Advertisement
E-Paper

পঞ্জাবকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে আইপিএলের প্লে-অফে কোহলির বেঙ্গালুরু, শ্রেয়সদের হারে সুবিধা কেকেআরের

পর পর দু’ম্যাচ জিতল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসাবে আইপিএলে প্লে-অফে জায়গা করে নিলেন বিরাট কোহলিরা। টানা আধডজন ম্যাচ হারল শ্রেয়স আয়ারের পঞ্জাব কিংস।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৯:২০
cricket

সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের উল্লাস বিরাট কোহলির। ছবি: পিটিআই।

একটা সময় চিন্তা বাড়ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। মার্কাস স্টোইনিস ও শশাঙ্ক সিংহের ব্যাটে জয়ের আশা দেখছিল পঞ্জাব কিংস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়েও হারতে হল তাদের। পঞ্জাবকে ২৩ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে আইপিএলের প্লে-অফে উঠল বেঙ্গালুরু। আরও এক বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বিরাট কোহলিরা। আইপিএলের শুরুতে প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে ছ’টি জিতে সকলের উপরে ছিল পঞ্জাব। শ্রেয়স আয়ারদের সেই দল টানা আধডজন ম্যাচ হারল। ফলে তাদের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ আরও কমল। এই ফলে অবশ্য মুখের হাসি কিছুটা হলেও চওড়া হল অজিঙ্ক রাহানের। কারণ, পঞ্জাব হারায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ কিছুটা হলেও বাড়ল।

এই ম্যাচের পর ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট বেঙ্গালুরুর। আরও চারটি দল ১৮ পয়েন্টে যেতে পারে। তারা হল, গুজরাত টাইটান্স, সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংস। কিন্তু চেন্নাই বনাম হায়দরাবাদ ও চেন্নাই বনাম গুজরাত ম্যাচ রয়েছে। ফলে চার দলই ১৮ পয়েন্টে যেতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে বেঙ্গালুরুর প্লে-অফ পাকা। অন্য দিকে এই ম্যাচের পর পঞ্জাবের পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১৩। তারা যদি শেষ ম্যাচও হারে তা হলে ১৩ পয়েন্টের বেশি যেতে পারবেন না শ্রেয়সেরা। যদি রাজস্থান ও চেন্নাই পয়েন্ট নষ্ট করে সে ক্ষেত্রে কেকেআরের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ থাকবে। তবে তার জন্য কেকেআরকে নিজেদের বাকি দুই ম্যাচ জিততে হবে।

গত বারের ফাইনাল খেলা দুই দল এ বারের আইপিএলে প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল। গত বারও বেঙ্গালুরু প্রথমে ব্যাট করে জিতেছিল। এ বারও সেই একই ছবি দেখা গেল। তবে বেঙ্গালুরুর এই জয়ে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব প্রাপ্য তাদের ফিল্ডারদের। কোহলি, জেকব বেথেল, রোমারিয়ো শেফার্ডেরা যে ভাবে প্রতিটা বলের জন্য ঝাঁপালেন, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে, প্লে-অফে উঠতে কতটা মরিয়া ছিলেন তাঁরা।

২২৩ রান তাড়া করতে নেমে পঞ্জাবের টপ অর্ডার ব্যর্থ। প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট প্রিয়াংশ আর্য (০)। রান পেলেন না অপর ওপেনার প্রভসিমরন সিংহও (২)। দু’টি উইকেটই নিলেন ভুবনেশ্বর। বুড়ো হাড়েও ভেলকি দেখাচ্ছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থ অধিনায়ক শ্রেয়সও। ১ রান করে রাসিখ দারের বলে আউট হলেন তিনি। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারায় পঞ্জাব। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে তারা।

কুপার কোনোলি ও সূর্যাংশ শেরগে লড়াই ছাড়েননি। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি বড় শট খেলেন। তবে সেই জুটি বড় হয়নি। ২২ বলে ৩৭ রান করে আউট হন কোনোলি। ২২ বলে ৩৫ রানে ফেরেন শেরগে।

একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানে হারবে পঞ্জাব। সেখান থেকে লড়াই শুরু করেন শশাঙ্ক। লক্ষ্য বড় থাকলেও হাল ছাড়েননি তিনি। একের পর এক বড় শট খেলছিলেন। শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৬২ রান। আইপিএলে এই রান অসম্ভব নয়। তখনই নিজের অভিজ্ঞতা দেখালেন জশ হেজ়লউড। স্টোইনিসকে ৩৭ রানের মাথায় আউট করলেন তিনি। সেখানেই পঞ্জাবের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ ওভারে ২৭ বলে ৫৬ রান করে আউট হন শশাঙ্ক। ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান করে পঞ্জাব। ২৩ রানে হারে তারা।

রজত পাটীদার এই ম্যাচে খেলেননি। ফলে বেঙ্গালুরুর অধিনায়কত্ব করছেন জিতেশ শর্মা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার কোহলি ও জেকব বেথেল দ্রুত রান তোলা শুরু করেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টেকেনি সেই জুটি। তৃতীয় ওভারে হরপ্রীত ব্রারের বলে ১১ রানের মাথায় আউট হন বেথেল।

গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বেঙ্গালুরুর ইনিংস টানেন কোহলি ও পড়িক্কল। রান তোলার গতি এক বারের জন্যও কমতে দেননি তাঁরা। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে বড় শট খেলছিলেন দুই ব্যাটার। একটা সময় কোহলির থেকেও এগিয়ে যান পড়িক্কল। সেই জুটি ভাঙেন ব্রার। ৪৫ রানের মাথায় পড়িক্কলকে আউট করেন তিনি। যে ম্যাচে ব্যাটারেরা দাপট দেখালেন, সেই ম্যাচে ভাল বল করলেন ব্রার। চার ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন তিনি।

আগের ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন কোহলি। এই ম্যাচেও করলেন অর্ধশতরান। কিন্তু তার পর বেশি ক্ষণ থাকতে পারেননি কোহলি। যুজবেন্দ্র চহলের বলে ৫৮ রান করে ফেরেন কোহলি।

এ বারের নিলামে বেঙ্গালুরু বেঙ্কটেশকে কিনলেও তেমন সুযোগ পাননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। এই ম্যাচে পাটীদার না খেলায় তাঁকে খেলানো হয়। বেঙ্কটেশ দেখালেন, তিনি কী করতে পারেন। এক বারের জন্যও মনে হয়নি, দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। মনে হল, বেঞ্চ থেকে সেট হয়ে এসেছেন। শুরু থেকে একের পর এক বড় শট খেললেন। কোহলি আউট হলেও বেঙ্গালুরুর রান তোলার গতি যে কমেনি, তার অন্যতম কারণ এই বেঙ্কটেশ। চলতি মরসুমে প্রথম অর্ধশতরান করলেন তিনি।

১৮তম ওভারেই ২০০ রান পার হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর। ক্রিকেটীয় ব্যকরণ মেনে শট খেলার পাশাপাশি রিভার্স সুইপ, র‌্যাম্প, স্কুপ— সব ধরনের শট খেলছিলেন বেঙ্কটেশ। বোলারকে থিতু হতে দিচ্ছিলেন না। অপর প্রান্তে থাকা টিম ডেভিডও হাত খোলা শুরু করেন।

দুই ব্যাটারের দাপটে শেষ পর্যন্ত ২২২ রান করে বেঙ্গালুরু। বেঙ্কটেশ ৪০ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১২ বলে ২৮ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ডেভিড।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
RCB Punjab Kings Virat Kohli Shreyas Iyer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy