শুক্রবার বিশ্বজয় করেছে পুত্র। অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত যখন ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল তখন এখানকার সময় রাত প্রায় সাড়ে ৮টা। তার প্রায় সাত ঘণ্টা পরে অভিজ্ঞান কুন্ডুর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে বাবা অভিষেকের।
আনন্দবাজার ডট কমকে শনিবার সকালে অভিষেক বললেন, ‘‘আমারই তো অফিস থেকে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল। বাড়ি ঢোকার আগে প্রথমে চেতন স্যরের (অভিজ্ঞানের কোচ চেতন যাদব) অ্যাকাডেমিতে গিয়েছিলাম। তার পর ফিরেছি। রাত প্রায় আড়াইটে-তিনটে পর্যন্ত সমানে ফোন বেজেছে। আত্মীয়েরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বন্ধুরা ফোন করছে। তার মাঝে সময় পেলাম কই!’’
এখন অপেক্ষা রবিবারের। সে দিন দুপুর ২টোয় মুম্বইয়ে ভারতীয় দল ফিরছে বলে জানালেন অভিষেক। বললেন, ‘‘ছেলে বলল, দুপুর ২টোয় এখানে (মুম্বই) নাকি ওদের নামার কথা। গোটা দলেরই এখানে আসার কথা বলে জানাল। তবে ওর সঙ্গে যখন কথা হয়েছে, তখনও ফেরার ব্যাপারে পুরোটা জানে বলে মনে হল না।’’
অভিষেকের যেমন রাত আড়াইটের আগে ছেলের সঙ্গে কথা বলা হয়ে ওঠেনি, তেমনই সময় পাননি বিশ্বজয়ী ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞানও। তবে এ রকম মনে করার কারণ নেই যে, বৈভব সূর্যবংশী-আয়ুষ মাত্রে-অভিজ্ঞানেরা সারা রাত ধরে বিশ্বজয়ের উৎসব করেছেন। অভিষেক বললেন, ‘‘ছেলের সঙ্গে যেটুকু কথা হয়েছে, তাতে মনে হল না ওরা প্রচুর উচ্ছ্বাস-উৎসব করেছে বলে। বেশ শান্তই মনে হল।’’
বলে রাখা ভাল, ফাইনালের পর হৃষীকেশ কানিতকরকে রোহন গাওস্কর যখন উৎসব নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন ভারতীয় দলের কোচ বলেছিলেন, ‘‘দ্রুত ডিনার করে সকলকে ঘুমিয়ে পড়তে বলব!’’ ১৫ জন চনমনে বালকের বিশ্বজয়ের উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। কানিতকর সেই কাজটাই করছেন।
অভিজ্ঞানের চেতন স্যরও ব্যতিক্রম নন। তাঁরও কথা হয়েছে ছাত্রের সঙ্গে। অভিষেক বললেন, ‘‘উনি তো এর মধ্যেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। কী ভাবে সিনিয়র দলের দরজা খুলবে, তা নিয়ে ফাইনালের পরেই ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। একটা মাইলফলকে পৌঁছেছে অভিজ্ঞান। সবে শুরু। গোটা পথটাই পড়ে রয়েছে। এর পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র পরিসরে ঢুকলে সব কিছুই বদলে যাবে। ওখানে সবই আলাদা। সবই আরও কঠিন। সেটাই স্বাভাবিক।’’
পথচলা সবে শুরু, সেটা মাথায় রাখছেন অভিজ্ঞানের মা-বাবাও। তাই কোনও ভাবেই চান না ছেলের মাথাটা ঘুরে যাক। তার উপর রবিবার দেশে ফেরার পর মঙ্গলবার থেকে অভিজ্ঞানের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা। আপাতত বড় কোনও উৎসবের পরিকল্পনা নেই। অভিষেক বললেন, ‘‘হয়তো একটা কেক কাটা হবে, ব্যস!’’