E-Paper

কেন্দ্রীয় বাহিনী ফের স্কুলেই থাকলে চিন্তা শিক্ষা নিয়ে

জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে রাজ্যে ৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে।

সামসুদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের কাজে বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজে লাগিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যার জেরে এসআইআর পর্বে বিদ্যালয়গুলিতে, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা লাটে উঠেছে বলে দাবি। বিএলওদের এসআইআরের কাজের চাপ কিছুটা কমতে সবে তাঁরাও বিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। আর তাতেই সিদুঁরে মেঘ দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তাঁদের অভিযোগ, বরাবরই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য বিদ্যালয় ভবন ছেড়ে দিতে হয়। যার জেরে সে সব বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন ব্যাহত হয়। সে কথা মাথায় রেখে এ বারে আগে থেকে শিক্ষাবিদরা বলতে শুরু করেছেন বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য কোথাও রাখতে হবে।

জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে রাজ্যে ৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। তাদের থেকে মুর্শিদাবাদ জেলাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হবে। ১ মার্চ ও ১০ মার্চ দু’দফায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার কথা। তবে জেলায় ঠিক কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে তা এখনও নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়নি বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, ‘‘আমরা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসককে বলব যাতে বিদ্যালয় বাদ দিয়ে অন্য কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার ব্যবস্থা করা হয়। বিদ্যালয়ে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী না রাখা হয় আমরাও সেই চেষ্টা করছি।’’

মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যাতে বিদ্যালয় বাদ দিয়ে অন্য কোথাও রাখা যায় তার চেষ্টা আমরা করব।’’

বহরমপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিদ্যালয়ে রাখার প্রসঙ্গ সমাজ মাধ্যমে উত্থাপন করেছেন। নির্মল সরকার সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আগামী ১ মার্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। এই বাহিনী থাকার জন্য বিদ্যালয়গুলো যাতে ব্যবহার না হয় তার জন্য প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠুক।’’ যা দেখে ডোমকলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইজিদ হোসেন লিখেছেন, ‘‘খুব ভাল প্রস্তাব। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে বিদ্যালয় বন্ধ হবে। লেখাপড়া স্তব্ধ হবে।’’

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এসআইআরের কাজে বহু শিক্ষককে নেওয়া হয়েছে। তার জন্য পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে। তার পরে সবে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সবে হয়েছে। এবারে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার জন্য বিদ্যালয় নিলে পঠনপাঠন আবার ব্যাহত হবে।’’

সঞ্জয় প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা আছে কী?’’ তাঁর প্রস্তাব, ‘‘যেখানে সম্ভব বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখতে হবে।’’

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যতটা সম্ভব বিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখতে হবে। না হলে পড়াশোনার বারোটা বাজবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Murshidabad West Bengal Assembly Election 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy