Advertisement
E-Paper

সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে, সৌরভ বললেন, ‘সব পরিকল্পনা করে করানো হচ্ছে’

সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে। এক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন এক আইনজীবী। কিন্তু সিএবি নাকি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। জবাব দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৩:০০
Advocate Sayantan Sinha sent email to WB Sports Minister Indranil Khan alleging CAB

ইডেন গার্ডেন্স। —ফাইল চিত্র।

এ বার ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল। হাই কোর্টের আইনজীবী সায়ন্তন সিংহ ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে রবিবার ইমেলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

মূল অভিযোগটি সিএবি সদস্য অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে। ক্রীড়ামন্ত্রীকে লেখা ইমেলে সায়ন্তন জানিয়েছেন, তিনি গত বছর ১৪ অগস্ট অম্বরীশের বিরুদ্ধে সিএবিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সায়ন্তনের অভিযোগ, সিএবি কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগ নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন, ‘‘যিনি অভিযোগ করেছিলেন, তিনি গত বছর অগস্টেই সব প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এগুলো সব ভুয়ো অভিযোগ। এগুলো আগামী এসজিএম-এর আগে পরিকল্পনা করে করানো হচ্ছে।’’

তবে, জানা যাচ্ছে অম্বরীশের বিরুদ্ধে অন্য এক আইনজীবী সুমন কীর্তনিয়া গত বছর জুলাইয়ে একই অভিযোগ করেছিলেন। সেই প্রতিবেদন প্রকাশিতও হয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম-এ। তিনি ৪ অগস্ট তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তার পর ১৪ অগস্ট সায়ন্তন সিএবির কাছে অম্বরীশের নামে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তৎকালীন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব নরেশ ওঝা-সহ ১৭ জনকে ইমেলে ওই অভিযোগ জানানো হয়েছিল।

ক্রীড়ামন্ত্রীকে ইমেলে সায়ন্তন লিখেছেন, ‘‘গত বছর ১৪ই আগস্ট সিএবি-র সভাপতি, সচিব, ওম্বুডসম্যান, এথিক্স অফিসার এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছিলাম। তার প্রতিলিপি বিভিন্ন ভিজিল্যান্স কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদেরও পাঠানো হয়েছিল।’’

সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সায়ন্তন জানিয়েছেন, ‘‘আমি একটি স্বাধীন তদন্ত করার অনুরোধ করেছিলাম। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমস্ত অফিশিয়াল দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার অনুরোধও জানিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোনও তদন্ত হয়েছে কি না জানানো হয়নি। কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। কাউকেই কোনও অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।’’

অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, ‘‘অম্বরীশ এখনও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং নিয়মিত অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। সিএবির ব্যানারে আয়োজিত অফিশিয়াল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছেন।’’

ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিযোগকারী আইনজীবী আর্জি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, অফিশিয়াল পদের অপব্যবহার এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্নীতি সংক্রান্ত এই অভিযোগগুলির সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং স্বাধীন তদন্ত হোক। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সিএবির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হোক। কোনও অনুসন্ধান বা তদন্ত হয়েছিল কি না, এবং হয়ে থাকলে তা কী অবস্থায় রয়েছে বা তার ফলাফল কী, তা জানানো হোক।

অম্বরীশের বিরুদ্ধে সায়ন্তনের মূল অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে উঠতি ক্রিকেটারদের সিএবির বিভিন্ন ডিভিশনে খেলার সুযোগ না কি পাইয়ে দিচ্ছেন তিনি। প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটের প্রতিলিপি অভিযোগপত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, উঠতি ক্রিকেটারদের কোনও না কোনও ক্লাবে খেলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নাকি দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল, নতুন ক্লাব তৈরির নাম করে বিভিন্ন লোকের থেকে নাকি টাকা নিয়েছেন অম্বরীশ। তৃতীয় অভিযোগ ছিল, নিজেকে প্রভাবশালী নির্বাচক হিসাবে পরিচয় দিয়ে এবং সিএবি-র পদের অপব্যবহার করে অম্বরীশ নাকি অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ দল এবং দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব দলে ক্রিকেটার ঢুকিয়েছেন অর্থের বিনিময়ে। চতুর্থ অভিযোগ, তিনি নাকি হাই কোর্ট ক্রিকেট ক্লাবে নানা বেআইনি কাজ করেছেন। এ ছাড়াও কোথায় কোন ম্যাচ হবে, তা-ও নাকি টাকার বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এবং একাধিক জাল নথি নাকি তৈরি করেছেন।

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অম্বরীশ আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে প্রথমে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগ পরে প্রত্যাহারও করে নেওয়া হয়েছিল। এরপর আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জমা পড়েছিল কি না আমি জানি না। কারণ, সিএবির পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি এটুকু বলতে পারি, কোনও দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই। সিএবির কোনও পদেও আমি নেই। আমি শুধু একজন কমিটি মেম্বার।’’

সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া সম্প্রতি ক্রীড়ামন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, একটি ‘অ্যান্টি-কোরাপশন হেল্পলাইন’ চালু করা হোক। উল্লেখ্য তার পর সৌরভও সিএবির পক্ষ থেকে একই দাবি জানিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে। সে কথা উল্লেখ করে সায়ন্তন ইমেলে লিখেছেন, ‘‘অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন চালু করার যে প্রস্তাব আপনার দফতরে জমা পড়েছে, তাকে স্বাগত জানাই। তরুণ ক্রীড়াবিদদের স্বার্থরক্ষা এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।’’


CAB Indranil Khan Sports Minister Sourav Ganguly

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy