Advertisement
E-Paper

একাকিত্ব ঘুচিয়ে দেয় সোহার ছোট্ট ‘এলিয়ট’, অবসাদের দাওয়াই হতে পারে কি শৈশবের পুতুল?

একাকীত্ব বা অবসাদ ধারেকাছে ঘেঁষে না। দুশ্চিন্তা হয়ই না। সবসময়েই মন ভাল রাখে ছোট্ট ‘এলিয়ট’। ছোটবেলার খেলনাই মানসিক চাপ কমানোর চাবিকাঠি, তেমনই মনে করেন অভিনেত্রী সোহা আলি খান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭
Psychologist Reveals How Childhood Toys Can Improve Emotional Well-Being

বড়বেলায় পুতুলখেলা লজ্জার নয়, তাতেই কমে অবসাদ, শেখালেন সোহা আলি খান। ছবি: সংগৃহীত।

পুতুল নেবে গো, পুতুল! অলস দুপুরে শহরের অলিগলিতে এই ডাক আর তেমন শোনা যায় না। এত কাল পুতুল খেলা, পুতুলের বিয়ে যে শৈশবের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েছিল, এখন উধাও হতে বসেছে তা। অবসরে মোবাইল, ভিডিয়ো গেমে ডুবে থাকাই অভ্যাস। পুতুলকে স্নান করানো, ঘুম পাড়ানো, তার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যাওয়া— এমনটা আর খুব বেশি দেখা যায় না। ছোটরাও পুতুল ভুলে মোবাইলকে আপন করে নিয়েছে। আর তাতেই উদ্বেগ-অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। সোহা আলি খান কিন্তু তেমনটা নন। ছোটবেলার পুতুল নিয়ে এখনও খেলতে ভালবাসেন। শৈশবের মন খারাপের সময়ে সঙ্গী হত যে ছোট্ট সাদা খেলনা কুকুর ‘এলিয়ট’, সে এখনও সোহার সব সময়ের সঙ্গী। পুতুল খেলাতেই যে মন ভাল থাকে, তা বলতে কোনও দ্বিধা নেই অভিনেত্রীর।

‘এলিয়ট’ কেবল খেলনা নয়, সোহার আপনজনও বটে। বই পড়ার সময়ে টেবিলে সে থাকে, ঘুরতে যাওয়ার সময়ে হাতব্যাগে তাকে নিতে ভোলেন না সোহা। এখনও মন খারাপ হলে তা বলেন খেলনা কুকুরকে। আর তাতেই মন ভাল হয়ে যায় নিমেষে। সোহা জানান, পুতুল খেলার এই অভ্যাস যে কোনও রকম উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাতে পারে। মন ভাল রাখার সবচেয়ে ভাল উপায়ও হতে পারে। সোহার মত, পুতুল খেলার এই অভ্যাসের কারণে কখনও একাকীত্বে ভুগতে হয়নি, অনেক জটিল পরিস্থিতিতেও মনে সাহস পেয়েছেন।

শৈশবের সর্বক্ষণের সঙ্গী খেলনা কুকুর ‘এলিয়ট’ এখনও সোহার সঙ্গেই থাকে।

শৈশবের সর্বক্ষণের সঙ্গী খেলনা কুকুর ‘এলিয়ট’ এখনও সোহার সঙ্গেই থাকে। ছবি: সোহা আলি খানের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে।

সোহার অভিজ্ঞতা অনেকের জীবনের সঙ্গেই মিলে যায়। এই বিষয়ে মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের মত, শিশুরা যখন তাদের প্রিয় খেলনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরিত্র বা কাল্পনিক দুনিয়া তৈরি করে, তা তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। পুতুলকে নানা কথা বলা, তাকে কোনও একটি চরিত্র ভেবে নিয়ে কল্পনার জাল বুনে চলা, শিশুর সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। মোবাইল বা ভিডিয়ো গেমে যা হওয়া সম্ভব নয়। শিশুরা অনেক সময়ে নিজের মনের কথা বা ভয় সরাসরি বলতে পারে না, যা তারা তাদের প্রিয় পুতুলের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। এই সখ্যই তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। বড়দের ক্ষেত্রেও তা হতে পারে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা ছোটবেলার পুতুল বা প্রিয় কোনও খেলনা এখনও সাজিয়ে রেখেছেন বাড়িতে। এটি কোনও অপরিণত মানসিকতা বা ছেলেমানুষি নয়। বরং মনোবিজ্ঞানে এর গুরুত্ব রয়েছে। এই ধরনের প্রিয় বস্তু বা খেলনাকে বলে ‘ট্রানজিশনাল অবজেক্ট’। জীবনের যে কোনও পর্যায়ে কোনও জটিল পরিস্থিতিতে এই জিনিসগুলি কাছে থাকলেই মন ভাল থাকে। বড়বেলার একাকিত্ব বা মানসিক ক্লান্তির দিনে ছোটবেলার সেই পুতুলটি চোখের সামনে দেখলে বা ছুঁয়ে দেখলে মনে এক অদ্ভুত শান্তি ও স্বস্তি পাওয়া যায়। পুরনো খেলনা অতীতের কিছু ভাল স্মৃতি তাজা করে যা কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। প্রবল মানসিক চাপও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এ ভাবেই।

Soha Ali Khan Mental Health stress Depression

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy