টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামার আগে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সতর্কবার্তা পেলেন সূর্যকুমার যাদবেরা। ধোনির মতে, এই বিশ্বকাপ জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার ভারতই। কিন্তু একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে ভারতীয় দলকে। পাশাপাশি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির এক দিনের ভবিষ্যৎ নিয়েও মুখ খুলেছেন ধোনি।
সূর্যেরাই এগিয়ে
একটি অনুষ্ঠানে ধোনিকে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ভারত অন্যতম ভয়ঙ্কর দল। এই দলে সব আছে। অভিজ্ঞতা আছে। তারুণ্য আছে। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার মানসিকতা আছে। প্রত্যেকে জানে তার ভূমিকা ঠিক কী। সেই কাজটা সে ভাল করে করছে। তাই বিশ্বকাপে আমি সূর্যদের দলকেই এগিয়ে রাখব।”
ধোনির চিন্তা শিশির। বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় চলাকালীনও সূর্য বার বার শিশিরের কথা বলেছেন। ধোনিও সেই ব্যাখ্যাই দিলেন। তিনি বলেন, “আমার একটাই চিন্তা হচ্ছে। শিশির। এই একটা বিষয় খেলার ছবি বদলে দিতে পারে। টস খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। হয়তো এমনি সময়ে বিশ্বের সেরা দলগুলোকে ১০ বারের মধ্যে আট বার হারাবে ভারত। কিন্তু শিশির পড়লে কী হবে কিচ্ছু বলা যায় না।”
কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে কয়েকটি ওভারে খেলার ছবি বদলে যায়। সেই কারণে প্রত্যেককে ফিট থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ধোনি। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টিতে তোমার দলের ক্রিকেটারদের একটা দিন খারাপ যেতে পারে। আবার প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটারদের হয়তো সেটাই দিন। যা কিছু হতে পারে। তাই অধিনায়কের হাতে বিকল্প থাকাটা খুব জরুরি। বিশেষ করে নক আউট পর্বে। তাই আমি সকলকে বলব, চোট যেন না লাগে।”
আরও পড়ুন:
রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ
সেই অনুষ্ঠানে রোহিত-কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ধোনিকে। দুই তারকার কি ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ খেলা উচিত? প্রথমে ধোনি এমন ভাব করেন যেন প্রশ্নটি শুনতেই পাননি। পরে অবশ্য জবাবও দেন তিনি। ধোনি বলেন, “কেন খেলা উচিত নয়? ওরা চাইলে খেলতেই পারে। আমার কাছে বয়স কোনও বিষয় নয়। ফিটনেস আর পারফরম্যান্সটাই আসল। আমি যখন ভারতের হয়ে ২৪ বছর বয়সে অভিষেক করেছিলাম, তখন আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তা হলে ২০ বছর পরে কেন বলবে?”
ধোনির মতে বয়স নয়, ফিটনেসটাই আসল। সেটা যে বয়সেই হোক না কেন। তিনি বলেন, “বয়স কোনও বিষয় নয়। ফিটনেসটাই আসল। যদি ২২ বছরের কোনও ক্রিকেটার ফিট না হয়, তা হলে তার দলে জায়গা নেই। রোহিত, বিরাট রান করছে। ফিটনেসে সমস্যা নেই। তা হলে ওদের ভবিষ্যৎ ঠিক করার ক্ষমতা আমাদের কে দিয়েছে। ওরা সেটা ঠিক করবে। যদি এই বয়সেও ওরা দলকে জেতাতে পারে, তা হলে কেন খেলবে না।”
বিশ্বকাপে যে অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন ধোনি। আর ভারতের এই দলে সেই অভিজ্ঞতা রোহিত-কোহলির থেকে বেশি কারও নেই। ধোনি বলেন, “২০ বছরের কোনও ক্রিকেটারের মধ্যে তো সচিন তেন্ডুলকরের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে না। সেটা ১০-১২ বছর খেলার পর হবে। রোহিত, বিরাট এত বছর ধরে খেলছে। ওরা এত কিছু দেখেছে। ওরা থাকলে বাকিদের পরামর্শ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই দিকটাও আমাদের ভাবতে হবে। কঠিন সময়ে পরিস্থিতি সামলাতে ওদের দরকার। সবার উপরে দেশের স্বার্থ। জয়টাই আসল।”