নিজের দলের সাজঘরে বেশি থাকতেন না লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন। বদলে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সাজঘরেই তাঁকে সারা ক্ষণ পড়ে থাকতে দেখা যেত। কয়েক দিন আগেই লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন জানিয়েছিলেন, বর্ণবৈষম্যের শিকার তিনি। এ বার আরও বড় ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার।
পাকিস্তান সফরে দলের সঙ্গে গেলেও ১৯৮৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে অভিষেক হয়েছিল শিবরামকৃষ্ণনের। পাকিস্তান সফরে গিয়ে গায়ের রঙের কারণে হেনস্থা হতে হয়েছিল তাঁকে। তার প্রভাব পড়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে গিয়ে তাদের সাজঘরেই বেশি থাকতেন ভারতীয় স্পিনার। তার একমাত্র কারণ, গায়ের রং। ডেসমন্ড হেনস, ম্যালকম মার্শাল, গর্ডন গ্রিনিজদের সঙ্গে নিজের বেশি মিল খুঁজে পেতেন শিবরামকৃষ্ণন।
৪৩ বছর পর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোপন কথা ফাঁস করেছেন শিবরামকৃষ্ণন। তিনি বলেন, “ওদের দলে সকলেরই গায়ের রং কালো। সেটা নিয়ে ওরা কিছু ভাবত না। নিজেদের মধ্যে মজা করত। তাই আমার ওদের সঙ্গে থাকতে ভাল লাগত।”
মাঠ থেকে হোটেলে না ফিরে সরাসরি ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন শিবরামকৃষ্ণন। তিনি বলেন, “ওরা আমার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করত। হেনস ও মার্শাল আমাকে নিয়ে প্রতি দিন ঘুরতে যেত। মাঠে খেলা শেষে সাজঘরে স্নান করে নিতাম। তার পর আমাদের দলের ম্যানেজারের কাছে অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম।”
মার্শাল ও হেনস তাঁকে জামাইকা, ত্রিনিদাদ, বার্বাডোজ় ঘুরে দেখিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শিবরামকৃষ্ণন। এমনকি তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন মার্শাল। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পুরনো খেলা দেখে সময় কাটিয়েছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
শিবরামকৃষ্ণন জানিয়েছেন, গ্রিনিজের মতো মিতভাষী ক্রিকেটারও তাঁর সঙ্গে গল্প করতেন। মনে কথা ভাগ করে নিতেন। শিবরামকৃষ্ণন বলেন, “গ্রিনিজ আমাকে বলেছিল, ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়ে ওকেও গায়ের রঙের জন্য হেনস্থা করা হয়েছিল। তার পর থেকে ও শুধু নিজের খেলা নিয়েই ভাবত। কারও সঙ্গে তেমন মিশত না। কিন্তু আমার সঙ্গে ও গল্প করত।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সাজঘরে গিয়ে অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েডের অনুমতি নিতেন শিবরামকৃষ্ণন। তার পর হেনস, মাইকেল হোল্ডি, অ্যান্ডি রবার্টসদের পাশে বসে গল্প করতেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতের আর এক প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাওস্করেরও খুব বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু তিনিও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে, রবার্টসের মতো অল্প কথার মানুষও একটি কিশোরের সঙ্গে গল্প করছেন।