গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘ট্যাক্স কালেক্টর’-এর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার শান্তিপুরে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন ওই প্রৌঢ়। তবে আত্মহত্যার নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মহাদেব পাল (৬৫)। শান্তিপুর থানার বাগআঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘ট্যাক্স কালেক্টর’ অর্থাৎ কর আদায়ের কাজ করতেন তিনি। থাকতেন বাগআঁচড়া গ্রামের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। রবিবার সকালে নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার সূত্রে খবর, পঞ্চায়েতের অধিকাংশ পরিষেবা অনলাইনে চলে যাওয়ার পর থেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন মহাদেব। বয়সের কারণে অনলাইনে কাজকর্মে অতটা স্বচ্ছন্দ্য নন। পরিবারের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে কাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না-পারায় বেশ কয়েক দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মহাদেব। বাড়িতে প্রায়ই এই নিয়ে আক্ষেপ করতেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘ দিন ধরে চর্মরোগের সমস্যাতেও ভুগছিলেন মহাদেব। পরিবারের দাবি, শারীরিক অসুস্থতা এবং কাজের চাপ— দুই মিলিয়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পরিবারের তরফে এ-ও জানানো হয়েছে, সংসারে কোনও অশান্তি বা বিবাদ ছিল না।
আরও পড়ুন:
দিন কয়েক আগেই একমাত্র কন্যার বিয়ে হয়। বর্তমানে বাড়িতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী থাকতেন। রবিবার সকালে নিজের ঘরের সিলিং থেকে মহাদেবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর চিৎকার শুনে চলে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।