ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি সাহানা বিশ্বাসের স্বামী শরিফুল ইসলামকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিন জনের নামে থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাজ্যের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকত। সেই টাকা হাতিয়ে নিতেন শরিফুল। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মুর্শিদাবাদে এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ধৃতের স্ত্রী তথা ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাহানা বিশ্বাস জানান, কিছু দিন আগে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিডিও তাঁর স্বামীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘এখন শুনছি তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢোকে। বিষয়টা আসলে কী, আমিও জানি না। আইসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারব।” তিনি এ-ও জানান, তাঁর স্বামী একটি ক্রেতা পরিষেবাকেন্দ্র চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শরিফুল অন্যের নথিপত্র ‘ভাড়া’ নিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তার পরে সেই সব অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা নিতেন। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে আসার পরে তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তৃণমূলের ডোমকল কোর কমিটির সদস্য বশির মোল্লা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এ রকম হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই তার শাস্তি ভোগ করতে হবে।’’ ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, ‘‘আমরা আগে বারবারই বলার চেষ্টা করেছি, ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতি দুর্নীতিকারীদের ঘুঘুর বাসা। এখন সব প্রকাশ্যে আসছে। আমরা চাইব অবশ্যই এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” কংগ্রেসের ডোমকল ব্লকের সভাপতি মসিউর রহমান রানা জানান, অভিযোগ সত্য হলে ধৃতের অবশ্যই আইনানুগ শাস্তি হওয়া দরকার।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বুধবার জানান যে, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এ দেদার বেনোজল ঢুকেছে। আর সেই কারণেই যোগ্য মানুষদের চিহ্নিত করতে প্রত্যেককেই এ বার ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর ফর্ম পূরণ করতে হবে। জালিয়াতির উদাহরণ হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী রাকিবুল শেখের নাম, ঠিকানা ও বাড়ির সমস্ত তথ্য প্রকাশ করেন। অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর ভাতা পাচ্ছিলেন রাকিবুল। শুধু তা-ই নয়, তাঁর স্ত্রী-ও এই সুবিধা পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের টাকা স্থানীয় বাসিন্দা তারিকুর রহমান পাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। একটা নয়, তারিকুরের অন্তত আটটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা ঢুকছিল। সেই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।