আমেরিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি পাকিস্তান।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার কাছে সুপার ওভারে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। এ বারও তেমন লড়াই করতে হল না সলমন আলি আঘাদের। ৩২ রানে জিতে দু’বছর আগের হারের বদলা নিলেন পাক ক্রিকেটারেরা। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে নিউ জ়িল্যান্ডের ১০ উইকেটে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ব্যাটার টিম সাইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। ২০ ওভারের বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন কেকেআরের দুই কিউয়ি ক্রিকেটার। দিনের প্রথম ম্যাচে নামিবিয়াকে ৭ উইকেটে হারাল নেদারল্যান্ডস।
২০ ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের ইনিংসরে আবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল আমেরিকা। যদিও লাভ হয়নি। ভারতের বিরুদ্ধে ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নজর কাড়া শ্যাডলে ভ্যান শালকুইক পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ২৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেন। এ দিন নিজের প্রথম বলেই আউট করেন সাইম আয়ুবকে। প্রথম ওভারে ফেরান সলমনকেও। তাঁর দাপটে শেষ ১০ বলে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন আমেরিকার অধিনায়ক মোনাঙ্ক পটেল। কলম্বোর ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ সে ভাবে কাজে লাগাতে পারল না পাকিস্তান। ৯ উইকেটের বিনিময় ১৯০ রানে শেষ হয় সলমনদের ইনিংস। ভাল রান করলেন ওপেনার শাহিবজ়াদা ফারহান এবং বাবর আজ়ম। ফারহান করেন ৪১ বলে ৭৩। ৬টি চার এবং ৫টি ছক্কা মারেন তিনি। অন্য পাক ওপেনার আয়ুব করেন ১৯। ব্যর্থ অধিনায়ক সলমন (১)। চার নম্বরে নেমে দলকে ভরসা দিলেন বাবর। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাট থেকে এল ৩২ বলে ৪৬ রানের ইনিংস। ৪টি চার এবং ১টি ছয় মারলেন বাবর। এ ছাড়া বলার মতো রান শাদাব খানের ১২ বলে ৩০। মহম্মদ নওয়াজ় (৫), ফাহিম আশরফ (১), উসমান খান (শূন্য), আবরার আহমেদরা (শূন্য) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। শাহিন আফ্রিদি অপরাজিত থাকেন ৯ রান করে।
আমেরিকার মহম্মদ মহসিন ২৭ রানে ১ উইকেট নিলেন। এ দিন আমেরিকার হয়ে আন্তর্জাতি ক্রিকেটে অভিষেক হল পাকিস্তানের প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার এহসান আদিলের। পুরনো দলের বিরুদ্ধে বল হাতে তেমন কিছু করতে পারলেন না। ৩ ওভার হল করে ৩৯ রান দিলেও উইকেট পেলেন না।
জয়ের জন্য ১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি আমেরিকা। ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গির আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন। ২২ গজের অন্য প্রান্তে আন্দ্রিস গাউস স্বচ্ছন্দে ছিলেন না। ১৩ বলে ১৩ রান করে আউট হয়ে যান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৫০ রান তোলে আমেরিকা। প্রথম উইকেট হারানোর পর রান তোলার গতি বজায় রাখতে পারেনি আমেরিকা। ধীরে ধীরে লড়াই থেকে হারিয়ে যায় মোনাঙ্কের দল। জাহাঙ্গিরও অর্ধশতরান পূর্ণ করতে পারেননি। ৩৪ বলে ৪৯ রানে করে আউট হন শাদাবের বলে। ব্যর্থ অধিনায়ক মোনাঙ্ক (৩)। দু’বছর আগে তিনিই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন। চতুর্থ উইকেটের জুটিতে কিছুটা লড়াই করেন মিলিন্দ কুমার এবং শুভম রঞ্জনে। মিলিন্দ করেন ২২ বলে ২৯। শেষ পর্যন্ত শুভম করেন ৩০ বলে ৫১। মারেন ৩টি চার এবং ৩টি ছয়। বাকিরা দলকে সাহায্য করতে পারলেন না। আমেরিকার ইনিংস শেষ হল ৮ উইকেটে ১৫৮ রানে।
পাকিস্তানের সফলতম বোলার উসমান তারিক ২৭ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ২৬ রানে ২ উইকেট শাদাবের। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শাহিন, আবরার এবং নওয়াজ।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আমিরশাহি বিরুদ্ধে একপেশে ম্যাচ জয় পায় কিউয়িরা। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান করে আমিরশাহি। ওপেনার মুহাম্মদ ওয়াসিম ৪৫ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ৪টি চার এবং ৩টি ছয় মারেন তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আলিশান শারাফু করেন ৪৭ বলে ৫৫। ৫টি চার এবং ২টি ছয় মারেন। ১৩ বলে ২১ করেন ময়ঙ্ক কুমার। নিউ জ়িল্যান্ডের ম্যাট হেনরি ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ড কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৫.২ ওভারে করে ১৭৫ রান। কেকেআরের দুই ক্রিকেটার সাইফার্ট এবং অ্যালেন ওপেন করতে নেমে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন। সাইফার্ট ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১২টি চার এবং ৩টি ছয়। অ্যালেন করেন ৫০ বলে ৮৪। ৫টি করে চার এবং ছক্কা মারেন তিনি।
আরও পড়ুন:
আমিরশাহির কোনও বোলারই নিউ জ়িল্যান্ডের দুই ওপেনারের আগ্রাসন বন্ধ করতে পারেননি। তাঁদের জুটিতে উঠেছে ৯২ বলে ১৭৫ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে কোনও উইকেটের জুটিতেই এত রান ওঠেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
অন্য ম্যাচে, প্রথমে ব্যাট করে নামিবিয়া করে ৮ উইকেটে ১৫৬। জান নিকোল লফটি ইটন সর্বোচ্চ ৩৮ বলে ৪২ রান করেন। এ ছাড়া ওপেনার জান ফ্রাইলিঙ্ক করেন ২৬ বলে ৩০। নেদারল্যান্ডসের সফলতম বোলার লোগান ভ্যান বিক ১৩ রানে ২ উইকেট নেন। ২০ রানে ২ উইকেট বাস ডে লিডের। জবাবে ১৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫৯ রান করে নেদারল্যান্ডস। সর্বোচ্চ লিডের ৪৮ বলে অপরাজিত ৭২। ৫টি পাঁচ এবং ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। কলিন অ্যাকেরম্যান করেন ২৮ বলে ৩২। নামিবিয়ার সফলতম বোলার বার্নার্ড স্কোলৎজ় ২৭ রানে ১ উইকেট নেন।