তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের জন্য প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার। অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করতে গিয়ে সেই প্রকল্পের এমন প্রচুর পুরুষ উপভোক্তা পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি বিজেপির। ঠিক সেই সময়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক কাউন্সিলর। শনিবার তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শ্রীরামপুর থানার আইসি-কে খোঁচা দিয়ে ‘সুন্দরবনের সিংহম’ বলেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। সেই আইসি-র নেতৃত্বে পুলিশ ধরেছে কল্যাণ-ঘনিষ্ঠ হুগলির রিষড়ার কাউন্সিলর পার্থ সারথি গুপ্ত ওরফে পাপ্পু।
সম্প্রতি রিষড়া পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উর্মিলা দেবী অভিযোগ করেছিলেন তাঁর লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা অন্য এক জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপ্পুর কাছে গিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেন সেই মহিলা। তিনি জানান, তাঁর প্রাপ্য সরকারি ভাতা বিজয় সাউ নামে এক ব্যাক্তির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তিনি সে কথা জানতে পারার পরে যখন অভিযোগ করতে যান তখন পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন কাউন্সিলর। বেআইনি জেনেও ‘মধ্যস্থতা’ করেছিলেন ওই জনপ্রতিনিধি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজয়কে আগেই গ্রেফতার করেছে। তার পর গ্রেফতার করা হয় কাউন্সিলরকে। এর আগেও শ্রীরামপুর পুরসভার একজন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করায় থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ। তখন শ্রীরামপুর থানার আইসি-র ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন ‘সুন্দরবনের সিংহম’ বলে। সেই আইসি-র হাতে তাঁর কাছের এক কাউন্সিলরকে দুর্নীতির গ্রেফতার হলেন।