প্রথমে ব্যাট করে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২৫২ রান করে। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ৩৩.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে ম্যাচ জিততে হত। কিন্তু সেই সময় পাকিস্তানের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৬৭ রান। জয় থেকে ৮৬ রান দূরে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল করল ৪৬.২ ওভারে ১৯৪ রান। স্বভাবতই ছোটদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান। এ দিনও টসের পর হাত মেলাননি দু’দলের অধিনায়ক। ৫৮ রানে জিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের মুখোমুখি আয়ুষ মাত্রেরা।
সুপার সিক্স গ্রুপ টুর শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে উঠল পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নেরা। ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও নেট রান রেটের ভিত্তিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বৈভব সূর্যবংশী, অভিজ্ঞান কুন্ডুরা। সুপার সিক্সের সব ম্যাচের পর ভারতের নেট রান রেট ২.৫৮৫। ইংল্যান্ডের নেট রান রেট ১.৭৫৭। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসাবে শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ ছিল পাকিস্তানেরও। সে জন্য ৩৩.৩ ওভারে ম্যাচ জিততে হল তাদের। ৩৪.৩ ওভার পর্যন্তও সুযোগ ছিল ফারহান ইউসাফদের। সে ক্ষেত্রে শেষ বলে ছয় মেরে জিততে হত পাকিস্তানকে। কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি তারা আদৌ সেমিফাইনালে উঠতে চায়। বরং ভারতের বিরুদ্ধে সম্মানের লড়াই জেতাই যেন প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউসাফদের।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ইউসাফ। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ সে ভাবে কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। অ্যারন জর্জ (১৬), বৈভব সূর্যবংশী (৩০), মাত্রে (০), বিহান মলহোত্র (২১), অভিজ্ঞান কুন্ডুরা (১৬) প্রত্যাশা মতো খেলতে পারেননি। ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারতীয় শিবির। পরিস্থিতি সামলান বেদান্ত ত্রিবেদী। ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করলেন ২২ গজের এক দিক আগলে রেখে। শেষ পর্যন্ত বেদান্ত করলেন ৯৮ বলে ৬৮ রান। ২টি চার এবং ১টি ছয় মেরেছেন। ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সঙ্গে বিহানের ৬২ রানের জুটি এবং অভিজ্ঞানের ৩৮ রানের জুটি ভারতীয় ইনিংসকে স্বস্তি দেয় কিছুটা। শেষ দিকে আরএস অম্বরীশ (৩৮ বলে ২৯), কণিষ্ক চৌহান (২৯ বলে ৩৫), খিলান পটেলেরা (১৫ বলে ২১) দলকে সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে ভাল বল করেছেন আব্দুল সুভান। ৩৩ রানে ৩ উইকেট তাঁর। ৬৯ রানে ২ উইকেট মহম্মদ সায়ামের। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন আলি রাজ়া, আহমেদ হোসেন, মোমিন কামার এবং আলি হাসান বালোচ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ সাবধানী ছিলেন পাক ব্যাটারেরা। ঝুঁকি নিতে চাননি। ওপেনার সমীর মিনহাস (৯) রান না পেলেও বাকিরা ধীরে সুস্থে ইনিংস গড়ার দিকে মন দেন। অপর ওপেনার হামজা জ়াহুর করেন ৪৯ বলে ৪২। তিন নম্বরে নামা উসমান খান এবং চার নম্বরে নামা অধিনায়ক ইউসাফ দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের তেমন চেষ্টাই করেননি। তাঁদের খেলা দেখে মনে হয়েছে, ভারতকে হারানোই মূল লক্ষ্য। ইউসাফ করেন ৩৯ বলে ৩৮। উসমান করেন ৯২ বলে ৬৬। পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারেরা বলার মতো রান পাননি। ফলে ভারতকে হারানোর লক্ষ্যও সফল হয়নি তাদের।
আরও পড়ুন:
ভারতের সফলতম বোলার মাত্রে ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক ব্যাট হাতে সাফল্য না পেলেও বল হাতে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নিলেন। ৩৫ রানে ৩ উইকেট খিলানের। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন অম্বরীশ, হেনিল পটেল, কণিষ্ক এবং বিহান।