Advertisement
E-Paper

গোড়াতেই গলদ! ‘লাস্ট বয়’ অভিষেককে দায়িত্ব দিয়ে আগেই কেকেআরের ভবিষ্যৎ ঝরঝরে করে দিয়েছেন শাহরুখ, বেঙ্কিরা

আইপিএলের আসল খেলা হয় নিলাম টেবিলে। সেখানে যে দল বাজিমাত করবে তারা অনেকটা এগিয়ে যাবে। সেখানেই ডাহা ফেল অভিষেক। যত সময় গড়িয়েছে তত হতাশ করেছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২২
cricket

অভিষেক নায়ার। —ফাইল চিত্র।

কোনও দোষ নেই অভিষেক নায়ারের! কী আর করবেন তিনি? আর কী করতে পারবেন? অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, রিকি পন্টিং, ড্যানিয়েল ভেট্টরিদের হারাবেন কী করে? যাঁর ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটেও কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই, তাঁর হাতে তিন বারের চ্যাম্পিয়ন দলের দায়িত্ব তুলে দিলে কী হয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন শাহরুখ খান, বেঙ্কি মাইসোরেরা। গোড়াতেই যে গলদ হয়ে গিয়েছে। আইপিএল শুরুর আগেই কেকেআরের ভবিষ্যৎ ঝরঝরে করে দিয়েছেন শাহরুখেরা।

ক্রিকেট কেরিয়ার আহামরি নয়

ভাল ক্রিকেটার হলেই ভাল কোচ হবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। অনেক সফল কোচ রয়েছেন, যাঁরা কোনও দিন ক্রিকেটই খেলেননি। কিন্তু অভিষেক তো ক্রিকেটার ছিলেন। তাঁর কেরিয়ারও এমন কিছু আহামরি নয়। ১০৩ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৭৪৯ রান। এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি রয়েছে। ২০০৯ সালে ভারতের এক দিনের দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। দু’টি ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই করেননি। একটি ম্যাচে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। ভারতের তখন জিততে দরকার ২৬ রান। থিতু হতে সাতটি বল খেলে ফেলেন অভিষেক। তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক রান করার আগেই অপর প্রান্তে থাকা বিরাট কোহলি ম্যাচ শেষ করে দেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর রান করা হয়নি তাঁর।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আইপিএলে খেলেছেন। শুরু করেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে। তার পর পঞ্জাব কিংস, পুণে ওয়ারিয়র্স ঘুরে রাজস্থান রয়্যালসে শেষ করেন। চার দলের হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলে ৬৭২ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১১৬.৪৬। একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি। সর্বাধিক অপরাজিত ৪৫। অর্থাৎ, খেলোয়াড় হিসাবেও তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করেননি তিনি। কোচ হিসাবেও করছেন না।

কেকেআর অ্যাকাডেমির দায়িত্বেও ব্যর্থ

২০১৮ সাল থেকে কেকেআর অ্যাকাডেমির দায়িত্বে অভিষেক। মাঝেমাঝে শিবির করেন। কিন্তু নতুন প্রতিভা কোথায়? প্রত্যেক দল চমক দেখাচ্ছে। রাজস্থান বৈভব সূর্যবংশী, পঞ্জাব কিংস প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিংহ, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অশ্বনী কুমার, সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ প্রফুল্ল হিঙ্গে, সাকিব হুসেনের মতো ক্রিকেটার তুলে আনছে। সেখানে কেকেআরে এখনও বাতিল রাহুল ত্রিপাঠী, মণীশ পাণ্ডেরা বেঞ্চে বসে। সেই বৈভব অরোরাকে খেলিয়ে যেতে হচ্ছে। উমরান মালিক, নবদীপ সাইনিদের ভবিষ্যৎও শেষ। কেকেআর অ্যাকাডেমির দায়িত্বে থেকে তা হলে কী কাজটা করেছেন অভিষেক, সেটা কি শাহরুখ, বেঙ্কিরা জানতেন না? তা হলে কেন সেই অভিষেকের হাতেই দায়িত্ব দিলেন তাঁরা?

গম্ভীরের ছত্রছায়া

এর আগে গম্ভীরের ছত্রছায়ায় সুখের সময় কাটিয়েছেন অভিষেক। ২০২৪ সালের আগে থেকে তিনি কেকেআরে থাকলেও প্রচারের আলোয় এসেছেন ২০২৪ সালে। গম্ভীর তখন কলকাতার মেন্টর। দল একের পর এক ম্যাচ জিতছে। সাংবাদিক বৈঠকে গিয়ে গুরু গম্ভীরের প্রশংসা করছেন। পাশাপাশি নিজের দিকেও সাফল্যের ঝোল খানিকটা টানছেন। কেকেআর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ হতেই অভিষেকেরও জায়গা হয়ে যায় জাতীয় দলে। সহকারী কোচ। কিন্তু কয়েক মাসেই বিসিসিআই বুঝে গিয়েছিল, গম্ভীরের ছত্রছায়ায় থাকা ছাড়া বিশেষ কাজ তিনি করেন না। তাই গম্ভীরের সহকারী কোচের দল থেকে একমাত্র অভিষেকের চাকরি গিয়েছিল। বাকিরা দিব্যি থেকে গিয়েছিলেন। বিসিসিআই যেটা কয়েক মাসে বুঝে গিয়েছিল, কেকেআর এত বছরেও তা বুঝল না।

cricket

অভিষেক নায়ার (বাঁ দিকে) ও গৌতম গম্ভীর। —ফাইল চিত্র।

বিশ্লেষণ সীমাবদ্ধ ধারাভাষ্যেই

ধারাভাষ্যকার হিসাবে অভিষেক বেশ ভাল। শান্ত, ভদ্র ভাষায় সমালোচনা করেন। টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্লেষণ করেন। অমুক ক্রিকেটার কোথায় ভুল করছেন, তমুক ক্রিকেটারের কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, সব তাঁর নখদর্পণে। খালি নিজে কোচিং করানোর সময় সব ভুলে যান। তখন কোনও ক্রিকেটারের খামতি ঢাকতে পারেন না। তাঁর কোচিংয়ে কারও উন্নতিও হয় না। আইপিএলে কেকেআরের পাঁচটি ম্যাচ দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। শুরুতে তা-ও ব্যাটিং একটু ভাল করছিল তারা। যত দিন যাচ্ছে, সকলে খারাপ খেলছেন। বোলিংয়ের কথা বাদ দেওয়াই ভাল। এই বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে পাড়ার ক্লাবও ২০০ রান করবে।

এক মরসুমে খারাপ ফর্মে থাকা রোহিত শর্মা ছুটেছিলেন অভিষেকের কাছে। তাঁর সঙ্গে অনুশীলন করে উন্নতিও হয়েছিল রোহিতের। কিন্তু রোহিতের টুকটাক ভুল ধরিয়ে দেওয়া আর একটা দল চালানো যে এক নয়, তা হয়তো বুঝতে পারেননি অভিষেক। তাই কোচের জুতোয় পা গলিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

নিলাম টেবিলে ডাহা ফেল

আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতার আসল খেলা হয় নিলাম টেবিলে। সেখানে যে দল বাজিমাত করবে তারা অনেকটা এগিয়ে যাবে। সেখানেই ডাহা ফেল অভিষেক। কোচ হয়ে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার ছেড়ে দিয়ে সবচেয়ে বেশি টাকা রেখেছিলেন পার্সে। সকলে ভেবেছিলেন, নিলামে ঝড় তুলবে কেকেআর। ঝড় তুলল বটে। কিন্তু তাতে নিজের খেতের ফসলই নষ্ট হয়ে গেল। কোথাকার ক্যামেরন গ্রিনের জন্য পকেট ফাঁকা করে দিল। মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে কিনে বিতর্কে পড়ে আবার ছেড়ে দিতে হল। নামের পিছনে না ছুটে কবে পারফরম্যান্স বিচার করবেন অভিষেক?

কেকেআরের নিলামের সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বললেন, “নিলামেই তো ভুল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়ে কেকেআর নেমেছিল। কাকে নিল? ক্যামেরন গ্রিনকে। যিনি স্পিনই খেলতে পারেন না। দলে যদি কার্যকরী ক্রিকেটার না নেয়, তা হলে জিতবে কী ভাবে। এর দায় তো কোচ এড়াতে পারেন না। তাঁকে জবাব দিতেই হবে।”

cricket

নিলাম টেবিলে অভিষেক নায়ার (বাঁ দিক থেকে দ্বিতীয়)। —ফাইল চিত্র।

নিলামকে দায়ী করেছেন ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা বাঙালি ক্রিকেটার শ্রীবৎস গোস্বামীও। তিনি বললেন, “কেকেআর প্রথম ভুলটা করেছিল শ্রেয়স আয়ারকে ছেড়ে দিয়ে। তার পর অত টাকা দিয়ে বেঙ্কটেশ আয়ারকে কিনল। এ বারও এত টাকা দিয়ে গ্রিনকে কিনল। এখনও পর্যন্ত ক্রিকেটে এমন কিছু ঝড় গ্রিন তুলতে পারেননি। তা হলে কেন এত টাকা দেওয়া হল? ওই টাকায় পাঁচ জন ভাল ক্রিকেটার পেয়ে যেত কেকেআর। নিলামেই তো আসল গন্ডগোল হয়ে গিয়েছে।

নেই পরিকল্পনা

কেকেআরের খেলা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কোনও পরিকল্পনাই নেই। না ব্যাট করার সময়, না বোলিংয়ের সময়। ভাব এমন, মাঠে মেরে দেব। কিন্তু সেটাই হচ্ছে না। রাহানে নিজেই স্বীকার করেছেন, পিচ বুঝতে পারেননি। কিন্তু পিচ তো কোচও দেখেন। তিনিও তার মানে বুঝতে পারেননি। পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে বৃষ্টির আশঙ্কার মাঝেও টস জিতে কেকেআর ব্যাটিং নিয়েছিল। যাঁর ক্রিকেট সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রয়েছে তিনিও এমন বালখিল্যসুলভ ভুল করবেন না। কোনও নির্দিষ্ট ব্যাটারের বিরুদ্ধে কী ভাবে ফিল্ডিং সাজানো উচিত, তাঁর শক্তি-দুর্বলতা অনুযায়ী কী ভাবে বল করা উচিত, তা মাঠে দেখাই যাচ্ছে না। কোন পরিস্থিতিতে কাকে নামানো উচিত, সেটাও বুঝতে পারছে না কেকেআর।

দল নির্বাচনে ব্যর্থতা

গোটা বিশ্ব জানে, গ্রিন স্পিন খেলতে পারেন না। তা-ও তাঁকে উপরে নামানো হচ্ছে না। ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যর্থ হওয়া ক্রিকেটারদের খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেকেআর যে খেলাটা খেলছে, তা কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে চলে না। যেখানে সব দল পাওয়ার প্লে-কে নিশানা করছে, সেখানে কেকেআর পাওয়ার প্লে-তে ধরে খেলছে। অজিঙ্ক রাহানে আবার পাওয়ার প্লে-তে যেটুকু পারছেন রান করছেন। পাওয়ার প্লে শেষ হলেই তাঁর ব্যাটিং শেষ। এ ভাবে আর যা-ই হোক, ম্যাচ জেতা যায় না।

পরিকল্পনার অভাব চোখে পড়েছে শরদিন্দুরও। তিনি বললেন, “গ্রিন জীবনে কোনও দিন ছয় বা সাত নম্বরে নামেননি। কেকেআরের হয়ে নামছেন। ওঁর সামনে স্পিনার এগিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষ। ব্যস, গ্রিন আউট। যাঁরা রান করছেন, তাঁদের তো বেশি বল দিতে হবে। তা না করে তাঁদের পরে নামানো হচ্ছে। শুরুতে রাহানে বল নষ্ট করছেন। এ ভাবে ম্যাচ জেতা যায় নাকি।”

শ্রীবৎস বুঝতে পারছেন না, কোন যুক্তিতে টিম সেইফার্ট বা রাচিন রবীন্দ্র দলের বাইরে রয়েছেন। তিনি বললেন, “গ্রিন গোটা কেরিয়ারে যা রান করেছেন, তার থেকে বেশি রান এক মরসুমে করেছেন সেইফার্ট। তার পরেও ওঁকে বাইরে রাখা হচ্ছে। চেন্নাইয়ের উইকেটে চোখ বন্ধ করে রাচিনকে খেলানো উচিত ছিল। ওঁর মতো সফল অলরাউন্ডারকে বাইরে রাখা হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না, কার কথায় দল নির্বাচন হচ্ছে। কেকেআরই একমাত্র দল, যার প্রথম চার ব্যাটার ডানহাতি। বাকি সব দলের প্রথম তিনে ডানহাতি-বাঁহাতি ব্যাটার আছে। কেকেআরে একজন বাঁহাতি পেসারও নেই। তা হলে নারাইন আর বরুণের জন্য রাফ কে তৈরি করবে?”

নেহরাকে দেখে শিখুন অভিষেক

টি-টোয়েন্টিতে এখন কোচের দায়িত্ব ম্যাচের আগে শেষ হয়ে যায় না। ডাগআউটে বসে পুরো ম্যাচ জুড়ে বিভিন্ন নির্দেশ দেন তাঁরা। কখনও নিজেই দেন, কখনও কোনও ক্রিকেটারকে মাঠে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু অভিষেককে যত বার ক্যামেরায় দেখা যায়, তিনি ডাগআউটে চুপ করে বসে থাকেন। কোনও অভিব্যক্তি নেই। শরদিন্দু বললেন, “আশিস নেহরা গোটা মাঠ জুড়ে ঘুরে বেড়ান। সব সময় কোনও ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলছেন। এখন তো সব নির্দেশ ডাগআউট থেকেই দেওয়া যায়। কিন্তু কেকেআরে সেটা হচ্ছে না।” এই দায় অভিষেক এড়াতে পারেন না।

সাজঘরে ‘অশান্তি’

অভিষেকের সহকারী হিসাবে শেন ওয়াটসন, টিম সাউদি, ডোয়েন ব্র্যাভো, আন্দ্রে রাসেলের মতো নাম রয়েছে। কিন্তু তাঁরা কি খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন? কেকেআরের সাজঘরের পরিবেশ কি ঠিক রয়েছে? এই প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীবৎস। তিনি বললেন, “আগের দিন দেখলাম রাহানে ও রঘুবংশীর সঙ্গে বসে রয়েছেন অভিষেক। তিন মুম্বইকর এক জায়গায়। আর বাকি সাপোর্ট স্টাফেরা পিছনে বসে। মনে হচ্ছে না, সাজঘরের পরিবেশ খুব একটা ভাল। লাগাতার হারলে এটা হয়। কিন্তু কোচকেই তো দায়িত্ব নিয়ে সাজঘরের পরিবেশ ঠিক করতে হবে।”

ফুরিয়ে যাওয়া রাহানে

ভারতের লাল বলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসাবেও সফল। আইপিএলে একটি মরসুম চেন্নাইয়ের হয়ে ভাল খেলেছিলেন। কিন্তু রাহানে ফুরিয়ে গিয়েছেন। এটা কি অভিষেক বুঝতে পারছেন না? অধিনায়ক রাহানে যে পারছেন না, সেটা সকলে বুঝলেও অভিষেকের কি বোধগম্য হচ্ছে না? শরদিন্দু বললেন, “রাহানের মধ্যে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। ফিল্ডিং ভুল সাজাচ্ছেন। নেতিবাচক অধিনায়কত্ব করছেন। চেন্নাই ম্যাচে স্পিনারদের কোটা শেষ করলেন না। আমি বুঝতে পারছি, চার জন বোলার নেই। কিন্তু যে দলের প্রধান বোলার বৈভব অরোরা, সেই দলের জেতা অসম্ভব।” যেখানে অধিনায়ক চাপে, সেখানে কোচকে তো এগিয়ে আসতে হবে। অভিষেক কি সেটা করছেন?

cricket

অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।

শ্রীবৎস ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন। তাঁর মতে, রাহানেকে তো অধিনায়ক করার কথা কেকেআর ভাবেইনি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে। বিরাট কোহলির একসময়ের সতীর্থ বললেন, “রাহানেকে নিলামের একেবারে শেষে নেওয়া হয়েছিল। ওঁকে তো প্রথম থেকে নেওয়ার কথা কেকেআর ভাবেইনি। শেষে কার কথায় ওঁকে নিয়ে অধিনায়ক করা হল সেটা ওরাই বলতে পারবে। সব দল ভবিষ্যতের কথা ভাবছে। রিয়ান পরাগ, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, রজত পাটীদারদের অধিনায়ক করছে। আর কেকেআর এমন একজনকে অধিনায়ক করেছে, যাঁর কেরিয়ার প্রায় শেষ।” তবে কি রাহানেকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যায়? শ্রীবৎস বললেন, “এই দলে তো বিকল্পও নেই। রাহানের বদলে কাকে অধিনায়ক করবে? রিঙ্কুকে জোর করে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে। ওর অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতাই নেই। বললাম না, নিলামেই গড়বড় করে ফেলেছে কেকেআর।”

ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন ‘লাস্ট বয়’ 

অভিষেক এর আগে দু’বার অধিনায়ত্ব করেছেন। ২০২২ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের দায়িত্বে ছিলেন। ছয় দলের লিগে সকলের নীচে শেষ করেছিল নাইট রাইডার্স। আইপিএলের আগে মহিলাদের আইপিএলে ইউপি ওয়ারিয়র্জ়ের কোচ ছিলেন অভিষেক। পাঁচ দলের লিগেও সকলের নীচে শেষ করেছে ইউপি। অর্থাৎ, ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন অভিষেক। তাঁর দল সকলের নীচেই থাকে। ঠিক যেমনটা আছে কেকেআর। আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বার প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটিও জয় পায়নি তারা। পাবে কী করে? গোড়়াতেই যে গলদ হয়ে গিয়েছে।

সংক্ষেপে
  • আইপিএলের ফাইনাল ৩১ মে, রবিবার। অহমদাবাদে হবে এ বারের ফাইনাল। নতুন কোনও দল এ বার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না।
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
Abhishek Nayar KKR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy