Advertisement
E-Paper

পর পর চার ম্যাচে হার মুম্বইয়ের! জলে গেল ডি’ককের শতরান, প্রভসিমরন-শ্রেয়সের ব্যাটে হার্দিকদের হারিয়ে শীর্ষে পঞ্জাব

কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আইপিএলের শেষে থাকার লড়াই চলছে তাদের। দুই দলই একের পর এক ম্যাচ হারছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০০
cricket

পঞ্জাবের জয়ের দুই নায়ক শ্রেয়স আয়ার (বাঁ দিকে) ও প্রভসিমরন সিংহ। ছবি: বিসিসিআই।

কী হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের? কলকাতা নাইট রাইডার্সে নয় ম্যাচ জেতানোর মতো ক্রিকেটারের অভাব। কিন্তু মুম্বইয়ে তো তা নেই। ভারতীয় দলে খেলা পাঁচ ক্রিকেটার রয়েছেন। তার মধ্যে দু’জন ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক। রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। ভাল মানের বিদেশি ক্রিকেটারও রয়েছে। কিন্তু তার পরেও হেরেই চলেছে তারা। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে পঞ্জাব কিংসের কাছে উড়ে গিয়েছেন হার্দিক পাণ্ড্যেরা। এই নিয়ে পর পর চারটি ম্যাচ হারলেন তাঁরা।

প্রথমে ব্যাট করে ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান করেছিল মুম্বই। অপরাজিত ১১০ রানের ইনিংস খেলেন কুইন্টন ডি’কক। সেই ইনিংস জলে গেল। প্রভসিমরন সিংহ ও শ্রেয়স আয়ার মুম্বইয়ের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন। ২১ বল বাকি থাকতে ১৯৬ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতলেন তাঁরা। এই জয়ের পর পাঁচ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পঞ্জাব। এই মরসুমে একমাত্র দল হিসাবে এখনও একটি ম্যাচও হারেননি শ্রেয়সেরা। অন্য দিকে এই হারের ফলে পয়েন্ট তালিকায় ন’নম্বরে মুম্বই। পাঁচ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২।

cricket

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ওয়ানখেডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মুম্বই। নিজের দ্বিতীয় ওভারে পর পর দু’বলে উইকেট নেন অর্শদীপ সিংহ। প্রথমে ২ রানের মাথায় রায়ান রিকেলটনকে আউট করেন তিনি। প্রথম বলে শূন্য রানে ফেরেন সূর্যকুমার যাদব। আরও এক ম্যাচে রান পেলেন না সূর্য। তাঁর উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে।

Advertisement

তবে দুই উইকেট পড়ার পরেও রান তোলার গতি কমতে দেননি ডি’কক ও নমন। দু’জনেই হাত খুলে খেলছিলেন। পঞ্জাবের স্পিনার যুজবেন্দ্র চহল ও পেসার জ়েভিয়ার বার্টলেটকে নিশানা করেন তাঁরা। প্রতি ওভারে ১০ রানের বেশি হচ্ছিল। ৬৮ বলে ১২২ রানের জুটি গড়়েন তাঁরা।

সেই জুটি ভাঙেন শশাঙ্ক সিংহ। তাঁকে মারতে গিয়ে ৩১ বলে ৫০ রানে আউট হন নমন। হার্দিক শুরুটা পেলেও বড় রান করতে পারেননি। ১২ বলে ১৪ করে আউট হন। তবে তাঁর উইকেটের কৃতিত্ব শ্রেয়স আয়ারের। বাউন্ডারির বাইরে বল পড়ছিল। শ্রেয়স ঝাঁপিয়ে দু’হাতে বল ধরেন। তিনি বাউন্ডারির বাইরে ছিলেন। শরীর মাটিতে পড়ার আগে ভিতরে বল ছুড়ে দেন তিনি। সেই বল ধরেন বার্টলেট।

আগের ম্যাচে নজর কাড়া শারফেন রাদারফোর্ড এই ম্যাচে রান পাননি। কিন্তু ডি’কককে কেউ আউট করতে পারলেন না। আইপিএলে নিজের তৃতীয় শতরান করলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেন। তাঁর ১১০ রানে ভর করে ১৯৫ রান তুলল মুম্বই। পঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল অর্শদীপ। চার ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আইপিএলে ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছে পঞ্জাবের পেসার।

জবাবে ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করে পঞ্জাব। প্রথম ওভারে দীপক চাহার দেন ২১ রান। সেই ওভারেই বোঝা গিয়েছিল, ম্যাচের ফল কী হতে চলেছে। পঞ্জাবের ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য শুরুটা ভাল করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৯ বলে ১৫ রান করে আল্লা গজ়নফরের বলে আউট হন তিনি। কুপার কোনোলি নেমেই হাত খোলা শুরু করেন। তবে তিনিও বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে থাকেননি। ১২ বলে ১৭ রান করে গজ়নফরের বলেই ফেরেন।

পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ২ উইকেট হারালেও রান তোলার গতি কমেনি পঞ্জাবের। প্রভসিমরন শুরুতে কিছুটা সময় নেন। তখন বড় শট খেলছিলেন শ্রেয়স। একটা সময় পর প্রভসিমরনও ছন্দ পান। তিনি হাত খোলার পর শ্রেয়সকে দেখেও মনে হচ্ছিল, ধীরে ব্যাট করছেন। চাহার, জসপ্রীত বুমরাহ, শার্দূল ঠাকুর, হার্দিকের বিরুদ্ধে বড় শট মারতে ভয় পাচ্ছিলেন না প্রভসিমরন। ওয়ানখেডের পিচ ব্যাটিং সহায়ক ছিল। সেটা সুবিধা করে দেয় তাঁর।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অর্ধশতরান করেন প্রভসিমরন। তাঁর পর শ্রেয়সও অর্ধশতরান করেন। বাধ্য হয়ে বুমরাহকে দিয়ে অনেক আগেই চার ওভার শেষ করিয়ে দেন হার্দিক। এই ম্যাচে চার ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন তিনি। উইকেট পাননি। চলতি আইপিএলে পাঁচ ম্যাচে এখনও পর্যন্ত একটিও উইকেট পাননি বুমরাহ। এই পরিসংখ্যান চিন্তা বাড়াচ্ছে মুম্বইয়ের।

৩৫ বলে ৬৬ রান করে শার্দূলের বলে আউট হন শ্রেয়স। ভাঙে ৬৬ বলে ১৩৯ রানের জুটি। তত ক্ষণে অবশ্য তাঁরা জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন। ৩৯ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন প্রভসিমরন।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হল না উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে বোর্ড।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার।
Mumbai Indians Punjab Kings Shreyas Iyer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy