নবান্নের তরফে মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃত ভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেসের বিষয়বস্তু বিকৃত করছে, যা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণ অনুসারে করা হয়েছে।
এর পরেই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা— ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ বিভাগ কর্তৃক ০৬.১০.২০২০ তারিখের স্মারকলিপি নম্বর ২১৬০-এফ(জে)ডব্লিউবি-এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপিত বিদ্যমান বেতন-স্তরের মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। উক্ত স্মারকলিপি অনুসারে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’-তে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গ্রুপ ‘বি’ কর্মচারীদের তালিকা প্রস্তুত এবং জমা দেওয়া এই বিজ্ঞাপিত নিয়মগুলি কোনও বিচ্যুতি ছাড়াই অনুসরণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি কিছু অংশের দ্বারা অনিয়ম বা হেরফের অভিযোগে সংবাদমাধ্যমে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সে দিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, রাজ্যকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত যোগ্য কর্মী দেয়নি। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হচ্ছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আদালতে স্পষ্ট ভাবে জানান, রাজ্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য অফিসার দিতে প্রস্তুত। তার পরেই গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসার এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য দেওয়ার কথা জানায়। তবে সোমবারের (৯ ফেব্রুয়ারি) শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়, এই ৮৫০৫ জন অফিসারের সম্পূর্ণ তালিকা আগে কমিশনকে পাঠানো হয়নি। কারণ, কমিশনের সম্মতির অপেক্ষা করা হচ্ছিল। তাই শুনানির মধ্যেই সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ বার নবান্নের তরফে গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের ডেটাবেসের বিষয়বস্তু বিকৃত করার অভিযোগ তোলা হল।