সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের দেওয়া ৮,৫০৫ কর্মীর নিয়োগ ঘিরে মাথাব্যাথা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের। সূত্রের খবর, তাঁদের কত জনকে, কী ভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখন চিন্তায় কমিশন। আপাতত রাজ্যের কাছে ওই কর্মীদের বায়োডেটা চেয়েছে সিইও দফতর।
রাজ্যের সিইও দফতর জানাচ্ছে, রাজ্য তালিকা পাঠালে তা খতিয়ে দেখা হবে। সেখান থেকে বাছাই করা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সব শেষে সিস্টেমে লগইন করাতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে ওই কর্মীদের কাজে যোগ দিতে দিতে পাঁচ-সাত দিন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে যাবে। ফলে তাঁদের কত দিনে নিয়োগ করা যাবে এবং মাঝপথে কী কাজ দেওয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের কাজে ৮,৫০৫ কর্মীর তালিকা কমিশনের হাতে তুলে দেয় রাজ্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্টেও সেই বিষয়টি জানানো হয়। শীর্ষ আদালত জানায়, এই কর্মীদের সবাইকে গ্রুপ-বি পদমর্যাদার হতে হবে। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের সঙ্গে শুধুমাত্র ইআরও-দের সাহায্য করতে পারবেন। যদিও কোর্টে কমিশনের বক্তব্য ছিল, রাজ্যের পাঠানো তালিকায় সবাই গ্রুপ-বি অফিসার নন। তালিকায় অন্য অফিসারেরাও রয়েছেন। গ্রুপ-সি এবং এইআরও হিসাবে কাজ করেছেন, এমন অফিসারও রয়েছেন।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এসআইআরের কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। তাই বাইরের রাজ্য থেকে আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হয়েছে। এর পর আদালত রাজ্য সরকারকে তালিকা দিতে বলেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছিল, কত জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে রাজ্য সরকার এসআইআর-এর কাজের জন্য দিতে পারবে, তা সোমবারের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই মতো শনিবারই নবান্নের তরফে একটি চিঠি দিয়ে কমিশনকে জানানো হয়েছে, এসআইআরের কাজের জন্য ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে পারবে রাজ্য সরকার।