পাকিস্তানের ইনিংসের মাঝপথে মনে হয়েছিল ২০০ রানও করতে পারবে না তারা। দাপট দেখাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার বোলারেরা। কিন্তু শেষ দিকে মহম্মদ রিজওয়ান ও ইফতিখার আহমেদ নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন। সেই সঙ্গে কিছু ভুল করলেন শ্রীলঙ্কার বোলারেরা। তার ফলে এশিয়া কাপের ‘সেমিফাইনালে’ প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫২ রান করল পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে খেলা কমে ৪২ ওভারের হয়েছে। পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ২৫২ রানই করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে।
খেলা শুরুর আগে বেশি কিছু ক্ষণ বৃষ্টি হওয়ায় টস হতে দেরি। প্রথমে খেলা কমে ৪৫ ওভার করা হয়। পরে আরও এক বার বৃষ্টি হওয়ায় ওভার কমে হয় ৪২। ভারতের বিরুদ্ধে হারের পরে দলে ছ’টি বদল করেছিল পাকিস্তান। তার মধ্যে চারটি বদল বাধ্য হয়ে করতে হয়েছিল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাবর আজ়ম।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জমান এই ম্যাচেও রান পাননি। ৪ রান করে প্রমোদ মদুশনের বলে আউট হন তিনি। ইমাম উল হকের বদলে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া আবদুল্লা শফিক ভাল খেলছিলেন। তাঁকে সঙ্গে দেন বাবর। কয়েকটি ভাল শট খেললেও বড় রান করতে পারেননি পাক অধিনায়ক। ২৯ রান করে দুনিথ ওয়েলালাগের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে স্টাম্প আউট হন তিনি।
শফিক ভাল খেলছিলেন। এক দিনের ক্রিকেটে নিজের প্রথম অর্ধশতরান করেন তিনি। কিন্তু তার পরেই মাথিশা পাথিরানার বলে আউট হন। মহম্মদ হ্যারিস ও মহম্মদ নওয়াজও রান পাননি। ১৩০ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের। সেখান থেকে দলের হাল সামলান রিজওয়ান ও ইফতিখার। জুটি গড়ার কাজ শুরু করেন তাঁরা। প্রথম দিকে ঝুঁকি নিচ্ছিলেন না। এক বার হাত জমে যাওয়ার পরে বড় শট খেলতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নিয়ে খেলেন রিজওয়ান। অর্ধশতরান করেন তিনি। পাক ব্যাটারদের পরিকল্পনা ছিল, প্রতি ওভারে একটি বা দু’টি বড় শট খেলার। বাকি বলগুলিতে দৌড়ে রান নিচ্ছিলেন তাঁরা। ফলে প্রতি ওভারেই ১০-১২ করে রান উঠছিল। শেষ দিকে ফিল্ডিংয়ে কিছু ভুল করে শ্রীলঙ্কা। তার ফায়দা তোলেন দুই ব্যাটার। ৪৭ রান করে আউট হন ইফতিখার। কিন্তু তত ক্ষণে লড়াই করার মতো রান হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের।
শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫২ রান করে পাকিস্তান। রিজওয়ান ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। জিততে গেলে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ২৫২ রান করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের সামনে এই রান তাড়া করা সহজ হবে না শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের পক্ষে।