Advertisement
E-Paper

চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে কল্যাণ! ঢিল লেগে মাথায় চোট পেয়ে পড়ে গেলেন সাংসদ

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু (মুখ্যমন্ত্রী) মাইনে দেন না। থানার আইসি ইচ্ছা করে আমাকে মার খাওয়ালেন।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ১১:৪২
রবিবার সকালে চণ্ডীতলা থানার সামনে মাথায় চোট পেয়ে পড়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার সকালে চণ্ডীতলা থানার সামনে মাথায় চোট পেয়ে পড়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। — নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি, আটকের প্রতিবাদে রবিবার সকালে চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়ে আহত হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়েছে। তাতে মাথায় আঘাত লেগে তৃণমূল সাংসদকে পড়ে যেতে দেখা যায়। তাঁকে হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে। মাথার পিছনে যেখানে চোট পেয়েছেন, সেই জায়গায় রুমাল চেপে ধরে থানার সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন কল্যাণ।

পরে চণ্ডীতলা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান কল্যাণ। তিনি জানান, তাঁকে ঢিল ছুড়ে আঘাত করা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন,কোনও মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। কল্যাণ একটা অভিযোগ জমা দিয়েছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখা হচ্ছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ভিড়ের মধ্যে এক জন মোবাইল দিয়ে কল্যাণের মাথার পিছনে আঘাত করে পালিয়ে যান (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)। রবিবার দুপুরে কল্যাণকে তাঁর ভবানীপুরের বাড়িতে দেখতে যান তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে সমাজমাধ্যমে মমতা পোস্ট দিয়ে জানান, বিজেপি ‘পরিকল্পনা’ করে কল্যাণের উপরে হামলা চালিয়েছে। যেমন শনিবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর করা হয়েছিল।

রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে তাঁর ভবানিপুরের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে তাঁর ভবানিপুরের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — নিজস্ব চিত্র।

অন্য দিকে, অসিত মজুমদার,চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ,ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা,কাউন্সিলর রঞ্জন রাহা,নির্মল চক্রবর্তী,সমীর সরকার-সহ ১০ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করল চুঁচুড়া থানার পুলিশ। শনিবার সোনারপুরে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। সেই ঘটনায় শনিবার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অসিতেরা। সেই ঘটনায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অসিত, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ-পাঁচ জনের চার দিনের জেল হেফাজত হয়েছে। দুই কাউন্সিলর-সহ বাকি পাঁচ জনের চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অভিষেকের ঘটনা এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি এবং হেনস্থার প্রতিবাদে রবিবার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যান কল্যাণ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরাও। তাঁরা থানার সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কল্যাণ জানিয়েছেন, সে সময় তাঁকে লক্ষ্য করে দূর থেকে ঢিল ছোড়া হয়। তাতে মাথায় আঘাত লাগে তৃণমূল সাংসদের। তিনি থানার সামনেই তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে বসে পড়েন।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। — নিজস্ব চিত্র।

এর পরেই বিজেপির দিকে আঙুল তুলে কল্যাণ বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী খুনি মুখ্যমন্ত্রী। স্বেচ্ছাচারী। যে কোনও উপায়ে (আমাদের) মেরে ফেলতে চায়। বাংলার মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা সচেতন হন। আজ আমায় মারছে, আপনি দূর থেকে দেখছেন। কাল বিজেপির গুন্ডারা আপনার মেয়েকে যখন টেনে ধরবে, তখন আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। যত দিন তৃণমূল রয়েছে, যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, তত দিন আমরা লড়াই করে যাব।’’

তৃণমূল সাংসদ আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকেও। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু মাইনে দেন না। থানার আইসি ইচ্ছা করে আমাকে মার খাওয়ালেন।’’ তার পরেই রাজ্যবাসীর কাছে কল্যাণ আবেদন করে বলেন, ‘‘ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। কিন্তু প্রতিবাদ করুন। বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে। স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করুন, যে যেখানে রয়েছেন। আমাদের দলে কিছু লোক রয়েছেন, যাঁরা কবিতা লেখেন। বিজেপির চামচাগিরি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করুন।’’ থানার সামনে অবস্থানরত কল্যাণের সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিক কথা বলতে এলে তিনি বলেন, ‘‘এক জন সিআইএসএফ জওয়ানের জন্য বেঁচে গিয়েছি। রাজ্য পুলিশের হাতে বাঁচব না। এমপিদের প্রিভিলেজ রয়েছে, তা কি পুলিশ জানে!’’ থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন কল্যাণ। হুগলি পুলিশ যদিও জানিয়ে দিয়েছে, কোনও মারপিটের ঘটনা হয়নি। কল্যাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক। এলাকায় পৌঁছোতেই জনরোষের কবলে পড়েন তিনি। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো এবং ডিম ছোড়া হয়। পাথরও ছোড়েন কেউ কেউ। সঙ্গে চলে ‘চোর চোর’ স্লোগান। আঘাত থেকে বাঁচতে অভিষেক মাথায় হেলমেট পরে নিয়েছিলেন। তার পরেও ধস্তাধস্তিতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। নিহত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘ ক্ষণ সেখানেই বসেছিলেন অভিষেক। বিকেলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দাবি, হামলা বিজেপির পরিকল্পিত। তার পরে রবিবার চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়ে কল্যাণ হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।

Kalyan Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy