বাবা যুগোস্লাভিয়ার নাগরিক। মা ইটালির। শৈশব কেটেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। পড়াশোনা করেছেন ইংল্যান্ডে। সেখানেই ক্রিকেটে শান দিয়েছেন। তবে ক্রিকেটার হিসাবে তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ। তাঁর স্বপ্ন ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল খেলা। তিনি টমাস ড্রাকা। এ বারই প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে ইটালি। সেই দলে খেলছেন ড্রাকা। অসি কিংবদন্তি ডেনিস লিলির কাছে বোলিংয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। ড্রাকা নিজের আদর্শ মনে করেন ভারতীয় অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ড্যকে।
তবে ছোটতে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল না তাঁর। খেলতেন ফুটবল। যে খেলায় চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইটালি, সেই খেলাই যে সেখানকার শিশুরা খেলবে সেটাই স্বাভাবিক। ড্রাকা ছোট থেকেই মায়ের দেশের ভক্ত। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ফুটবলই খেলতেন তিনি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া থেকে স্পেনে ফুটবল খেলতে গিয়ে ড্রাকা বুঝতে পারেন, এই খেলায় বেশি দূর এগোতে পারবেন না। তারপরেই ক্রিকেটে ঝোঁকেন তিনি। তাতেও মায়ের অবদান আছে। বাবা ফুটবলের ভক্ত হলেও মায়ের ক্রিকেটে টান ছিল।
দেরিতে ক্রিকেট শুরু হয়েছিল ড্রাকার। কিন্তু অল্প দিনেই তিনি এই খেলা ভালবেসে ফেলেন। ড্রাকা বলেন, “আমি একটু দেরিতে ক্রিকেট শুরু করেছি। আগে শখে খেলতাম। বাড়ি উঠোনে খেলতাম। ধীরে ধীরে ভালবেসে ফেলি। তবে ফুটবল ছাড়তে খুব কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বুঝতে পেরেছিলাম, ক্রিকেটেই এগোতে পারব। বাবা-মা পাশে ছিল। তাদের উৎসাহে এগিয়ে গিয়েছি।”
ড্রাকার বাবা ফুটবলের ভক্ত হলেও লিলি ছিলেন তাঁর বন্ধু। দু’জনেরই ওয়াইনের প্রতি ভালবাসা ছিল। সেই ভালবাসার সূত্রেই তাঁদের বন্ধুত্ব বাড়ে। ড্রাকাও লিলিকে কাকা বলেই ডাকতেন। তাঁর কাছেই পেস বোলিংয়ের শিক্ষা শুরু ড্রাকার। লিলিই তাঁর গুরু। ড্রাকার ২১তম জন্মদিনে নিজের ওয়ার্ল্ড সিরিজ়ের একটি সোনার হার তাঁকে উপহার দেন লিলি। তাতে তাঁর টেস্ট ক্যাপের নম্বর ও সই খোদাই করা আছে।
আরও পড়ুন:
সেই হার পরেই বিশ্বকাপে নেমেছেন ড্রাকা। তিনি বলেন, “এই হারটা আমি পরে খেলব। এই হার আমাকে মনে করিয়ে দেবে, কেন পেস বোলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। আমাকে উৎসাহ দেবে।” যদিও ইডেনে অভিষেকে ব্যর্থ ড্রাকা। ২ ওভারে ৩৭ রান দিয়েছেন তিনি। নিয়েছেন একটি উইকেট। কিন্তু তাঁর বোলিং নজর কাড়েনি। গতি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ কম। হতে পারে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পরের ম্যাচগুলিতে ফেরার চেষ্টা করবেন ড্রাকা।
হার্দিক তাঁর পছন্দের ক্রিকেটার। এক দিন হার্দিকের সঙ্গে এক মাঠে খেলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ড্রাকা বলেন, “হার্দিকের সঙ্গে খেলা আমার স্বপ্ন। যদি নক আউটে উঠতে পারি ও ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে পারি, তা হলে সেটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হবে। আমি পেসার হলেও ব্যাট খারাপ করি না। নিজেকে অলরাউন্ডারই মনে করি। হার্দিক যে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে, সেটা আমার খুব ভাল লাগে।”