Advertisement
E-Paper

শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূতই নন, নিউ জ়িল্যান্ডের অশোক মনে-প্রাণে এ দেশেরই, হাতে রজনীকান্তের সংলাপ লেখা স্পিনারের চাই রো-কো’র উইকেট

আর পাঁচ জন লেগ স্পিনারের মতো আদিত্য অশোকেরও আদর্শ শেন ওয়ার্ন। নিউ জ়িল্যান্ডের ক্রিকেটার মেনে চলেন আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধির পরামর্শ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
picture of cricket

আদিত্য অশোক। ছবি: এক্স।

আদিত্য অশোক। নিউ জ়িল্যান্ডের নতুন লেগ স্পিনার। ২৩ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত বোলারকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অশোকের চেয়েও ক্রিকেটপ্রেমীদের বেশি নজর কেড়েছে তাঁর হাতের ট্যাটু।

নিউ জ়িল্যান্ডের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গিয়েছে অশোকের। ২০২৩ সালের অগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। সে বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে দু’টি এক দিনের ম্যাচ খেলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অশোকের অভিজ্ঞতা বলতে এই তিনটি ম্যাচ। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের আগে সেই লেগ স্পিনারই আলোচনার কেন্দ্রে।

শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূত নন, নিউ জ়িল্যান্ডের লেগ স্পিনার আসলে ভারতীয়ই। মনেপ্রাণে নিজের জাতিসত্তা আগলে রেখেছেন ২৩ বছরের তরুণ। ৪ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাকাপাকি ভাবে পৃথিবীর অন্য গোলার্ধে চলে গেলেও শিকড় ভোলেননি তামিল যুবক। এখনও তাঁর হৃদয়জুড়ে রয়েছে জন্মস্থান ভেলোর। রয়েছে তামিল সংস্কৃতি, আচার।

ছোটবেলায় অশোকের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিলেন তাঁর দাদু। দাদুর সঙ্গে কাটানো সময়গুলি ভুলতে চান না। দাদুর সঙ্গে রজনীকান্তের সিনেমা দেখতেন অশোক। একটি সিনেমা মুগ্ধ করেছিল ছোট্ট অশোককে। সেই সিনেমা থেকে রজনীকান্তের একটি ছোট সংলাপ লিখে রেখেছেন বোলিং আর্মে। তামিলে লেখা সেই সংলাপের অর্থ, ‘আমার পদ্ধতিই বিশেষ পদ্ধতি।’ অশোক বলেছেন, ‘‘দাদুর সঙ্গে দেখা আমার শেষ সিনেমা রজনিকান্তের পদয়াপ্পা। সে বার যখন আমরা ভেলোরে এসেছিলাম, দাদু তখন বেশ অসুস্থ। দাদুর সঙ্গে নানা কথা হত। সেগুলো খুব ব্যক্তিগত। দাদু অনেক কিছু শিখিয়েছেন জীবন সম্পর্কে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমরা সিনেমাটা দেখেছিলাম। রজনীকান্তের মুখে সংলাপটা ছিল। দাদুর সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমার কাছে অমূল্য।’’

নিউ জ়িল্যান্ডের অকল্যান্ডে থাকলেও স্বাস্থ্যকর্মী বাবা-মায়ের সঙ্গে বহু বার ভারতে এসেছেন। পরিবারের অন্য সদস্য এবং আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন নিয়মিত। ক্রিকেট শেখার জন্যও এ দেশে এসেছেন একাধিক বার। গত বছর জুলাইয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের অ্যাকাডেমিতে এসেছিলেন প্রশিক্ষণ নিতে। কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ অশোকের ক্রিকেট ভাবনা বদলে দেয়। লাল মাটি এবং কালো মাটির পিচের পার্থক্য বুঝতে শিখেছেন সিএসকের অ্যাকাডেমিতে। কোন পিচে কতটা ফ্লাইট দিতে হয়, কোন পিচে বলের গতি কেমন রাখতে হয়— এ সব কিছু শিখেছেন। অ্যাকাডেমির প্রধান কোচ শ্রীরাম কৃষ্ণমূর্তির অবদানের কথা কখনও অস্বীকার করেন না অশোক। যে কোনও সমস্যায় কৃষ্ণমূর্তির পরামর্শ নেন।

অশোকের আদর্শ ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন। তবে নিউ জ়িল্যান্ডের আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধির পরামর্শও নেন সব সময়। অশোক বলেছেন, ‘‘ও আমার দাদার মতো। যে কোনও সময় কথা বলতে পারি। পরামর্শ চাইতে পারি। আর আমার মেন্টর হলেন তরুণ নেথুলা।’’ ভারতে জন্ম হলেও অশোকের ক্রিকেট শেখা শুরু নিউ জ়িল্যান্ডে। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন শুরুতেই থমকে দিয়েছিল পিঠের গুরুতর চোট। নিউ জ়িল্যান্ডের যে চিকিৎসক জসপ্রীত বুমরাহের পিঠে অস্ত্রোপচার করেছিলেন, তিনিই অশোকের অস্ত্রোপচার করেছেন। চোটমুক্ত অশোক আর পিছনে তাকাতে চান না। প্রথম বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে ভারতে এসেছেন। দলে রয়েছেন মিচেল স্যান্টনার, সোধি, অজাজ় পটেলের মতো স্পিনার। জানেন না কতটা খেলার সুযোগ পাবেন। সুযোগ পেলে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাকে আউট করার চেষ্টা করবেন। ভারতের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে নিউ জ়িল্যান্ডের ‘রজনীকান্ত’ হয়ে উঠতে চান অশোক।

India Vs New Zealand ODI Rajnikanth
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy