাঠানো তাঁর ১৩ পাতার অভিযোগপত্রে গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের সিএবি ওম্বুডসম্যানের একটি নির্দেশের উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ওই নির্দেশ অনুযায়ী ‘মোহনলাল ক্লাব’-এর রেজিস্টার্ড ঠিকানা ৫৭সি বাগবাজার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০৩। সেই নির্দেশেই ৪০ গৌরীবাড়ি লেন, কলকাতা ৭০০০০৪ ঠিকানার একটি সমান্তরাল, অস্তিত্বহীন সংস্থার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, সেই ক্লাবটি ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেআইনি ভাবে সিএবি-র অনুদান আত্মসাৎ করেছে। এখানে না কি সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে প্রণবের। তিনি না কি মূল সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক প্রণব বলছেন, ‘‘আমি মোহনলাল ক্লাবের শুধুমাত্র একজন সদস্য এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখন আমি কোনও কার্যনির্বাহী পদে বা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলাম না। যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তার কিছু বিষয় আদালতে এবং যথাযথ ফোরামে বিচারাধীন। ফলে এই নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করব না।’’
তৃণমূল স্তরের উন্নয়নের নাম করে না কি একাধিক বার অনুদান নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে চেক মারফৎ ছ’বার অনুদান নেওয়া হয়েছে। এবং সব ক্ষেত্রেই না কি প্রণব সই করে এই চেক নিয়েছেন।
এই অভিযোগ করে সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। এক, যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেই কারণে প্রণবকে অবিলম্বে নিলম্বিত করা হোক এবং সিএবির সমস্ত কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। দুই, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য এই অভিযোগপত্র এবং স্বাক্ষরিত আর্থিক ভাউচারগুলি মাননীয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পাঠানো হোক। তিন, প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোহনলাল ক্লাবে পাঠানো তহবিলের একটি পরিপূর্ণ অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হোক। চার, নাম ভাঁড়িয়ে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক আত্মসাতের অভিযোগে সিএবিকে একটি এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
অভিযোগকারীর বক্তব্য, ‘‘জনসাধারণের তহবিল আত্মসাৎ করার জন্য এক প্রাক্তন ক্রিকেটার একটি ভুয়ো সংস্থাকে বৈধতা দিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং স্তম্ভিত করার মতো। অ্যাপেক্স কাউন্সিলে তাঁর উপস্থিতি সিএবির সততা ও নিরপেক্ষতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।’’
উল্লেখ্য, এই মাসেই প্রণবের বাবা এবং ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালন নিয়ে সিএবিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, সিএবি এই অনুষ্ঠানে প্রণবকেই আমন্ত্রণ জানায়নি। এই নিয়ে তখন সরব হয়েছিলেন প্রণব। সিএবি অবশ্য জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বঙ্গ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত অনেকেই সে দিনের ঘটনার সঙ্গে এ দিনের ঘটনার যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন।
এই নিয়ে প্রণব শুধু বলছেন, ‘‘এই অভিযোগগুলোর যে সময়ে করা হয়েছে, তা থেকে পরিষ্কার যে, আমাকে হেয় করার এটা একটা ইচ্ছাকৃত চেষ্টা। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অনভিপ্রেত। যাঁরা আমার বিরুদ্ধে এই মানহানিকর প্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি উপযুক্ত ফোরামেও তুলব।’’