টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবেন কি না, তার উত্তর দেওয়ার জন্য হাজির হয়েছিলেন সাংবাদিক বৈঠকে। সেখানে হঠাৎই পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম নিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোনও হুমকিকে ভয় পান না। কবে ভারত-ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেই ব্যাপারেও জানিয়ে দিয়েছেন।
ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তির হুমকি দিয়েছিল আইসিসি। সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হতেই নকভি বলে ওঠেন, “এ ধরনের হুমকিতে না আমি ভয় পাই, না আমাদের সরকার। এ সব হুমকিতে আমাদের ভয় পাওয়ানো যাবে না। সকলে আমাদের ফিল্ড মার্শালকে (মুনির) চেনে। আমরা কোনও শাস্তিকে ভয় পাই না।”
উল্লেখ্য, গত বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালীন মুনির ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের তরফে পাকিস্তানের মাটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান করা হয়। তা প্রতিহত করার এবং ভারতকে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল মুনিরের নেতৃত্বে। যুদ্ধ থামার পরেই সেনাপ্রধান থেকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয় মুনিরকে।
এ দিন নকভি জানিয়েছেন, তাঁর উল্লেখ করা কিছু বিষয় নিয়ে আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জবাবের অপেক্ষা করছেন। নকভির কথায়, “ওদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা আমার পক্ষে ঠিক নয়। ওদের উত্তর পেলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আইসিসির উত্তর পেলেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরামর্শের জন্য যাব আমরা। কাল বা পরশু কোনও ঘোষণা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অতিথিদের সম্মান করি। আইসিসি আমাদের দেশে এসেছিল। ওদেরও সম্মান করেছি। এই মুহূর্তে আইসিসি এবং বাংলাদেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। তাই আমার কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। বাংলাদেশের অবস্থান এতটাই দৃঢ় ছিল যে, ওদের পাশে দাঁড়াতেই হত।”
আইসিসি-র তরফে ইমরান খোয়াজা বৈঠকে ছিলেন। আলোচনার মাঝেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে নকভি একটি প্রশ্ন করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে পাক বোর্ডের এক সূত্র বলেছেন, “খোয়াজার কাছে নকভি জানতে চান, কোনও ভারতীয় কর্তার হাত থেকে পাকিস্তান দল যদি এশিয়া কাপের ট্রফি নিতে অস্বীকার করত, তখনও কি আইসিসি চুপ করে বসে থাকত?” খোয়াজা কী বলেছেন, তা অবশ্য জানা যায়নি।
এ দিকে, ‘এনডিটিভি’র খবর অনুযায়ী, বৈঠকে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের তরফে আরও একটি দাবি তোলা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ় খেলতে চায় পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। আইসিসি জানিয়েছে, বিষয়টি বিসিসিআইয়ের অনুমতির উপর নির্ভরশীল। দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক সিরিজ় নিয়ে সিদ্ধান্ত আইসিসি নিতে পারে না।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি, পাকিস্তানের হয়ে মুখ খুলে বাংলাদেশ দাবি করেছে, ভারতের সঙ্গে যে ‘হাইব্রিড মডেল’-এর চুক্তি রয়েছে, তা বাড়িয়ে ২০৩১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত করা হোক। এই মুহূর্তে চুক্তি রয়েছে ২০২৭ পর্যন্ত। ২০৩১ এক দিনের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত এবং বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে পাকিস্তান সব ম্যাচ বাংলাদেশে খেলতে চায়। সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।