মাত্র চার দিনের মধ্যে ভেঙে গেল বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ড। চার দিন আগে ছোটদের এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ৯৫ বলে ১৭১ রানের ইনিংস খেলেছিল বৈভব। সেটাই ছিল ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে ছোটদের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান। বুধবার বৈভবকে ছাপিয়ে গেল অভিজ্ঞান কুন্ডু। এশিয়া কাপেই মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অপরাজিত ২০৯ রান করল সে। ছোটদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম কোনও ভারতীয় ব্যাটার দ্বিশতরান করল।
বৈভবের শতরান করা সহজ ছিল। কারণ, ওপেন করে সে। বুধবার মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও ওপেন করতে নেমে ২৬ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে বৈভব। অভিজ্ঞান সেখানে নামে পাঁচ নম্বরে। মিডল অর্ডারে নেমে দ্বিশতরান সহজ নয়।
অভিজ্ঞান যখন ব্যাট করতে নামে তখন ভারতের রান ১০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৭। সেখান থেকে প্রায় ৪০ ওভার ব্যাট করল সে। খেলল ১২৫ বল। মারল ১৮ চার ও ৯ ছক্কা। ১৬৭.২০ স্ট্রাইক রেটে ২০৯ রান করে অপরাজিত থাকল অভিজ্ঞান। তার ব্যাটে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ৪০৮ রান করল ভারত।
বাংলার রঞ্জি দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল ও অভিজ্ঞ ব্যাটার অনুষ্টুপ মজুমদার জানালেন, অভিজ্ঞান বাঙালি। কিন্তু বাংলাতে তাকে তাঁরা দেখেননি। কারণ, অভিজ্ঞানের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা মুম্বইয়ে। সেখানকার হয়েই বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলে সে। ফলে জন্মসূত্রে বাঙালি হলেও বাংলার হয়ে কোনও দিন খেলা হয়নি অভিজ্ঞানের। এমনকি, তার পরিবারের কেউ সাম্প্রতিক অতীতে এই রাজ্যে থেকেছেন বলেও জানেন না লক্ষ্মী ও অনুষ্টুপ।
আরও পড়ুন:
৫ বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করে অভিজ্ঞান। তার কোচ চেতন যাদব। খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও ভাল ১৭ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। পড়াশোনায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে সে। তাই বলে ক্রিকেটকে কোনও দিন অবহেলা করেনি অভিজ্ঞান। প্রতিদিন অনুশীলনে ১০ হাজার বল খেলে সে। সেই অনুশীলনের ফল পাচ্ছে এই বাঁহাতি ব্যাটার।
স্কুল ক্রিকেট থেকেই নজর কাড়তে শুরু করে বৈভব। মাত্র ১৩ বছরের মধ্যে স্কুল ক্রিকেটে ২০ হাজারের বেশি রান করে ফেলেছে সে। মেরেছে ৭০টি শতরান। ১০০-র বেশি অর্ধশতরানও করেছে অভিজ্ঞান। রয়েছে ছ’টি দ্বিশতরান। মারকুটে এই ব্যাটার বৈভবের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন তারকা হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ভাল ইনিংস খেলেছে। তবে বুধবার এশিয়া কাপে নিজের কেরিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে ফেলেছে অভিজ্ঞান। বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেটে লম্বা রেসের ঘোড়া হয়ে থাকতে এসেছে সে।