জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস শেষে মাঠ ছাড়ার সময় বাংলা শিবির মহম্মদ শামিকে সম্মান জানালেও তাঁর সাফল্যের দাম দিতে পারল না। অভিমন্যু ঈশ্বরণেরা প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবিধা হারালেন। শুধু তাই নয়। দ্বিতীয় ইনিংসে জঘন্য ব্যাটিং করে তৃতীয় দিনের শেষেই রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনাল হারের অপেক্ষায় লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল! প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল ৯৯ রানে। জয়ের জন্য ১২৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জম্মু-কাশ্মীরের রান ২ উইকেটে ৪৩।
সোমবার খেলার শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৯৮। ১৩০ রান হাতে নিয়ে মঙ্গলবার খেলতে নেমেছিলেন ঈশ্বরণেরা। বাংলার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণ করে দেন শামি। জম্মু-কাশ্মীরের বাকি ৫ উইকেট একাই তুলে নেন ভারতীয় দলে ব্রাত্য জোরে বোলার। রঞ্জি ট্রফিতে জীবনের সেরা বোলিং করলেন তিনি। এ দিন কল্যাণীর ২২ গজে শামির বল খেলতে সমস্যায় পড়েন জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটারেরা। আগের দিনের অপরাজিত কানহাইয়া ওয়াধাবন ২৯ রানে আউট হন। অপরাজিত থাকা আর এক ব্যাটার আবিদ মুস্তাক করেন ২৭। ব্যর্থ বংশরাজ শর্মা (৩)। নবম উইকেটের জুটিতে আকিব নবি এবং যুধবীর সিংহ কিছুটা লড়াই করেন। জম্মু-কাশ্মীরকে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের ৬৪ রানের জুটি ভেঙে বাংলাকে স্বস্তি দেন শামিই। আকিব করেন ৪২। যুধবীর করেন ৩৩। শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে ৮ উইকেট নেন শামি।
দলকে শামি ২৬ রানে এগিয়ে রাখলেও লাভ হল না। বাংলার ব্যাটারেরা তাঁর চেষ্টার মান রাখতে পারলেন না। ইনিংসের শুরু থেকেই পর পর উইকেট হারালেন ঈশ্বরণেরা। প্রথম সারির কোনও ব্যাটারই চেনা পিচে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলেন না। ঈশ্বরণ (৫), সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (০), সুদীপ ঘরামি (০), অনুষ্টুপ মজুমদার (১২), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১৪), সুমন্ত গুপ্ত (৮), হাবিব গান্ধীরা (১০) মাঠে নেমেছেন এবং সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন। এমন বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা চেষ্টা করেন শাহবাজ় আহমেদ। ২৪ রান এসেছে অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে।
আরও পড়ুন:
বাংলাকে ৯৯ রানে অলআউট করে মঙ্গলবারই ব্যাট করতে নেমে গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। দিনের শেষে তারা জয় থেকে ৮৩ রান দূরে। হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। শুভম পুন্ডির ২৩ এবং বংশরাজ শর্মা ৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আউট হয়েছেন দুই ওপেনার শুভম খাজুরিয়া (১) এবং ইয়ায়ির হাসান (৬)। ২টি উইকেটই নিয়েছেন আকাশ দীপ।
রঞ্জি ট্রফির অন্য সেমিফাইনালে কর্নাটক প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৭৩৬ রান। জবাবে তৃতীয় দিনের খেলার শেষে উত্তরাখণ্ডের রান ৫ উইকেটে ১৪৯। দেবদত্ত পাড়িক্কল, লোকেশ রাহুলদের ফাইনালে ওঠা এক রকম নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে।