অনেক টালবাহানার পর টি-টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে গত সোমবার। ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে। দুই দলকেই একটি করে ম্যাচে চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বেশ কিছু বিষয়ে চিন্তা থাকছে ভারতের। রবিবার মাঠে নামার আগে সেই জায়গাগুলিতে উন্নতি করতে হবে তাদের।
ওপেনিং জুটি
বিশ্বকাপে দু’টি ম্যাচে দু’টি আলাদা ওপেনিং জুটি দেখা গিয়েছে ভারতের। দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষেক শর্মা অসুস্থ থাকায় খেলতে পারেননি। তাই নামানো হয়েছিল সঞ্জু স্যামসনকে। তিনি শুরুটা ভাল করেও অহেতুক চালাতে গিয়ে উইকেট দেন। দুই ম্যাচ মিলিয়ে ওপেনিং জুটিতে ভারত মোটে ৩০ রান তুলেছে। দু’বারই দু’ওভারের মধ্যে ওপেনিং জুটি ভেঙে গিয়েছে তাদের। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন করলে চলবে না। সঞ্জু বা অভিষেক যে-ই খেলুন, চেষ্টা করতে হবে আগ্রাসন বজায় রেখে ওপেনিং জুটি যেন পাওয়ার প্লে পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া যায়। এটা হলে পরের দিকের ব্যাটারেরা আরও আগ্রাসী খেলার সুযোগ পাবেন।
মন্থর পিচে ব্যাটিংয়ের কৌশল
কলম্বোয় যে মন্থর পিচে ভারতকে খেলতে হবে, এটা মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু সে রকম পিচে খেলার জন্য দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে ভারতকে। কারণ কলম্বোয় মাত্র এক দিন অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে ভারত। সেখানে পাকিস্তান দীর্ঘ দিন শ্রীলঙ্কায় রয়েছে। ওখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। গত ম্যাচের আগে তিলক বর্মা জানিয়েছিলেন, তাঁকে এবং সূর্যকুমার যাদবকে ইনিংস ‘অ্যাঙ্কর’, অর্থাৎ একটা দিক ধরে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটা করতে গিয়ে নামিবিয়া ম্যাচে হাবুডুবু খেয়েছেন তিলক এবং সূর্য। ঈশান ফিরতেই রান তোলার গতি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরের দিকে হার্দিক পাণ্ড্য নেমে না চালিয়ে খেললে ভারতের কপালে দুঃখ ছিল।
ঈশানের উইকেটরক্ষণ
দীর্ঘ দিন ধরে টি২০ দলে উইকেটরক্ষণের দায়িত্ব সামলেছেন সঞ্জু। উইকেটকিপার হিসাবে তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু ঈশান দলে ফিরে উইকেটরক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা হলেও মান পড়েছে। এমন নয় যে, তিনি ক্যাচ ফেলেছেন। কিন্তু ডিআরএস-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং উইকেটের পিছনে তৎপরতার ক্ষেত্রে ঈশানের প্রয়াসে খামতি দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটিও সুযোগ হারালে চলবে না।
আরও পড়ুন:
নতুন বলে বোলিং
জসপ্রীত বুমরাহকে আগের ম্যাচে শুরুতে বল করাননি সূর্যকুমার যাদব। দায়িত্ব দিয়েছিলেন হার্দিক এবং অর্শদীপ সিংহকে। নতুন বলে অর্শদীপ এতটাই রান দেন যে, তাঁকে দিয়ে পুরো চার ওভার বল করানোই যায়নি। পাকিস্তান ম্যাচে আশা করা যায় বুমরাহকে দিয়ে শুরুতে বোলিং করানো হবে। তবে উল্টো দিকে অর্শদীপকেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। শুরুতে পাকিস্তান রান করে ফেললে সমস্যায় পড়তে হবে ভারতকেই। আগের ম্যাচে পাওয়ার প্লে-তে ৫৭ রান দিয়েছিল ভারত। চেষ্টা করতে হবে পাকিস্তান যেন প্রথম ছ’ওভারে যতটা কম রান করতে পারে।
খামখেয়ালি দল নির্বাচন
প্রথম দু’টি ম্যাচে ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে সে ভাবে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু গৌতম গম্ভীরের জমানায় দল নির্বাচন নিয়ে কখনওই চূড়ান্ত কথা বলা যায় না। অভিষেক সুস্থ হলে তাঁর প্রথম একাদশে ফেরার কথা। এ ছাড়া আর কোনও বদলের সম্ভাবনা নেই। এ বার গম্ভীর দুম করে কাউকে ফাটকা খেলার জন্য নামিয়ে দিলে মুশকিল হতে পারে ভারতের।